টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে খোয়াই নদী। বৃহস্পতিবার রাতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের একটি অংশ ভেঙে লোকালয়ে বন্যার পানি ঢুকে পড়ে। এতে অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
পানির প্রবল স্রোতে নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। হঠাৎ করে ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই বন্যার পানি আশপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক পরিবারের ঘরে কোমরসমান পানি ওঠে। পরিস্থিতির অবনতি হলে নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা গবাদিপশু, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে শুরু করেন। কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার অনেকে স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান নিয়েছেন।
বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম এবং হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আবু জাহেরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
পরে স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে মাইকিং করে প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
এদিকে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠে গেছে। সড়কের বেশ কয়েকটি অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পানি আরও বৃদ্ধি পেলে সড়কটিতে সম্পূর্ণ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সঙ্গে মিরপুর ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বাঁধ মেরামত ও ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।



