সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধিরা অনুপস্থিত থাকায় অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে জন্ম–মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত সেবা। এই সেবা নিশ্চিত করতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বুধবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়।
এতে বলা হয়, জন্ম ও মুত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ এর ধারা ৪ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভা মেয়র/কাউন্সিলর ও সিটি করপোরেশন কাউন্সিলর/কর্মকর্তা জন্ম ও মুত্যু নিবন্ধনের নিবন্ধক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি উদ্ভূত বিশেষ পরিস্থিতির কারণে কোনো কোনো ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভা মেয়র, সিটি করপোরেশন মেয়র/ কাউন্সিলর তাদের কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে জনগণের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত সেবা প্রাপ্তি বিঘ্নিত হচ্ছে এবং জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত সব সেবা দ্রুততার সাথে প্রদানের লক্ষ্যে নিন্মোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো:
ক) ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রে: অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের পরিবর্তে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্ব বিবেচনায় উপজেলা পর্যায়ের প্রয়োজনীয় সংখ্যক দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম ও মুত্যু নিবন্ধকের দায়িত্ব প্রদান করবেন এবং উক্ত কর্মকর্তাদের নিবন্ধকের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড প্রদান করবেন। পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত উক্ত কর্মকর্তারা নিবন্ধকের দায়িত্ব পালন করবেন।
খ) পোরসভার ক্ষেত্রে: অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পৌরসভাসমূহের মেয়রদের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট জেলার উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) স্ব বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে জন্ম ও মুত্যু নিবন্ধকের দায়িত্ব প্রদান করবেন এবং উক্ত কর্মকর্তাদের নিবন্ধকের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড প্রদান করবেন। পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত উক্ত কর্মকর্তারা নিবন্ধকের দায়িত্বপালন করবেন।
গ) সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে: অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত মেয়র ও কাউন্সিলরের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট জেলার উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) স্ব বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধকের দায়িত্ব প্রদান করবেন এবং উক্ত কর্মকর্তাদের নিবন্ধকের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড প্রদান করবেন। পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত উক্ত কর্মকর্তারা নিবন্ধকের দায়িত্ব পালন করবেন।
এর আগে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব সিটি করপোরেশেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে পূর্ণ আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়া হয়। বুধবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানা যায়।
গত ৫ আগস্ট তীব্র গণ আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে তার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের অবসান হয়। শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা এবং মন্ত্রী–এমপিরা আত্মগোপনে চলে যান। একই ভাবে বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।



