দেশের বন্যপ্রাণী রক্ষায় কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। এখন থেকে বাঘ ও হাতি হত্যার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বনিম্ন ২ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ২৪৭ প্রজাতির বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধকে ‘জামিন অযোগ্য’ ঘোষণা করা হয়েছে।
বিগত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন-২০১২ রহিত করে নতুন এই ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা অধ্যাদেশ’ জারি করা হয়। নতুন আইনে বনবিড়াল ও পাখিসহ প্রায় দেড় হাজার প্রজাতির বন্যপ্রাণীর প্রতি সংঘটিত অপরাধে শাস্তির পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে।
বর্তমানে সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা মাত্র ১২৫টি। অন্যদিকে পাহাড়ি হাতিও আশঙ্কাজনক হারে কমছে। খাদ্য সংকট ও চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম্যে জাতীয় এই প্রাণীগুলো এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে। এছাড়া ধান কাটার মৌসুমে মেছো বিড়ালকে বাঘ মনে করে হত্যার ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে বন্যপ্রাণী রক্ষায় এই কঠোর অবস্থান নিল সরকার।
বন্যপ্রাণী গবেষক আশিকুর রহমান জানান, “নতুন অধ্যাদেশে ২৪৭টি বন্যপ্রাণী হত্যা, পাচার ও শিকারের মতো কর্মকাণ্ডকে জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এর ফলে দেশের সাড়ে ১৫শ প্রজাতির বন্যপ্রাণী সুরক্ষার আওতায় আসবে।”
অধ্যাদেশে ১৩৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৭৪১ প্রজাতির পাখি, ১৬০ প্রজাতির সরীসৃপ, ৬০ প্রজাতির উভচর এবং হাঙর ও শাপলা পাতা মাছ রক্ষায় সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বন্যপ্রাণী রক্ষায় একটি স্বতন্ত্র ‘বন্যপ্রাণী উইং’ গড়ে তোলার পাশাপাশি ‘ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট ফান্ড’ নামে একটি বিশেষ তহবিলও গঠন করা হবে।
গবেষকরা মনে করেন, শুধু আইন দিয়ে নয়, বন্যপ্রাণী রক্ষায় জনসচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরি।
বন্যপ্রাণী গবেষক ড. আলী রেজা খান বলেন, “স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও মসজিদের কমিটির সঙ্গে উঠান বৈঠক করে আইনের গুরুত্ব বোঝাতে হবে। মানুষ যখন আইনের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করবে, তখন তারা নিজেরাই অপরাধ থেকে বিরত থাকবে।”
নতুন অধ্যাদেশ জারির মধ্য দিয়ে আগের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ২০১২ রহিত করা হয়েছে।



