চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পিআইসিইউ শয্যা সংকটে উপসর্গ ও হাম আক্রান্ত জটিল রোগী নিয়ে বিপাকে স্বজনরা। হাসপাতালটির শিশু স্বাস্থ্য বিভাগে পর্যাপ্ত পিআইসিইউ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে আছেন তারা। অকালেই ঝরে যাচ্ছে অনেক শিশুর প্রাণ। চিকিৎসকরা বলছেন, শয্যা সংখ্যা কম হওয়ায়, সেবা দেয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একমাত্র সন্তানের এই মৃত্যু, কোনোভাবেই মানতে পারছেন না মা। তার বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের আঙিনা।
হামের উপসর্গ নিয়ে আড়াই বছর বয়সী মেয়ে উম্মে হাবিবাকে নিয়ে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন, বাঁশখালীর রাজমিস্ত্রি নাছির উদ্দিন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। জরুরিভিত্তিতে পিআইসিইউ’র প্রয়োজন হলেও, মেলেনি শয্যা। আইসিইউর অপেক্ষায় থেকেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো ফুটফুটে শিশুটি।
ভুক্তভোগী অভিভাবক নাছির উদ্দিন বলেন, ‘বেসরকারি হাসপাতালের খরচ চালানোর সামর্থ্য আমার নেই। যদি মেয়েটাকে একটু আগে আইসিইউতে নিতে পারতাম, তাহলে হয়তো বাঁচানো যেত।’
বর্তমানে চমেকে ১২১ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন। এদের মধ্যে জটিল অবস্থায় থাকা ১৫ জন ঠাঁই পেয়েছে পিআইসিইউতে। বাকিদের চিকিৎসা চলছে হাম কর্নার ও ৫০ শয্যার বিশেষ ব্লকে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০ শয্যার শিশু আইসিইউ’র ১৫টিই এখন বরাদ্দ রাখা হয়েছে হাম আক্রান্তদের জন্য।
চমেক হাসপাতাল শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. মুছা মিয়া বলেন, হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। আইসিইউর ২০টি বেডের মধ্যে ১৫টিই হাম আক্রান্ত রোগীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। রোগীর চাপ সামলাতে পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ডও চালু করা হয়েছে।’
আইসিইউ ওয়ার্ডটি বছরের প্রায় সব সময়ই রোগীতে পূর্ণ থাকে। তাই উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরিভিত্তিতে শয্যা সংখ্যা বাড়াতে জোর দিচ্ছে হাসপাতাল প্রশাসনও।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রি. জে. মো. তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি জরুরি ভিত্তিতে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো যায় কিনা’
চট্টগ্রামে হামে এ পর্যন্ত ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দ্রুত পিআইসিইউ শয্যা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিতের তাগিদ সংশ্লিষ্টদের।



