হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল বাণিজ্যিকভাবে চালুর আগেই শুরু হচ্ছে ঋণের কিস্তি পরিশোধ। জাপানের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের বিপরীতে চলতি বছরের মধ্যেই প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক)। এই অঙ্ক টার্মিনালটির সম্ভাব্য এক বছরের আয়ের প্রায় সমান। তাই দ্রুত রাজস্ব আয় নিশ্চিত করতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে টার্মিনালটি বাণিজ্যিকভাবে চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার।
বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রীসেবা সক্ষমতা প্রায় ৮০ লাখ। থার্ড টার্মিনাল চালু হলে তা বেড়ে হবে ১ কোটি ৮০ লাখ। পাশাপাশি আধুনিক সুবিধা যুক্ত হওয়ায় কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে জাপানের কাছ থেকে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্বও একটি জাপানি কনসোর্টিয়ামের হাতে দেওয়ার কথা ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকার সেই চুক্তি থেকে সরে আসে। ফলে টার্মিনাল নির্মাণ শেষ হলেও এখনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়নি এবং রাজস্ব আয়ও শুরু হয়নি। এদিকে ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময় ঘনিয়ে এসেছে।
এ পরিস্থিতিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে পরিচালনা চুক্তি সই করা হবে। এরপর ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু করে রাজস্ব আয় নিশ্চিত করা না গেলে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্প রাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে।
চুক্তি কার্যকর হলে থার্ড টার্মিনালের বন্দর উন্নয়ন ফি, লাউঞ্জ, কার্গো হ্যান্ডলিং এবং কার পার্কিং থেকে রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব থাকবে জাপানি কনসোর্টিয়ামের হাতে। এসব খাত থেকে অর্জিত রাজস্বের ৭৩ শতাংশ পাবে কনসোর্টিয়াম এবং বাকি ২৭ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ।



