হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু। বর্ষার এ মৌসুমে শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও আক্রান্ত হচ্ছে তীব্র জ্বরে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, ডেঙ্গু ও হাম একই সাথে একাধিক অঙ্গকে আক্রমণ করে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ার পরামর্শ জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত ব্যক্তির উপসর্গ দেখে চিকিৎসা না নিলে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হতে পারে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের শিশু হাসপাতালে সন্তান নিয়ে আসা এক মায়ের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, কয়েকদিন ধরে তাঁর সন্তানের জ্বর। তাই হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন এই মা।
তবে এই অভিভাবকের মতো সবাই নন। অনেকে, দিন তিনেক জ্বর থাকলেই ফার্মেসি থেকে কেনা ওষুধে সেরে উঠতে চান। কেউ আবার অ্যান্টিবায়োটিকও শুরু করেন।
বর্ষার এ সময়টায় অনেকের জ্বর হচ্ছে। এটি একদিকে হামের উপসর্গ, পাশাপাশি ডেঙ্গুরও। দুই ক্ষেত্রেই শরীরে র্যাশও দেখা যায়। নিশ্চিত না হয়ে, অ্যান্টিবায়োটিক খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা।
হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা.কে এম মজিবুল হক বলেন, ‘আমাদের বের করতে হবে শিশু হাম, ডেঙ্গু নাকি অন্য কোনো ভাইরাসে আক্রান্ত। যদি হামে আক্রান্ত হয় তাহলে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে, আমাদের বিভিন্ন ধরনের ইনভেস্টিগেশন করতে হবে। সিম্পলি যদি আমি সিবিসি বা ব্লাড কাউন্ট করি, তাহলে আমরা বুঝতে পারব শিশুর ভাইরাসটা কোন দিকের।’
একই হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘কানের পেছন এবং কানের সামনে, তারপর ক্রোনোজিক্যাল ডিসটেন্ট যেটা আমরা বলি, ফেস, নেক, ট্রান্ড তারপরে লিম্ব। ডেঙ্গুতে কিন্তু এভাবে ফলো করা হয় না, বরং লিম্বে দেখা যাবে যে ডেঙ্গুর র্যাশটা আগে এসে গেছে। হাত দিয়ে শুরু হয় পরে সেটা বডিতে আসে।’
জুনে প্রায় প্রতিদিন হাজারের বেশি শিশু হাম এবং উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা শতাধিক। চিকিৎসকেরা বলছেন, কিছু উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে রোগীকে।
অধ্যাপক ডা. কে এম মজিবুল হক বলেন, ‘আক্রান্ত হলে নরমাল একটি বাচ্চার শ্বাস নিতে কষ্ট হবে, কাশি হবে, অস্বস্তি ফিল করবে, সারাক্ষণ কান্নাকাটি করতে থাকবে। এই বিষয়গুলো দেখা দিলে বাচ্চাকে নিয়ে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া উচিৎ।’
ডেঙ্গু, হাম ও চিকুনগুনিয়ার পাশাপাশি আছে অন্য ভাইরাসের শঙ্কাও। হাম থেকে মাত্রই সুস্থ হওয়াদের ডেঙ্গু থেকে বাঁচাতে বেশি নজর দেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।



