ফ্ল্যাটের ছোট রান্নাঘরে আরশোলার উপস্থিতি সত্যিই বিরক্তিকর। তাছাড়া এই ছোট্ট কিটগুলো স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে ছোট ছোট আরশোলা রান্নাঘরের খাঁজ, ড্রেন, সিঙ্ক ও আলমারির নীচে সহজেই বসবাস শুরু করে। তবে সহজ কিছু ঘরোয়া উপায়ে এগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সবচেয়ে জরুরি
আরশোলা মূলত খাবারের অবশিষ্টাংশ ও নোংরা জায়গায় আকৃষ্ট হয়। তাই প্রতিদিন রান্নাঘরকে পরিষ্কার রাখাই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। সিঙ্কে রাতভর বাসন রাখা থেকে বিরত থাকুন। খোলা অবস্থায় খাবার রাখবেন না। আবর্জনার জন্য ডাস্টবিন ব্যবহার করুন, ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখুন এবং প্রতিদিন এটি বাইরে ফেলুন। রান্নাঘরের প্রতিটি কোণ পরিষ্কার রাখা আরশোলাকে অনেকটা দূরে রাখতে সাহায্য করবে।
বেকিং সোডা ও চিনি
আরশোলা মিষ্টি গন্ধে আকৃষ্ট হয়। বেকিং সোডা ও চিনি সমান পরিমাণে মিশিয়ে রান্নাঘরের সেই স্থানগুলোতে ছড়িয়ে দিন, যেখানে আরশোলার উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। আরশোলা এটি খেলে শরীরে গ্যাস তৈরি হয়ে মারা যায়। এটি প্রাকৃতিক ও সহজতম ঘরোয়া উপায়।
তেজপাতা ও নিমপাতা
প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে তেজপাতা ও নিমপাতা অনেক কার্যকর। রান্নাঘরের আলমারি, সিঙ্কের নিচে বা ড্রেনে শুকনো তেজপাতা রাখুন। চাইলে নিমপাতার গুঁড়োও ছড়িয়ে দিতে পারেন। গন্ধের কারণে আরশোলা দূরে থাকে এবং পুনরায় বাসা বাঁধে না।
বোরিক পাউডার ব্যবহার
বোরিক পাউডার আরশোলা নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর। বোরিক অ্যাসিড, ময়দা ও চিনি মিশিয়ে ছোট বল তৈরি করুন। যেখানে আরশোলা বেশি, সেখানে রাখুন। তবে সাবধান, শিশু বা পোষ্য যেন এগুলো খেতে না পারে। সেক্ষেত্রে মিশ্রণকে তাদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ভিনিগার ও লেবু
আরশোলা তীব্র অ্যাসিডিক গন্ধ সহ্য করতে পারে না। ভিনিগার এবং পানি মিশিয়ে মেঝে, বেসিন কাউন্টার ও ক্যাবিনেট মুছুন। লেবুর রসও একইভাবে ব্যবহার করা যায়। এতে আরশোলা দূরে থাকে এবং পুনরায় ফিরে আসে না।
ড্রেন, ফাঁকফোকর ও গর্ত বন্ধ রাখুন
সিঙ্কের নিচের কোণ ও ফাঁকফোকর সিল করে রাখুন। ড্রেনে নিয়মিত গরম পানি বা ফিনাইল ঢালুন। প্রয়োজন হলে স্টিকি ট্র্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।
কবে পেস্ট কন্ট্রোল প্রয়োজন?
যদি উপদ্রব বেশি হয় বা আরশোলার ডিম বা বাচ্চা দেখা দেয়, পেশাদার পেস্ট কন্ট্রোলের সাহায্য নিতে পারেন।
রাতের রুটিনেও সতর্ক থাকুন
রাতের বেলা রান্নাঘর শুকনো রাখুন। পোষ্যের খাবার খোলা অবস্থায় রাখবেন না। কার্ডবোর্ড বা অন্যান্য আবর্জনা রান্নাঘরে জমতে দেবেন না। কারণ এগুলো আরশোলার প্রজননের আদর্শ স্থান।
পরিশেষে, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, প্রাকৃতিক রেপেলেন্ট ও সতর্ক অভ্যাস মেনে চললে রান্নাঘরের আরশোলা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিছু ছোট ছোট পদক্ষেপই দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করবে।



