ঢাকা, গাজীপুরের পর পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জেও। মঙ্গলবার সেখানে দুটি পয়েন্টে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হন কয়েকজন। গাজীপুরে কয়েক জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে। নাওজোড়ে সংঘর্ষ হয়েছে পুলিশের সঙ্গে। এমন বাস্তবতায় শুধু মঙ্গলবার, মিরপুর-আশুলিয়া-গাজীপুরে ৩০৬টি কারখানা বন্ধ রাখা হয়।
৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে, কয়েকদিন ধরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলছে। মজুরি বোর্ড গঠনের পরও এ বিক্ষোভ থামেনি।
মঙ্গলবার আশুলিয়ায় কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের দাবি, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ।
এক পোশাক শ্রমিক বলেন, ‘আমরা যেন বেতন দুইটা টাকা বাড়াতে পারি তারজন্য পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করা উচিৎ। এখন পুলিশ যদি আমাদের ওপর আক্রমণ করে তাহলে তো এটা হইল না।’
পুলিশ বলছে, শ্রমিকদের ভেতরে ঢুকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে একটি চক্র। উস্কানি দিচ্ছে আন্দোলনে।
শিল্প–পুলিশের পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, ‘যারা সাধারণ শ্রমিক তারা কর্মমুখর। তারা কাজ করতে চায়। কিন্তু বহিরাগত কিছু লোক স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনে প্রতিদিন সকালে ইট–পাটকেল মেরে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করে। তারা শ্রমিকদের কারখানা থেকে নিয়ে আসার চেষ্টা করে।’
নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট ও জালকুড়ি এলাকায় সড়ক অবরোধ হয় বিকেলে। পুলিশ শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে, সংঘর্ষ বাধে। এসময় পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকরা। পাল্টা টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে আহত হন অন্তত ১২ জন।
শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে, গাজীপুরের নওজোড় এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যায়। এসময় টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ। এছাড়া চন্দ্রা ও মৌচাকেও বিক্ষিপ্ত আন্দোলন হয়েছে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা আমরা হতে দেইনি এবং দেব না। রাষ্ট্রীয় কোনো সম্পদ তারা ধ্বংস করবে– এটা হতে পারে না। আমরা প্রস্তুত আছি।’
বিক্ষোভের জেরে মঙ্গলবার মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরে ৩০৬টি কারখানা বন্ধ হয় বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ।


