গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস: খাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব সতর্কতা মেনে চলা জরুরি

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১০:১০ এএম

গর্ভবতী মায়ের আগে ডায়াবেটিস ছিল না, কিন্তু গর্ভকালীন রক্তে সুগারের পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেড়ে যাওয়াকে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বলা হয়। সাধারণত এটি সন্তান প্রসবের পরে ঠিক হয়ে যায়। গর্ভাবস্থার যে কোনো ধাপে এই গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হতে পারে, তবে ২য় বা ত্রৈমাসিকের (৪র্থ থেকে ৯ম মাসের) সময় এটি বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গর্ভকালীন বাড়তি চাহিদা অনুযায়ী শরীর যখন ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না, তখন এই সমস্যাটি দেখা দেয়। আর ইনসুলিন হলো এমন একটি হরমোন, যা রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস গর্ভাবস্থায় ও প্রসবের পরে মা ও সন্তানের জন্য বিভিন্ন রকম শারীরিক জটিলতার কারণ হতে পারে। তবে যদি এটি প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থার পাশাপাশি সঠিক পুষ্টি বা ডায়েট নিশ্চিত করা যায় তবে স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস রোগীর সকাল, দুপুর, রাতে খালিপেটে খাবারের আগে ৫ দশমিক ৩ মিলিমোল/ লিটার এবং খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে ৬ দশমিক ৭ মিলিমোল/ লিটার থাকে।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস রোগীর রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে খাবারের বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। যেমন– কার্বোহাইড্রেট সরাসরি রক্তে শর্করার মাত্রাকে প্রভাবিত করে, তাই শর্করার পরিমাণ নির্দিষ্ট করতে হবে। তাছাড়া চিনিযুক্ত স্ন্যাকস এবং সাদা রুটিতে থাকে সাধারণ কার্বোহাইড্রেটের তুলনায় গোটা শস্য, শাকসবজি ও টক বা কম মিষ্টি। এ ক্ষেত্রে জটিল কার্বোহাইড্রেট ভালো।

জটিল কার্বোহাইড্রেটগুলি আরও ধীরে ধীরে হজম হয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা আরও স্থিতিশীল হয়। উদাহরণস্বরূপ ব্রাউন রাইস, পুরো গমের রুটি, কুইনোয়া, ওটস, পাতাযুক্ত শাক, ব্রকলি, ফুলকপি, খোসাসহ বিভিন্ন প্রকার ডাল খাওয়া যেতে পারে।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে অবশ্যই একটি সুষম খাবার পরিকল্পনা বা ডায়েট তৈরি করতে হবে। একটি ভারসাম্যপূর্ণ খাবার পরিকল্পনা নিশ্চিত করে যে, আপনি রক্তে শর্করার বৃদ্ধি ছাড়াই সমস্ত প্রয়োজনীয় পুষ্টি পান। আপনার খাবারে সমস্ত খাদ্য গ্রুপ থেকে বিভিন্ন ধরনের খাবার অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য রাখুন। পাশাপাশি সঠিক পরিমাণে প্রোটিন ও বিশেষ কিছু ভিটামিন মিনারেলসের গ্রহণের ব্যাপারে বিশেষ নজর দিন। কারণ গর্ভাবস্থায় শিশুর বৃদ্ধির জন্য বাড়তি পরিমাণে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফলিক অ্যাসিড ইত্যাদি প্রয়োজন।

গর্ভকালীন অনেক রোগীরই মর্নিং সিকনেস বা সকালে বমি ভাব থাকায় সকালের খাবার বাদ দিতে চান। কিন্তু গর্ভাবস্থায় বিশেষ করে যাদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিক আছে, তারা কোনোভাবেই প্রাতরাশ এড়িয়ে যাবেন না। একটি স্বাস্থ্যকর ব্রেকফাস্ট খাওয়া সারা দিন রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল করতে সাহায্য করতে পারে। আপনার প্রাতঃরাশের মধ্যে প্রোটিন এবং ফাইবার অন্তর্ভুক্ত করুন যাতে আপনি পূর্ণ এবং শক্তি পান।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিতে হবে। সঠিকভাবে করা হলে স্ন্যাকস রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখার একটি চমৎকার উপায় হতে পারে। প্রোটিন এবং ফাইবার বেশি কিন্তু চিনি এবং পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট কম এমন স্ন্যাকস বেছে নিন। যেমন বাদাম, আখরোট বা সূর্যমুখী বীজ, ভেজিটেবল সুপ বা ভেজিটেবল স্টিকস, এক মুঠো বাদামসহ একটি আপেল বা একটি নাশপাতি ইত্যাদি।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে হাইড্রেটেড থাকা খুব জরুরি। প্রচুর পানি পান করা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। দিনে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন। এ ক্ষেত্রে চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন এবং পানি, ভেষজ চা বা লেবু কিংবা শসার টুকরো দিয়ে মিশ্রিত পানি পান করুন। তবে মনে রাখতে হবে, যে কোনো ফলের জুসের তুলনায় গোটা ফলে ফাইবার থাকায় তা বেশি স্বাস্থ্যসম্মত।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে কিছু ডায়েট নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে। যেমন-

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস রোগীর রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে খাবারের বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। ফাইল ছবি১. একবারে অনেক খাবার না খেয়ে অল্প পরিমাণে খাবার বার বার খেতে হবে। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে।

২. চিনিযুক্ত খাবার এবং পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে। এগুলি রক্তে শর্করার বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

৩. অবশ্যই ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

৪. খাবার থেকে উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার সীমিত করতে হবে, বিশেষ করে যে সকল খাবারে স্যাচুরেটেড এবং ট্রান্স ফ্যাট বেশি থাকে।

৫. একজন খাদ্য বিশেষজ্ঞ, ডায়েটিশিয়ান অথবা পুষ্টিবিদ এর সাথে পরামর্শ করে একটি ব্যক্তিগত খাবার পরিকল্পনা তৈরি করে নেওয়া ভালো। এতে রোগীর রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদাও সঠিকভাবে পূরণ হয়।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে কিছু খাদ্য এড়িয়ে চলতে হবে। যেমন: কিছু খাবার রক্তে শর্করার মাত্রায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটাতে পারে। চিনিযুক্ত স্ন্যাকস এবং ডেজার্ট, কেক, বিস্কুট, কুকিজ এবং ক্যান্ডি, পরিশোধিত শর্করা, যেমন: সাদা রুটি, সাদা ভাত, নুডুলস, পাস্তা, চিনিযুক্ত পানীয়, সোডা, ফলের রস এবং মিষ্টি চা। এছাড়া উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার, ভাজা খাবার, ফাস্ট ফুড এবং উচ্চ চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত পণ্যজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

মা ও শিশু উভয়ের স্বাস্থ্যের জন্য খাদ্যের মাধ্যমে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ার্ল্ড ডায়াবেটিস ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৮ থেকে ১৩ শতাংশ নারী গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

সাধারণত সন্তান জন্মদানের পর গর্ভকালীন ডায়াবেটিস সেরে যায়। তবে যাদের এটি একবার হয় তাদের ভবিষ্যৎ গর্ভধারণের ক্ষেত্রে আবারও গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে মায়ের টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। তবে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা কমানোর জন্য অবশ্যই নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করতে হবে, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে হবে, সুষম খাবার খেতে হবে এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে।

লেখক: নিউট্রিশন অফিসার, ন্যাশনাল হেলথকেয়ার নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট প্রাণ গেছে ১১১ জনের। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৫২ জন। 
দেশে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যুতে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ জনে। 
হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ হাজার ১৫৯ জনের শরীরে। এছাড়া নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৭২ জন। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য...
আগস্টে আবারও ভয়াবহ রুপে ফিরেছে ডেঙ্গু। এক মাসেই ভেঙে গেছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় বছরের সব রেকর্ড। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ৩৫ হাজারের বেশি, যার মধ্যে শুধু আগস্টেই আক্রান্ত সাড়ে...
নিহত দেলোয়ার ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাতেন। আজ ভোরে কামারগোপ এলাকায় পূর্বপরিচিত রনির সঙ্গে মাদক সেবন নিয়ে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রনি ইট দিয়ে দেলোয়ারের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন।...
বর্তমান সরকার জনস্বার্থ বিষয়ক প্রকল্পের অর্থায়নে কিছু নির্দিষ্ট উৎসের উপর নির্ভর করতে চায় না। এক্ষেত্রে নতুন অর্থনৈতিক মডেলে ভিন্ন ভিন্ন উৎসের দিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নাগরিক সুবিধা বাড়াতে...
নেত্রকোণায় পাচারের সময় দুই হ্যান্ডট্রলি ভর্তি সরকারি চাল জব্দ করেছে পুলিশ। এসময় হ্যান্ডট্রলিটির দুই চালককে আটক করা হয়। শুক্রবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে মদন-তিয়শ্রী সড়কের রুদ্রশ্রী এলাকায় এই চাল জব্দ ও...
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি বলেছেন, ‘যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বেশি রয়েছে।’ শুক্রবার দুপুরে নেত্রকোণার কেন্দুয়া ক্লাবের মিলনায়তনে...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর