মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) মহাপরিচালক নেই, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিপিবি) নেই চেয়ারম্যান। এক যুগেও পদোন্নতি পাননি শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। সব মিলিয়ে শিক্ষা প্রশাসনে বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। শিক্ষা গবেষকরা বলছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার কারণে শিক্ষা খাত স্বাভাবিক গতিতে ফিরছে না।
বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা চাকরিতে যোগ দেওয়ার এক যুগের বেশি সময় পার হলেও প্রভাষক থেকে এখন পর্যন্ত পদোন্নতি পাননি।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী স্বৈরশাসনের পতনের পরও পদোন্নতি পাচ্ছেন না বঞ্চিতরা। ৩২ ও ৩৩তম বিসিএসের কর্মকর্তারা এক যুগ পার করেছেন। আর ৩৪ থেকে ৩৭তম বিসিএস কর্মকর্তারা পার করেছেন ৭ থেকে ১০ বছর। তবুও পদোন্নতি মেলেনি কারোরই। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
শিক্ষা প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। সেখানে মহাপরিচালক নেই প্রায় এক মাস। আর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান পদেও স্থায়ী কেউ নেই। খালি আছে শুধু একটি সদস্য পদ।
এদিকে, ৭ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর করার প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে নানা জটিলতা। নানা দাবির কারণে একের পর এক আন্দোলন শিক্ষা কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘এই যে ৭ কলেজে কত শিক্ষার্থী আছে, তারা কিভাবে পরীক্ষা দেবে, কিভাবে মান নিশ্চিত হবে? আমাদের অবস্থা এমন হয়েছে যে, জোরে কথা বলতে পারছে তাকে আমরা ছেড়ে দিচ্ছি। ন্যায্য অধিকার আস্তে কথা বলছে, তার কোনো মূল্য নেই।’
শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খল অবস্থা কাটাতে মন্ত্রণালয় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে মনে করছেন শিক্ষা গবেষকরা।
শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, ‘মাউশিতে বা এনসিপিবিতে আমরা দেখি, একজন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কিংবা সদস্য নেই। অর্থাৎ যে অবহেলাটা আছে, মনে করা হচ্ছে না হলেও চলে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে দিয়েও চলে। গুরুত্ব না দেওয়ার মানসিকতার কারণে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।’
গবেষকরা সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে দেখাচ্ছেন, শিক্ষায় নানা সংকট সমাধানের জন্য একটি স্বতন্ত্র কমিশন না করা।



