‘নভেম্বর রেইন’ যেভাবে এল

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২৩, ১১:০৪ পিএম

খ্যাতিমান সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘মনোরোম মনোটোনাস শহর’ ঢাকায় বহুদিন পর বৃষ্টি এল। এমন দিনে যে কারও মনে পড়ে যাবে ‘নভেম্বর রেইন’-এর কথা। বিশেষ করে যাঁরা নব্বইয়ের প্রজন্ম, তাঁদেরকে রীতিমতো নস্টালজিক করে তোলে এই শব্দ যুগল।

পৃথিবীর রকসংগীত সম্পর্কে যাঁরা টুকটাক ধারণা রাখেন, তাঁদের কাছে ‘নভেম্বর রেইন’কে নতুন করে পরিচয় করে দেওয়ার কিছু নেই। যাঁরা জানেন না, তাঁদের বরং বলা যেতে পারে, এই গান মানে এক ইতিহাস, যে ইতিহাস ইতোমধ্যেই আধুনিক সংগীতের পাতায় সোনার অক্ষরে লেখা হয়ে গেছে। এ এমন এক গান, যা লক্ষকোটি গানের ভেতর থেকে জীবনানন্দের কবিতার মতো ‘নিজেরই মুদ্রাদোষে আমি একা হতেছি আলাদা’ বলে স্বতন্ত্র হয়ে যায়।

সংগীতপিয়াসীরা বলেন, ‘নভেম্বর রেইন’ আলাদা হয়েছে এর লিরিকের কারণে, সুরের কারণে, যন্ত্রানুসঙ্গের কারণে এবং অতি অবশ্যই এই মিউজিক ভিডিওর কারণে। এ তো শুধু গান নয়, এ যেন এক মহাকাব্যিক গল্প। যেখানে ধরা আছে নব্বইয়ের লাজুক প্রেম, এক যুবা প্রেমিকের চোখের সামনে তাঁর প্রেমিকার বদলে যাওয়া, ধীরে ধীরে চেনা মানুষটা অচেনা হয়ে যাওয়ার চিনচিনে ব্যথা ও ঝাপসা চোখের আড়ালে ধীরে প্রেম মুছে যাওয়ার বেদনা।

নভেম্বর মাসে বৃষ্টি এলেই ‘নভেম্বর রেইন’ শব্দটি নস্টালজিক করে তোলে অনেককেই। ছবি: সংগৃহীত

তবু বিরহী প্রেমিক বুকে আশা রাখেন, একদিন তাঁর প্রেমিকা আবারও আগের মতো চেনারূপে ফিরে আসবে, চেনা সুরে গেয়ে উঠবে পুরোনো প্রেমের গান। এই আশাবাদ নিয়েই সে গাইছে—‘নেভার মাইন্ড দ্য ডার্কনেস/ উই স্টিল ক্যান ফাইন্ড আ ওয়ে/ কজ নাথিং লাস্টস ফরেভার/ ইভেন কোল্ড নভেম্বর রেইন।’ বাংলা অনুবাদে এই লাইনগুলো দাঁড়ায় এমন—‘ঘোর তমসায় ভয় নেই, নেই ভয়/ পাবই পাব পথ খুঁজে নিশ্চয়/ কেননা কিছুই নয় অক্ষয় সৃষ্টি/ এমনকি নয় নভেম্বরের বৃষ্টি।’

অর্থাৎ গানে বলা হচ্ছে, কোনো কিছুই অমর–অক্ষয় বা চিরস্থায়ী নয়, এমনকি নভেম্বর রেইনের মতো জটিল সময়ও একসময় শেষ হয়। প্রেমিক সেই দিনের অপেক্ষায় আছে।

এমন এক প্রেমাকূল গান সবার মন না ছুঁয়ে কি পারে? ছুঁয়েছেও। ২০১৮ সালেই ইউটিউবে গানটি এক বিলিয়ন ভিউয়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ইউটিউবে কোনো গানের এটিই সর্বোচ্চ ভিউ। এই ২০২৩ সালে তা বাড়তে বাড়তে কোথায় গিয়ে ঠেকেছে কে জানে! অথচ এই গানই অ্যালবামে রাখতে চাননি ‘গানস অ্যান্ড রোজেস’ ব্যান্ডের অ্যাক্সেল রোজ, স্ল্যাশ ও অন্য সদস্যরা।

সেটি ১৯৯১ সালের কথা। ব্যান্ডটি প্রকাশ করতে যাচ্ছে তাঁদের ‘ইউজ ইউর ইলিউশন ওয়ান’ নামের অ্যালবামটি। সেই মোতাবেক তৈরি করা হলো ১০টি গান। কিন্তু সেখানে জায়গা পেল না ‘নভেম্বর রেইন’। যুক্তি দেখানো হলো, এত ম্যাড়মেড়ে গান, এত কান্নার প্রেম এই অ্যালবামে রাখার কোনো মানে হয় না। শেষে অ্যালবাম মার খাবে।

ব্যান্ড সদস্য স্ল্যাশের এমন সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই মন খারাপ হয়েছিল ব্যান্ডটির প্রধান গায়ক অ্যাক্সেল রোজের। কারণ ১৯৮৩ সালে গানটি যে তিনিই লিখেছিলেন। গানটির সঙ্গে রয়েছে তাঁর অনেক স্মৃতি। প্রায় ১০ বছর নানা নিরীক্ষা করে সুর বসিয়েছেন গানটিতে। বহু বিনিদ্র রজনী নির্ঘুম কাটিয়েছেন গানটির মিউজিক কম্পোজ করতে। আর সেই গানই কিনা রাখা হচ্ছে না অ্যালবামে!

মন খারাপ থেকে অভিমান, অভিমান থেকে জিদ চেপে গেল অ্যাক্সেলের। তিনি বললেন, গানটা রাখতেই হবে অ্যালবামে। নয়তো তিনি কোনো গানই গাইবেন না। শেষে অনেকটা বিরক্তি নিয়েই রাজি হলেন ব্যান্ডের অন্যান্য সদস্যরা—‘‘আচ্ছা, ঠিক আছে। অ্যালবামের দশ নম্বর গান হিসেবে ‘নভেম্বর রেইন’ রাখা যায়। কিন্তু এত লম্বা গান না রেখে একটু ছোট করা দরকার।’’

গানস অ্যান্ড রোজেস ব্যান্ডের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

‘নভেম্বর রেইন’ ছিল ২৫ মিনিটের লম্বা এক গান। সেটা কেটেকুটে ৮ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডে নামিয়ে আনেন রোজ। তারপর তো ইতিহাস! তাঁর দরদী কণ্ঠ, স্ল্যাশের যাদুকরি গিটার প্লেয়িং, ডিজির সুনিপুণ কি–বোর্ডের ছন্দ আর সোরামের উন্মাতাল ড্রামের ছন্দ মিলে প্রকাশের পরপরই সারা দুনিয়ায় হইচই ফেলে দিল ‘নভেম্বর রেইন’। যে গান অ্যালবামে রাখতেই চাননি কেউ, সেই গানই কিনা মন ছুঁয়ে গেল লাখ লাখ মানুষের!

‘ইউজ ইউর ইলিউশন ওয়ান’ অ্যালবামটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৯১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিলবোর্ড চার্টে ৩ নম্বরে, যুক্তরাজ্যের হিট গানের তালিকায় ৪ নম্বরে ও অস্ট্রেলিয়ায় টানা ২২ সপ্তাহ টপ টেন তালিকায় ছিল এই গান। ওই বছরই ‘নভেম্বর রেইন’ জিতে নেয় এমটিভি পুরস্কার।

এরপর গানটির মিউজিক ভিডিও যেভাবে তৈরি করা হয়েছিল, সেটিও যেন এক ইতিহাস। এর মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন মাইকেল জ্যাকসনের মিউজিক ভিডিও তৈরি করা খ্যাতিমান পরিচালক অ্যান্ডি মোরাহান। মিউজিক ভিডিওটি তৈরি করতে মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিলেন তিনি। আর মিউজিক ভিডিওর গল্পটা নিয়েছিলেন মার্কিন লেখক ডেল জেমসের ছোটগল্প ‘উইদাউট ইউ’ থেকে। অভিনয় করেছিলেন গানস অ্যান্ড রোজেসের শিল্পীরাই, ছিলেন রোজের প্রেমিকা স্টেফানি সেমুরও।

মিউজিক ভিডিওটির দৃশ্যগুলো আজও মুগ্ধ করে সংগীতপিপাসুদের। গির্জার বাইরে বিশাল খোলা প্রান্তরে পা ছড়িয়ে গিটারে ঝড় তুলছেন স্ল্যাশ, পিয়ানোতে কান্নার করুণ সুর তুলে গাইছেন রোজ। ক্রেন শটে ধারণ করা এই দৃশ্য আজও কোটি কোটি মানুষকে মুগ্ধ করে।

সূত্র: সং ফ্যাক্টস, আই লাভ ক্ল্যাসিক রক, ইউ ডিসকোভার মিউজিক ও এমটিভি

তাঁর বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র ‘মিশন: ইম্পসিবল’র ইথান হান্ট চরিত্রটির মতোই এবার তাঁকে স্থানাঙ্ক হিসেবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল! নির্দিষ্ট একটি উদ্দেশ্যও ছিল—বিশ্বকাপ...
সংগীতাঙ্গনের জনপ্রিয় সুরকার, সংগীত পরিচালক ও শিল্পী ইবরার টিপুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি নানা আলোচনা শুরু হয়। ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাকে দেখে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ...
ভক্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! ফের ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম। স্থগিতাদেশ কাটিয়ে আগামী ২৪ জুলাই রাজধানীতে অনুষ্ঠিত একটি কনসার্টে অংশ নেবেন তিনি। সামাজিকমাধ্যমে বিষয়টি এ...
বাংলা গানের কিংবদন্তি শিল্পী এন্ড্রু কিশোর। চলচ্চিত্রে গাওয়ার জন্য তিনি ‌‘প্লেব্যাক সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর কণ্ঠে অসংখ্য কালজয়ী গান কয়েক দশক ধরে শ্রোতাদের মুখে মুখে ফিরছে। ২০২০ সালের ৬...
সাতক্ষীরা-৪ আসনে সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলাম। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর একটি গোপন ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এবার সেই ঘটনায় মুখ খুললেন...
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও হতে পারে বৃষ্টি। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, সুরমা, কুশিয়ারা,...
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ফেব্রুয়ারিতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যে ধীরগতি তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব পড়েছে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধিতে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস)...
টানা চার অর্থবছরেও দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি সরকার। অর্থনীতিবিদদের মতে, পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ও বাজার ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের দুর্বলতা থাকায় শুধু নীতি সুদহার বৃদ্ধি বা কর কাঠামোর...
লোডিং...

এলাকার খবর