দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ গাড়িচালকই শারীরিকভাবে আনফিট। তাদের ৭৫ শতাংশ শারীরিক সমস্যার কথা জানেন না। এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, বছরের ৯ মাসে প্রতিদিন গড়ে ১৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন মারা গেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স অনুমোদন এবং তদারকি প্রক্রিয়া- দুটোরই সংশোধন দরকার।
গত ৬ আগস্ট নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মাইক্রোবাস খালে পড়ে নিহত হন ৭ যাত্রী। চোখে ঘুম নিয়ে চালক গাড়ি চালানোয় এ দুর্ঘটনা বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ এর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৫ হাজার ৭৯২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মারা যান ৩৮ হাজার ২২৭ জন মানুষ। আর চলতি বছর ৯ মাসে ৫ হাজার ১৭টি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৯৭১ জনের।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চালকের স্বাস্থ্যগত ত্রুটি সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ।
সম্প্রতি আহসান মিশনের জরিপ বলছে, ৭৯ শতাংশ চালকের রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে। ৬২ ভাগ ডায়াবেটিস আক্রান্ত। আর, দুটি রোগেই ভুগছেন ৩৫ ভাগ চালক। ৭৫ ভাগ চালকের দৃষ্টি সমস্যা রয়েছে বলেও জানানো হয় প্রতিবেদনে।
লাইসেন্স দেওয়া ও নবায়নের সময় স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এ আর আই বিভাবের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায় যে পরীক্ষার সময় বিভিন্ন কারণে চিকিৎসক উপস্থিত থাকেন না। কিন্তু চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এটি বিআরটিএকে তদারকি করতে হবে, যে মেডিকেল সার্টিফিকেটটা জমা দেওয়া হচ্ছে সেটা মানসম্মত কিংবা নির্দিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসকের কাছ থেকে এসেছে কিনা সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’
অবশ্য লাইসেন্সের পুরো প্রক্রিয়াকেই অবৈজ্ঞানিক বলছেন বুয়েট অধ্যাপক।
বুয়েট এ আর আই বিভাগের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘বিআরটিএ রেগুলেটরি বডি হিসেবে তাদের দায়িত্ব হবে মনিটরিং করা। অর্থাৎ তৃতীয় পক্ষ সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা সেই মনিটরিংটা করতে হবে। তাহলে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের একটা সুযোগ তৈরি হবে। সরকারি কর্তৃপক্ষ যখন নিজেই লাইসেন্স দিচ্ছে, নিজেই পরীক্ষা নিচ্ছে; এইখানে আমি মনে করি চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের সুযোগটা নেই।’
তার অভিযোগ, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞদের কোনো সুপারিশই আমলে নেয়নি বিআরটিএ বা সংশ্লিষ্টরা।



