সাত দিন ধরে দেশ-বিদেশের তিনটি হাসপাতালে ডাক্তারদের আপ্রাণ চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেল, গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার সন্ত্রাসীদের হামলায় গুলিবিদ্ধ শরীফ ওসমান হাদি আজ ঢলে পড়েছেন মৃত্যুর কোলে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ওসমান হাদির মৃত্যুর পর আজ জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
ওসমান হাদির মৃত্যুতে আগামী শনিবার দেশজুড়ে জাতীয় শোক ঘোষণা করেন প্রধান উপদেষ্টা। এরপর ওসমান হাদির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এরপর দেশবাসীর উদ্দেশে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমি দেশের সকল নাগরিকের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি—আপনারা ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখুন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। রাষ্ট্র আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পরিচিত মুখগুলোর অনেকের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন বিশ্লেষকরা।
তবে আজ তাঁর বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুস বলেছেন, ‘আমি আবারও স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ওসমান হাদি ছিলেন পরাজিত শক্তি ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসীদের শত্রু। তাঁর কণ্ঠ স্তব্ধ করে বিপ্লবীদের ভয় দেখানোর অপচেষ্টা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ করে দেওয়া হবে। ভয়, সন্ত্রাস কিংবা রক্তপাতের মাধ্যমে এ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।’
ভাষণের শেষ প্রান্তে এসে প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীর উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছেন, ‘এই শোকের মুহূর্তে আসুন, আমরা শহিদ শরিফ ওসমান হাদির আদর্শ ও ত্যাগকে শক্তিতে পরিণত করি। ধৈর্য ধারণ করি, অপপ্রচার ও গুজবে কান না দিই এবং যে কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকি। যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের ফাঁদে পা না দিয়ে আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে অবিচল পদক্ষেপে এগিয়ে যাই। এটাই হবে শহিদ হাদির প্রতি আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা।’



