কোনো আলোচনা এবং অংশীজন বা বিশেষজ্ঞদের মতামত ছাড়াই সরকারি আমলাদের দিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মহাপরিকল্পনার খসড়া তৈরি করেছে সরকার। এই প্রক্রিয়াটি বিস্ময়কর বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। কোনো দেশ বা গোষ্ঠীকে খুশি করার চেষ্টায় এমন উদ্যোগ কি না, সে প্রশ্নও তুলেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বৃহস্পতিবার সিপিডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন গবেষকরা।
দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর স্থাপিত সক্ষমতা বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের খসড়া মহাপরিকল্পনায় ২০৫০ সালে তা প্রায় ১৩ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। সে সময় গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎ সক্ষমতা ৪৫ শতাংশ থেকে ২৯ শতাংশে নামানোর পরিকল্পনা রাখছে সরকার। এ ছাড়া রয়েছে আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের রোডম্যাপ। বিদ্যুৎ আমদানি ব্যাপকভাবে কমাতে জোর দেওয়া হলেও ২০৪০ সাল পর্যন্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার গুরুত্ব পায়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের খসড়া পরিকল্পনায় ২০৪০ সাল নাগাদ বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ধরা হয়েছে প্রায় ৪১ হাজার মেগাওয়াট। যদিও সিপিডি মনে করে, বাস্তবভিত্তিক চাহিদা হবে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত।
সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হেলেন মাশিয়াত প্রিয়তী বলেন, ‘সমন্বিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মহাপরিকল্পনা–২০২৩-এর চেয়ে এই নতুন খসড়াটি কোনোভাবেই ভালো হয়নি। এটি অনুসরণ করলে আমরা জ্বালানি রূপান্তরে বিপরীতমুখী পথে ধাবিত হব।’
গবেষকরা জানান, পরিকল্পনায় উন্নত সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন স্থাপনের বিষয়ে পর্যাপ্ত জোর দেওয়া হয়নি। স্থানীয় গ্যাস উত্তোলনে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্য রাখলেও, এলএনজি আমদানির অবকাঠামোতে রাখা হয়েছে ৩০ বিলিয়ন ডলার।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘এই খসড়া পরিকল্পনাটি আসলে ত্রুটিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক নয়। এটি মূলত একটি বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য করা হয়েছে, যেখানে তেল, কয়লা ও এলএনজির মতো জীবাশ্ম জ্বালানিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই পরিকল্পনা কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে।’
খসড়া মহাপরিকল্পনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চলমান সংকট সমাধানের কোনো কার্যকর প্রচেষ্টা নেই মন্তব্য করে বক্তারা বলেন, অধিক এলএনজি আমদানির প্রবণতা ভবিষ্যতে ভোক্তার ওপর বাড়তি দামের বোঝা চাপাবে।



