প্রাথমিকভাবে মাসে আড়াই হাজার টাকা করে ৫০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার। ১০ মার্চ এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এজন্য প্রতি বছর সরকারের বাড়তি ব্যয় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্নীতি আর অপচয় কমাতে পারলে সরকারের জন্য এটি চাপ হবে না। তবে রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করা না গেলে, ফ্যামিলি কার্ড থেকে বঞ্চিত হতে পারেন অনেকে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সংখ্যা ও বরাদ্দ দুটিই কমানো হয়েছে। এ সংখ্যা ১৪০ থেকে কমিয়ে ৯৫টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। বরাদ্দ কমে হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা।
নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়ে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর ঘোষণা দেয়। শুরুতে দুটি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
আসন্ন ঈদের আগেই এর আওতায় মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ৫০ লাখ সুবিধাভোগীকে দেওয়া হবে এ কার্ড। দেশের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীরা এই কার্ডের সুবিধা পাবেন। এজন্য বছরে সরকারকে গুনতে হবে বছরে ১৫ হাজার কোটি টাকা।
এ প্রসঙ্গে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘আড়াই হাজার টাকা দিলেন, মাসে মাসে। কিন্তু মূল্যস্ফীতির লাগামটা যদি টেনে না ধরা হয়, তাহলে জীবনধারণের জন্য বেসিক যে নিডগুলো (প্রাথমিক প্রয়োজনগুলো) এটা পূরণ করতে গিয়ে দেখা গেল যে, মূল্যস্ফিতির চাপে কিন্তু এটা হারিয়ে যাবে।’
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য আমিনুর রহমান বলেন, আমরা একটা প্রায়োরিটি (হিসেবে) নিতে পারি যে, এই এই (কাজগুলো) করব এবং এগুলো আমরা এই এই ধাপে করব। সরকারি রাজস্বের এখন যে অর্থনৈতিক অবস্থা তাতে একবারে সবগুলো দেওয়া সরকারের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং। তার ভেতরে ফ্যামিলি কার্ডের কথা শোনা যাচ্ছে, বৃক্ষ রোপণের কথা শোনা যাচ্ছে, এই সব কাজের জন্য তো আরও অর্থের প্রয়োজন হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কার্ড বিতরণে রাজনৈতিক বিবেচনা আমলে নিলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এজন্য সুবিধাভোগী চিহ্নিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সহায়তা নেওয়ার পরার্মর্শ বিশ্লেষকদের।
ক্যাব-এর সভাপতি আরও বলেন, ‘যিনি বিধবা ভাতা পান, তিনি আবার বয়স্ক ভাতা পান, তিনি আবার কাবিখা থেকে সুবিধা পান, তার কাছে আবার টিসিবি'রও ফ্যামিলি কার্ড আছে। তো আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, প্রথম হলো যে যারা কোনো নেটওয়ার্কের মধ্যে নাই, (অর্থাৎ) সামাজিক নিরাপত্তার (নেটওয়ার্কের) মধ্যে নাই, তাদেরকে প্রথমে টার্গেট করা উচিৎ। এখানে দলীয় এবং স্থানীয় সরকারের যারা আছে সে প্রভাব মুক্ত করতে হবে।’
আগামী চার মাসের মধ্যে পাইলটিং কার্যক্রম শেষ হবে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামেলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের।



