প্রতি বছর অক্টোবরে দ্বিতীয় শুক্রবারে পালিত হয় বিশ্ব ডিম দিবস। এই দিনটি ডিমের বহুমুখী ব্যবহার, সাশ্রয়ী মূল্য ও অসাধারণ পুষ্টিগুণের প্রতি সচেতনতা বাড়াতে উদ্যাপন করা হয়। এই আয়োজনের পেছনে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশন। যারা বিশ্বব্যাপী মানুষকে উৎসাহিত করে আসছে। যেন তারা ডিমকে শুধু একটি সাধারণ খাদ্য নয়, বরং স্বাস্থ্য, টেকসই খাদ্যাভ্যাস ও রন্ধনশিল্পে এক শক্তিশালী পুষ্টির উৎস হিসেবে মূল্যায়ন করে।
২০২৫ সালের বিশ্ব ডিম দিবসের থিম হচ্ছে ‘দ্য মাইটি এগ-প্রাকৃতিক পুষ্টিতে ভরপুর’। এই বছরের বার্তা হলো ডিম ছোট হলেও পুষ্টির ভাণ্ডার। এটি আপনার শরীর এবং মস্তিষ্কের জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি সরবরাহ করে। বিশ্বজুড়ে ডিম অপুষ্টি রোধে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং টেকসই খাদ্যাভ্যাস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ডিম প্রকৃতির অন্যতম সম্পূর্ণ খাবার। এক একটি মাঝারি আকারের ডিম প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে প্রায় ৭৮ ক্যালরি, ৬ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন, ৫ গ্রাম স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন বি১২, ডি, এ, ই, সেলেনিয়াম, ফসফরাস এবং মস্তিষ্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোলিন। এছাড়া চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় লুটিন ও জিয়াজ্যানথিনের মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও রয়েছে। যদিও ডিমের কুসুমে কিছু কোলেস্টেরল থাকে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত পরিমাণে খেলে এটি রক্তের কোলেস্টেরলে বড় প্রভাব ফেলে না।
ডিম সব বয়সের মানুষকে স্বাস্থ্য উপহার দেয়। শিশুদের জন্য এটি প্রোটিন ও আয়রন সরবরাহ করে। যা তাদের বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে এটি মনোযোগ ও শক্তি বাড়ায়। প্রাপ্তবয়স্ক ও গর্ভবতী নারীদের হৃদ্যন্ত্র ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য ফলেট এবং ওমেগা-৩ সরবরাহ করে। বয়স্কদের মধ্যে ডিম পেশি ও হাড় মজবুত রাখতে সহায়তা করে। বিশেষ কোনো অ্যালার্জি বা স্বাস্থ্য সমস্যা না থাকলে ডিম প্রায় সব ধরনের খাদ্যাভ্যাসের জন্য নিরাপদ।
ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশন (এনআইএন-আইসিএমআর, ২০২০) অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্কের বছরে ১৮০টি ডিম খাওয়া উচিত। অর্থাৎ গড়ে প্রতি দুই দিনে একটি ডিম। আর সপ্তাহে তিন থেকে চারটি ডিম। এটি শরীরের পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং পুষ্টি নিশ্চিত করে। বিশেষ করে যেখানে প্রাণিজ প্রোটিনের বিকল্প সীমিত, সেখানে ডিম অপরিহার্য।
ডিমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য। মাংস বা মাছের তুলনায় কম খরচে পাওয়া যায়। প্রাকৃতিক খোলসের কারণে ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু প্রবেশের ঝুঁকি কম থাকে। সকাল, দুপুরের খাবার বা রাতের ভোজ, সব ক্ষেত্রেই ডিম সহজে রান্না করা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ডিম শুধু একটি সাধারণ খাদ্য নয়, এটি এক ধরনের সুপারফুড। সঠিকভাবে খেলে এটি শক্তি, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। এক বাক্যে বলা যায়, ডিম স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য।’
তথ্যসূত্র: মিড-ডে, টাইমস নাও


বাড়িতে বানাতে পারেন মজার ছোলার পোলাও, রইল রেসিপি
ঘরেই বানান ঠান্ডা ঠান্ডা কুকি ম্যানিয়া কফি, রইল রেসিপি
