প্রায় ৪ বছরের বিরতি ভেঙে ২০২৩ সালে বলিউডে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন করেন শাহরুখ খান। সে বছর তাঁর আয় বক্স অফিস কাঁপিয়ে দিয়েছিল। উপহার দিয়েছিলেন একের পর এক ব্লকবাস্টার। ‘পাঠান’ দিয়ে গড়েছিলেন নতুন রেকর্ড, তারপর ‘জওয়ান’র মাধ্যমে নিজেই নিজের সেই রেকর্ড ভেঙেছেন। বছরের শেষদিকে মুক্তি পায় ‘ডাঙ্কি’। কিন্তু বিদায়ী ২০২৪ সালে শাহরুখের কোনো ছবি মুক্তি পায়নি। শুরু হয়ে গেল নতুন বছর ২০২৫।
সদ্য বিদায়ী বছরে বাদশার ছবি মুক্তি না পাওয়ায় ঠিক কতটা ক্ষতি হলো বলিউডের? বক্স অফিসেই-বা কী প্রভাব পড়ল?
২০২৩ সালে সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত ‘পাঠান’ দিয়ে ফিরেছিলেন কিং খান। বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে ১,০০০ কোটি টাকা আয় করে ছিল এই ছবি। এরপর ‘পাঠান’ মোট ১ হাজার ৫৫ কোটি টাকা আয় করেছিল।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রাস্ট রিসার্চ এডভাইসরি’র (ট্রা) সিইও এন. চন্দ্রমৌলি জানান, শাহরুখের নতুন ব্র্যান্ড অনুমোদন একটা উইন-উইন সিচ্যুয়েশন ছিল। ‘থাম্বস আপ’র বিজ্ঞাপনেও ‘তুফান’ আবার ‘পাঠান’র সঙ্গেও এই ‘তুফান’ বিষয়টি সম্পৃক্ত। ফলে যাঁরা ‘থাম্বস আপ’ পছন্দ করেন, তাঁরা শাহরুখের নতুন ছবি সম্পর্কে অবগত হন। আর বাদশার ফ্যানেরা ‘থাম্বস আপ’ সম্পর্কে। এটা ছিল ‘পাঠান’র প্রচারের মাস্টারস্টোক। কারণ প্রতিবার বিজ্ঞাপনের সঙ্গে সঙ্গেই প্রমোশন হয়েছে। আর এটা ছবি আসার অনেক আগে ২০২২ থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল প্রচার-প্রচারণা। তবে এটা ছাড়াও অন্যান্য ভাবেও ছবির প্রচার করা হয়েছিল।
চন্দ্রমৌলির মতে, কোমল পানীয়র ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনটি কেবল শুরু ছিল। এসআরকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে, বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপন জুড়ে ‘পাঠান’র প্রচার চালিয়েছেন। বারবার নানা বিজ্ঞাপনে বাদশাকে ‘পাঠান’র লুকে দেখে স্বাভাবিকভাবেই দর্শকদের উৎসাহ আরও বেড়ে গিয়েছিল। এ ছাড়া ছবির গানও ভীষণভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। স্যোশাল মিডিয়ায় কুকিং থেকে ব্লগিং সব রিলেই ‘বেশরম রঙ’ আর ‘ঝুমে জো পাঠান’ তখন ট্রেন্ডিং। আর সবটা মিলিয়ে ‘পাঠান’ মুক্তির আগেই সফল হয়ে গিয়েছিল, যা এসআরকে’র পরবর্তী ছবি ‘জওয়ান’র ভিত গড়ে দিয়েছিল।
এই ফলস্বরূপ ‘পাঠান’ মুক্তির কয়েক মাসের মধ্যে সুপারস্টার তাঁর দ্বিতীয় ব্লকবাস্টার দিয়েছিলেন। এসআরকে জানতেন যে ‘পাঠান’র ব্যবসাকে ছাড়িয়ে যেতে হবে। তাই বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু বহুতল বুর্জ খলিফা এবং বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম শহর টাইমস স্কয়ারে ছবির ট্রেলার প্রচার করা হয়। এরপর একজন ভারতীয় কীভাবে তাঁর ছবি থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারেন?

তবে কেবল যে বিশ্বব্যাপী প্রচার চালিয়েছেন তা নয়, স্থানীয় মানুষের সঙ্গেও সংযোগ স্থাপন করতে ভোলেননি। ‘জওয়ান’ শুধু হিন্দি ছবির দর্শকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, পরিচালক ও নায়িকা ছিল দক্ষিণের, তাই সেদিক থেকেও ছবিটি দক্ষিণ ভারতে প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছিল। এসআরকে, অ্যাটলি, নয়নতারা—এই কম্বিনেশন কখনোই ব্যর্থ হওয়ার মতো ছিল না।
এ ছাড়াও জওয়ান থিমের দইয়ের হাঁড়ি এবং অন্যান্য ব্র্যান্ডের সঙ্গে কোলাবরেশন এই ছবির প্রোমশনকে অন্য মাত্রা দিয়েছিল। সব মিলিয়ে, বিশ্বব্যাপী ১ হাজার ১৪৮ কোটি রুপি আয় করেছিল শাহরুখের এই। ছবির প্রথম দিনের সংগ্রহ ছিল ১২৯.০৬ কোটি রুপি। এটাই ছিল ২০২৩ সালের সর্বোচ্চ আয়কারী ভারতীয় ছবি।
‘পাঠান’ ও ‘জওয়ান’র সাফল্যের পিছনে কাজ করেছিল আরও বেশ কিছু বিষয়। প্রথমত প্রায় ৪ বছর পর শাহরুখকে পর্দায় দেখেছিলেন দর্শকরা। মাঝে কিছু ছবিতে ক্যামিও করলেও তাঁর নিজের পুরো ছবির ব্যাপারই আলাদা। এ ছাড়া একজন বাবার প্রতিও সহানুভূতি কাজ করেছিল দর্শকের। সেটা হলো তিনি তাঁর নিজের ছেলকে বাঁচাতে লড়াই করছিল।

নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি) একটি ক্রুজ জাহাজের পার্টি থেকে আরিয়ান খানকে গ্রেপ্তার করেছিল। প্রায় এক মাস বিচার বিভাগীয় হেফাজতে কাটানোর পর শাহরুখের জীবনে বড় রিলিজ হয়, জামিন পান আরিয়ান। এরপরই ‘জওয়ান’-এ শাহরুখকে বলতে শোনা যায়, ‘বেটে কো হাত লাগানে সে পেহেলে, বাপ সে বাত কর (ছেলেকে হাত দেওয়ার আগে, বাবার সঙ্গে কথা বলুন)’।
কিন্তু ২০২৪ সালে বলিউড বাদশার কোনো ছবি মুক্তি পায়নি। এতে অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন যে, বলিউডে বিরাট ক্ষতি হবে। কিন্তু বক্স অফিসে সেরকম ক্ষতির চিত্র দেখা যায়নি। এর কারণ ২০২৪-এ পাঁচটি সর্বোচ্চ আয়কারী ভারতীয় ছবি শাহরুখের ছবির আয়কে টক্কর দিয়েছিল। এর মধ্যে চারটি ছিল দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির, যেগুলো বক্স অফিসে শাহরুখের ছবি মুক্তি না পাওয়ার প্রভাব সেভাবে পড়তে দেয়নি। এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ‘পুষ্পা ২: দ্য রুল’, ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’, ‘দেবারা: পার্ট ১’ ও ‘স্ত্রী ২’।
সূত্র: এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস


হুরুনের তালিকায় বলিউডের শীর্ষ ধনী শাহরুখ খান
শুরু হচ্ছে শাহরুখের নতুন ছবির শুটিং
