জাপানের প্রাচীন রাজধানী কিয়োটো এবার পর্যটনের চাপ কমাতে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের ১ মার্চ থেকে এই শহরে চালু হতে যাচ্ছে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি হোটেল ট্যাক্স। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করলে একজন পর্যটককে প্রতি রাতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ইয়েন (প্রায় ৬৮ ডলার) পর্যন্ত ট্যাক্স দিতে হবে।
শহর প্রশাসনের দাবি, পর্যটকের সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় স্থানীয়দের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। ভিড়, শব্দদূষণ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের মতো সমস্যা বেড়েছে। নতুন ট্যাক্সের অর্থ শহরের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং টেকসই পর্যটন ব্যবস্থার জন্য ব্যয় করা হবে।
নতুন ট্যাক্সে কাদের কত দিতে হবে?
কিয়োটো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে নতুন এই ট্যাক্স হার কার্যকর হবে।
- ২০০ ইয়েন: ৬ হাজার ইয়েনের নিচের হোটেল ভাড়ায়।
- ৪০০ ইয়েন: ৬ হাজার থেকে ২০ হাজার ইয়েন ভাড়ার মধ্যে।
- ১ হাজার ইয়েন: ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ইয়েন ভাড়ার মধ্যে।
- ৪ হাজার ইয়েন: ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ইয়েন ভাড়ার মধ্যে।
- ১০ হাজার ইয়েন: ১ লাখ ইয়েনের বেশি ভাড়ার হোটেলে প্রতি রাতে।
তবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এই ট্যাক্স থেকে অব্যাহতি পাবেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অতিরিক্ত রাজস্ব যাবে টেকসই পর্যটনে
কিয়োটো নগর সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ট্যাক্স থেকে প্রাপ্ত অর্থ শহরের পর্যটন ব্যবস্থাপনা, পরিবহন উন্নয়ন, বহুভাষিক তথ্যসেবা ও সচেতনতা কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।
শহরের ধারণা, নতুন ট্যাক্স চালু হলে বার্ষিক রাজস্ব ৫.৯ বিলিয়ন ইয়েন থেকে বেড়ে ১২.৬ বিলিয়ন ইয়েনে পৌঁছাবে। ফলে শহর পর্যটকদের জন্য উন্নত সেবা এবং স্থানীয়দের জন্য আরও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারবে।

পর্যটনের চাপ নিয়ে ক্ষোভ
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিয়োটোতে পর্যটকের ভিড় ব্যাপকভাবে বেড়েছে। গিয়নের মতো জনপ্রিয় এলাকাগুলোতে ভিড় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন। অনেক পর্যটক আচরণবিধি মানছেন না, গেইশাদের হয়রানি পর্যন্ত ঘটছে।
এই সমস্যা শুধু কিয়োটোতেই নয়। জাপানের অন্যান্য স্থানেও ওভারট্যুরিজম সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফুজি পর্বতে দর্শনার্থী সীমা নির্ধারণ, ইয়ামাগাতার গিনজান অনসেন এলাকায় দিনভিত্তিক প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
টেকসই পর্যটনের পথে জাপান
বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জাপানের পর্যটননগরীগুলো এখন চাপে। তবু তারা চেষ্টা করছে ঐতিহ্য রক্ষা ও পর্যটনের ভারসাম্য বজায় রাখতে। কিয়োটো প্রশাসনের আশা, নতুন ট্যাক্স চালু হলে পর্যটন হবে আরও নিয়মতান্ত্রিক ও টেকসই, আর স্থানীয়দের জন্যও শহর হবে বসবাসের উপযোগী। শহর কর্মকর্তারা বলছেন, আমরা চাই পর্যটকরা কিয়োটোকে ভালোবাসুন, কিন্তু একই সঙ্গে এই শহরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন।


জাপান ঘুরতে যাওয়ার সঠিক সময় কখন, জানেন?
ঘুরতে গিয়ে পোশাকে ‘ভুল’! মিলতে পারে জরিমানা বা তিরস্কার
