মাধ্যমিক স্তরের নতুন বই ছাপানো নিয়ে শুরু হয়েছে জটিলতা। বিতর্কের পরও জুলাই গণহত্যার আসামিসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেক প্রতিষ্ঠানই কাজ পাচ্ছে। এসব অভিযোগে ৯ম ও ১০ম শ্রেণির বই ছাপানোর টাকা ছাড় করেনি অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে এনসিটিবি বলছে, তাদের কাজে স্বচ্ছতা আছে, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগামী বছরের জন্য প্রায় ৩১ কোটি নতুন বই ছাপাচ্ছে সরকার। প্রাথমিকের বই ছাপানোর কাজ শুরু হলেও মাধ্যমিকের ৬ষ্ঠ, ৭ম এবং ৮ম শ্রেণির বইয়ের দরপত্র বাতিল করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যা মামলার আসামিসহ অনিয়মে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রতিষ্ঠানের কাজ বাদ দিতে এ সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়।
তবে পুনঃদরপত্রে আবারও এসব প্রতিষ্ঠান কাজ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এ কারণে ৯ম ও ১০ম শ্রেণির বই ছাপানোর টাকা ছাড় করেনি অর্থ মন্ত্রণালয়। দরপত্রের শর্তও এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিশেষ সুবিধা পায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
মুদ্রণ মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, ‘এনসিটিবি বছরের শুরুতেই একটি সুন্দর পরিকল্পনা নিয়েছিল। ক্যালেন্ডার করেছিল, কোন কাজটা কিভাবে হবে। সে অনুযায়ী কাজ করতে পারছে না। এতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের বিষয় আছে, আরও আনুষঙ্গিক বিষয়ও আছে। এনসিটিবি তার ছক অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নিতে পারছে না, এ কথাটা সত্য।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যা মামলার আসামিদের কাজ পাওয়া দুঃখজনক মন্তব্য করে শিক্ষা গবেষকরা বলছেন, এনসিটিবিতে এখনও ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগী অনেক কর্মকর্তা আছেন। তারাই কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে, যাতে শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ে বই না পায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘সারাদেশের সব প্রতিষ্ঠানেই এখনও ফ্যাসিবাদের দোসররা রয়ে গেছে। এখন আমরা কাজ করতে গিয়ে প্রতিটি জায়গায় দেখছি, সেই আগের মানুষগুলোই ঘুরে ফিরে আসছে।’
এনসিটিবি অবশ্য বলছে, নিয়ম মেনেই সব কাজ হচ্ছে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক রবিউল কবির চৌধুরী বলেন, ‘আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আমাদের সব কাজ হয়ে থাকে। এখানে যত রকমের অংশগ্রহণ বা যাই হোক, সবক্ষেত্রেই পিপিআর ফলো করেই আমরা কাজগুলো করছি।’
শুধু এনসিটিবিই নয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গাফিলতির কারণেও বই ছাপানোর সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।



