ছোট পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র হবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। কম খরচে, দ্রুত ও নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত করে এমন প্রকল্প স্থাপনে আগ্রহী রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তি সংস্থা, রোসাটম। মস্কোতে বিশ্ব অ্যাটমিক সপ্তাহে এ কথা জানান, সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে চলছে বিশ্ব অ্যাটমিক সপ্তাহের আয়োজন। যেখানে পরমাণু শক্তির নানা ব্যবহার নিয়ে পরিকল্পনা তুলে ধরছেন বিজ্ঞানীরা।
এরইমধ্যে পাবনার রুপপুরে বড় ধরনের রিঅ্যাক্টর বসিয়েছে রোসাটম। তবে বড় প্রকল্পের অর্থায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা অনেক দেশের নেই।
তাই বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হবে ছোট পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র। ৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পরমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যবস্থাপনা অনেক দেশের পক্ষেই সম্ভব।
ওয়ার্ল্ড নিউক্লিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের মহাপরিচালক সামা বিলবাও ওয়াই লিওন বলেন, ‘পারমাণবিক শক্তি খাতকে এগিয়ে নিতে আমরা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র এবং সেসব দেশের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করছি। আমরা দেখতে চাই, বিশ্বের প্রত্যেক প্রান্তে পারমাণবিক জ্বালানির গুরুত্ব বাড়ছে। এ জন্য আমরা ৫০ মেগাওয়াটের মতো ছোট পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রে জোর দিয়েছি।’
এ ছাড়াও ভাসমান ছোট পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পেও গুরুত্ব দিচ্ছে রাশিয়া। দেশটিতে এ ধরনের দুটি প্রকল্প পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। বাংলাদেশের মতো নদীমাতৃক বা সমুদ্র তীরবর্তী দেশে এটি কার্যকর হবে বলে আশা তাঁদের।
সামা বিলবাও ওয়াই লিওন আরও বলেন, বর্তমানে বিশ্বের ৩১টি দেশ, ১৪টি ব্যাংক ও বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। ২০২৫ সালের মধ্যেই তাঁরা পারমাণবিক জ্বালানি সক্ষমতা অর্জন করতে চায়। উন্নত জীবন এবং সার্বক্ষণিক পরিষেবার জন্য এই ক্লিন এনার্জি নিয়ে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
জাহাজের জন্যও ছোট পরমাণু প্রকল্পের সফল পরীক্ষা করেছে রাশিয়া। কর্মকর্তারা জানান, জাহাজে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার সাশ্রয়ী ও নিরাপদ হবে।
রুশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির উৎস হবে ফিউশন পরমাণু শক্তি। যা পরিবেশবান্ধব ও ঝুঁকিমুক্ত।



