প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণের চাপে আর্থিক সংকটে পড়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ। দেশের ভোগ্যপণ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ সরবরাহকারী এ শিল্পগোষ্ঠীর উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নীতিগত সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ব্যাংকগুলো। একই সঙ্গে সংকট উত্তরণে প্রতিষ্ঠানটির কিছু সম্পদ ও শেয়ার বিক্রির সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হচ্ছে।
তেল, আটা, ময়দা, সুজি-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের অন্যতম সরবরাহকারী সিটি গ্রুপের আর্থিক সংকট বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে সংকট থেকে বের করে আনতে ব্যাংকগুলো সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশি-বিদেশি ৪৭টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে সিটি গ্রুপের মোট বকেয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণ রয়েছে এইচএসবিসি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাছে। এছাড়া সিটি ব্যাংক, ইউসিবিসহ কয়েকটি ব্যাংকেরও বড় অঙ্কের ঋণ আটকে আছে।
জানা গেছে, সিটি গ্রুপের সবচেয়ে বড় প্রকল্প হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চলে সময়মতো জ্বালানি সংযোগ না পাওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৩৬টি ব্যাংক যৌথভাবে সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘অনেক সময় বড় প্রতিষ্ঠান এমন সমস্যায় জর্জরিত হয়, সেটা সরাসরি সলভ করা যায় না। কিন্তু আমরা কিছু জটিলতা সমাধান করে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিটি গ্রুপকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত না করার সুযোগ দিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যস্থতায় ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সহজ শর্তে ঋণ পুনর্গঠনের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সিটি গ্রুপের আর্থিক পুনরুদ্ধার শুধু একটি শিল্পগোষ্ঠীর ভবিষ্যতের জন্যই নয়, দেশের ব্যাংক খাত এবং ভোগ্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



