হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে শাশুড়িকে শ্বাসরোধে হত্যার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই মামলার প্রধান আসামি ও নিহতের পুত্রবধূ তামান্না আক্তারকে (২২ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব–৯ ও পুলিশ। আজ মঙ্গলবার ভোরে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যসমত এলাকায় একটি যৌথঅভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে গতকাল সোমবার সকালে নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যসমত এলাকার একটি বসতঘর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরীর নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘরের মেঝেতে দুই হাত-পা কাপড়ে বাঁধা ও মুখ স্কচটেপে আটকানো অবস্থার দৃশ্যটি দেখে এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
র্যাব–৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
র্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, দুবাই প্রবাসী ছেলে রফিকুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী তামান্না আক্তারের সঙ্গে শাশুড়ি ফেরদৌসীর দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণালংকার হেফাজত নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিয়ের সময় তামান্নার জন্য দেওয়া ৫ ভরি স্বর্ণ শাশুড়ির কাছে থাকায় তাদের মধ্যে প্রায়ই মনোমালিন্য দেখা দিত। এই পারিবারিক অশান্তির মধ্যেই তামান্নার টিকটক আইডির মাধ্যমে পরিচয় হয় শিপন মিয়া নামের এক যুবকের সঙ্গে। অল্পদিনেই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠে এবং পরকীয়া প্রেম সম্পর্ক শুরু হয়। শিপনের প্রভাব ও স্বর্ণালংকার কারণে তামান্না শাশুড়িকে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শিপনসহ আরও কয়েকজনকে যুক্ত করেন।
র্যাব কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, গত রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিপনসহ কয়েকজন তামান্নার ইশারায় ঘরের পেছন দিক দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। তামান্না নিজেই ঘরের দরজা খুলে দেয়। ঘরে থাকা অবস্থায় তারা ঘুমন্ত ফেরদৌসীর মুখ চেপে ধরে। তিনি ধস্তাধস্তির চেষ্টা করলে তার হাত-পা কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দেয়। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট করে দ্রুত পালিয়ে যান তারা।
পরদিন ভোরে নিহতের ভাই বাড়িতে এসে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বোনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে নবীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর র্যাব–৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোরে র্যাব–৯ সিপিসি–৩ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প ও পুলিশের যৌথঅভিযান পরিচালনা করে প্রধান আসামি তামান্নাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার তামান্নাকে নবীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব–৯ ও পুলিশের অভিযান এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।



