বাড়িতে একটি গাছ মানেই যেন প্রাণের স্পর্শ। তবে বেশির ভাগ ঘরোয়া গাছ খুব বেশি দিন টেকে না। যত্ন করেও কয়েক বছরের বেশি রাখা যায় না অনেক গাছ। তবে এমন কিছু উদ্ভিদ রয়েছে, যেগুলো শুধু দশক নয়, শতাব্দীর পর শতাব্দী টিকে থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু গাছের জিনগত গঠন ও অভিযোজন ক্ষমতা এতটাই শক্তিশালী যে সঠিক পরিচর্যায় তারা একাধিক প্রজন্মের সাক্ষী হতে পারে। নিচে এমনই চারটি টেকসই ঘরোয়া গাছের কথা তুলে ধরা হলো, যেগুলোর আয়ু শত বছর ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ক্রিসমাস ক্যাকটাস
শীতকালে ফুল ফোটার কারণে গাছটির নাম ক্রিসমাস ক্যাকটাস হলেও এটি সারা বছর সতেজ থাকে। পরিবেশ অনুকূলে থাকলে বছরে একাধিকবার ফুল ফোটায়। বিভিন্ন দেশে এই গাছ পারিবারিক ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয়। সঠিক যত্নে এই গাছ ১০০ বছর বা তার বেশি বেঁচে থাকতে পারে।
জেড প্ল্যান্ট
বৈজ্ঞানিক নাম ক্র্যাসুলা ওভাটা। ‘মানি ট্রি’ নামেও পরিচিত এই গাছকে সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক বলা হয়। উজ্জ্বল কিন্তু পরোক্ষ আলোতে ভালো জন্মায়। গ্রীষ্মে নিয়মিত পানি ও শীতে কম জলেই এটি টিকে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ৫০ থেকে ১০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।
সেগো পাম
‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ বলা হয় এই গাছকে। ডাইনোসরের যুগ থেকে টিকে আছে বলে একে লিভিং ফসিল বলা হয়। সঠিক যত্নে এই গাছ ২০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। অতিরিক্ত পানি না দিয়ে উজ্জ্বল, ছায়াযুক্ত জায়গায় রাখলে গাছটি দীর্ঘ দিন সতেজ থাকে।
কাস্ট আয়রন প্ল্যান্ট
নামেই টেকসই হওয়ার ইঙ্গিত। আলো-পানি কম পেলেও দিব্যি টিকে থাকতে পারে। সাধারণত ৫০ বছর পর্যন্ত আয়ু থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে ১০০ বছরও বেঁচে থাকতে দেখা গেছে। ঘরের কোণায় বা কম আলোযুক্ত স্থানে রেখে সপ্তাহে একবার জল দিলেই চলে।
পরিচর্যায় জরুরি
উদ্ভিদবিদদের মতে, দীর্ঘজীবী এসব গাছ সাধারণত অল্প যত্নেই বাঁচে। তবে সঠিক পরিবেশ ও সময়মতো পানি দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হয়। পাশাপাশি গাছের গোড়ায় জমে থাকা পানি ফেলে দেওয়াও জরুরি।
ঘরকে শুধু সবুজ নয়, ইতিহাসের অংশ করে তুলতে পারেন আপনিও। একটি গাছ বাঁচিয়ে রাখতে পারলেই সে হয়ে উঠতে পারে পারিবারিক উত্তরাধিকারের প্রতীক।


ঘরেই হবে মাইক্রোগ্রীনস, কীভাবে জানুন
অন্দর সজ্জায় ৩-৫-৭ রুল কী? সহজেই সাজাতে পারেন ঘর
