বাড়ির সাজসজ্জায় কাঠের মেঝে অনেকে পছন্দ করেন। তবে এটা পরিষ্কার করা বেশ ঝক্কির কাজ। দামি কাঠ হলেও যত্নের অভাবে সময়ের সঙ্গে তার জৌলুস হারায়। পোষা প্রাণীর নখ, ভারী আসবাব টানা-হেঁচড়া, ভুল উপায়ে পরিষ্কার, এসব কারণে কাঠের মেঝে ধীরে ধীরে নির্জীব আর নিষ্প্রভ হয়ে ওঠে। তবে পুরোটা পালিশ করে নতুন করে রং করা বেশ ঝক্কি। কয়েকটি সহজ উপায়ে আপনি চাইলে মেঝেকে আগের মতোই উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন।
সঠিকভাবে পরিষ্কার করুন
প্রথম ধাপ: মেঝের ওপরে থাকা সব কিছু সরিয়ে নিন। ফার্নিচার, ছড়ানো জিনিস এবং ধুলাবালি সব। এরপর হালকা ভেজা মাইক্রোফাইবার কাপড় বা মপ দিয়ে গোটা মেঝে মুছে নিন। মপ বেশি ময়লা হয়ে গেলে গরম পানিতে ধুয়ে নিয়ে আবার চিপে পানি ঝরিয়ে নিন। নোংরা মপ দিয়ে মুছলে ময়লা সরে না, বরং ছড়িয়ে পড়ে।
দ্বিতীয় ধাপ: একটি বালতি বা বেসিনে গরম পানি নিন এবং কাঠের মেঝের জন্য নির্ধারিত ক্লিনার মিশিয়ে নিন। লেবেল অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক রাখতে হবে, বেশি বা কম নয়। এবার মাইক্রোফাইবার মপ সেই পানিতে ডুবিয়ে ভালোভাবে চিপে নিয়ে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে পরিষ্কার করতে থাকুন।
তৃতীয় ধাপ: প্রতিটি অংশ মুছে নেওয়ার পর, একটি শুকনো মাইক্রোফাইবার কাপড় বা মপ দিয়ে মেঝে ঘষে ঝকঝকে করে তুলুন।
পালিশ আর বাফ করে ঝলমলে করুন
মেঝে পরিষ্কার হয়ে গেলে এবার পালিশ করার পালা। এতে ছোট ছোট আঁচড় বা দাগ ঢাকা পড়ে যায়, আবার নতুনের মতো চকচক করতে শুরু করে। মেঝেতে যদি পলিউরেথেন কোটিং থাকে, তবে পানির মতো পালিশ ব্যবহার করুন। পুরোনো ঘরের মেঝে যদি ওয়াক্স দিয়ে করা হয়ে থাকে, তবে ওয়াক্সভিত্তিক পালিশ লাগবে।
কোন ফিনিশ ব্যবহার করবেন, কীভাবে বুঝবেন?
একটি কোণায় কয়েক ফোঁটা পানি দিন। ১০ মিনিট পর দেখুন, সাদা দাগ হলে ওয়াক্স ফিনিশ। আর যদি পানি গোলা গোলা হয়ে বসে থাকে তাহলে পলিউরেথেন।
কীভাবে পালিশ লাগাবেন?
প্রডাক্টের নির্দেশিকা মেনে পালিশ লাগান, যাতে দাগ না পড়ে। শুকিয়ে গেলে মাইক্রোফাইবার কাপড় বা রোটারি পলিশারের সাহায্যে বাফ করুন। প্রয়োজনে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত মেঝেতে হাঁটা না-ই যেতে পারে।
স্যান্ডিং, রিফিনিশিং ও রিসিল করা
মাঝেমাঝে মেঝে এতটাই বিবর্ণ বা সানফেইড হয়ে যায় যে তখন পুরোটা স্যান্ড করে আবার রঙ করতে হয়। চাইলে আপনি নিজেই এই কাজ করতে পারেন। অথবা পেশাদারদের সাহায্য নিতে পারেন।
প্রথম ধাপ: ভ্যাকুয়াম লাগানো স্যান্ডার দিয়ে আগের ফিনিশ, দাগ আর পালিশ তুলে ফেলতে হবে। এরপর কাঠের ধরন বুঝে পছন্দসই রঙ নির্বাচন করে তা লাগাতে হবে।
শেষ ধাপ: সবশেষে পলিউরেথেন বা অন্য কোন সিলেন্ট দিয়ে মেঝে সিল করে দিন। আপনি চাইলে স্যাটিন, সেমি-গ্লস বা হাই-গ্লস ফিনিশও বেছে নিতে পারেন।
কাঠের মেঝে চকচকে রাখতে টিপস
- কার্পেট ক্লিনারের মতো ভ্যাকুয়াম নয়: এতে ছোট ছোট আঁচড় পড়ে। চাইলে বিটার বার বন্ধ করে ব্যবহার করুন।
- প্রবেশপথে ডোরম্যাট: বাইরের ধুলাবালি ও পাথরের কণা আটকে রাখবে।
- জুতা খুলে ঢোকা: হাই হিল কাঠে দাগ ফেলে, ময়লা জুতা তো আরও খারাপ।
- ঠিক ক্লিনার ব্যবহার করুন: অ্যামোনিয়া, ব্লিচ বা ভিনেগার নয়। রুক্ষ স্ক্রাবারও নয়।
- আসবাবপত্রে ফ্ল্যানেল প্যাড: চেয়ার বা টেবিল টানলেই যেন দাগ না পড়ে।
কাঠের মেঝে শুধু মেঝে নয়, এটি বাড়ির চরিত্র। একটু যত্ন আর নিয়মিত পরিষ্কারই পারে আপনার মেঝেকে বহু বছর ধরে নতুনের মতো রাখতে। এখনই ঝাঁট হাতে নিন আর শুরু করুন নতুন এক পরিচ্ছন্ন অধ্যায়।


বসার ঘরকে আকর্ষণীয় করে তোলার সহজ ৫ উপায়
বেডরুম সাজাতে সহজ ৭ উপায়
