এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ে উচ্চশিক্ষায় খালি থাকবে প্রায় ৭ লাখ আসন। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে পারবে না অনেক শিক্ষার্থী।
শিক্ষা গবেষকরা বলছেন, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজন দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা। এদিকে, ভর্তিতে ন্যূনতম যোগ্যতা শিথিলের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার প্রথম ধাপ এইচএসসি পরীক্ষা। তবে, এবারের পরীক্ষায় অংশ নেয়া প্রায় অর্ধেকই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অকৃতকার্য হয়েছে প্রায় ৬ লাখ। পাসের হার ৫২ দশমিক এক-দুই শতাংশ। কমেছে জিপিএ-ফাইভও।
তবে, উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে সামনে আসছে ভিন্ন চিত্র। দেশের সরকারি ও বেসরকারি ১৭৭ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন প্রায় ১৩ লাখ ৪০ হাজার। অর্থাৎ পাস করা ৬ লাখ শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও আসন ফাঁকা থাকবে ৭ লাখের কাছাকাছি । এই পরিস্থিতিতে, উচ্চশিক্ষায় দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
শিক্ষাবিদ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস মনজুর আহমদ বলেন, উচ্চশিক্ষার মানটা ধরে রাখা দরকার। একটা স্থিতাবস্থা দরকার। যা আছে, সেগুলো মানসম্মত করতে হবে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্নাতক সম্মান শ্রেণির প্রথমবর্ষের ভর্তিতে রয়েছে আলাদা পরীক্ষা পদ্ধতি ও যোগ্যতার শর্ত। এবারের এইচএসসির ফলাফলে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই সেই শর্ত পূরণ করতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে ন্যূনতম যোগ্যতা শিথিলের সম্ভাবনার কথা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং বলেন, এতটা মান যে বিপর্যয় হয়েছে, সেটা আমারও ধারণা ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে কিছুটা শর্ত পুনর্বিবেচনা হতে পারে।
দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শুধু আসন না বাড়িয়ে, গুণগত পরিবর্তনের পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষাকার্যক্রমের কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।


