ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীর শেখকে দিল্লিতে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) হেফাজতে তাদেরকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
হাদি হত্যায় অভিযুক্ত এই দুজনকে সোমবার রাতেই কলকাতা থেকে বিমানে করে দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার ফয়সাল ও আলমগীরকে ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি- এনআইএ'র বিশেষ আদালতে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে, গত ২২ মার্চ (রোববার) পুলিশ হেফাজতে ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে তাদেরকে পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। সেদিনই ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) এই দুই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানালে বিচারক তা মঞ্জুর করেন।
এরপর ২৩ মার্চ এনআইএ'র তরফে আদালতে নতুন করে পিটিশন জমা দিয়ে জানানো হয় যে, দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা শঙ্কা থাকায় তারা সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে না। এই প্রেক্ষাপটে বিচারক ফয়সাল ও আলমগীরকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন এবং সেদিন (সোমবার) রাতেই তাদেরকে দিল্লিতে নিয়ে যায় এনআইএ।
উল্লেখ্য, রোববার ফয়সাল ও আলমগীরকে বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক নিশান মজুমদার তাদেরকে ১২ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই সময়ে জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ) জেলে গিয়ে তাঁদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। আদালতে তাদের পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ এপ্রিল।
ফয়সাল ও আলমগীরের বিরুদ্ধে Unlawful Activities (Prevention) Act-এর ১৬ ও ১৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই দুটো ধারায় তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনায় সহায়তা বা প্ররোচনার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি হিসেবে কমপক্ষে ৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রয়েছে।
এদিকে, গত রোববার বিধাননগর আদালতে তোলার আগে আদালতের বাইরে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল করিম জানান, হাদি হত্যার সাথে তিনি জড়িত নন। তাকে ফাঁসানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এর আগে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স জানিয়েছিল যে, গ্রেপ্তারের পর হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে ফয়সাল ও আলমগীর।
এর আগে গত ৭ ও ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ থেকে ফয়সাল করিম ও আলমগীর শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদেরকে ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
এদিকে, ফয়সাল ও আলমগীরকে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে শনিবার (২১ মার্চ) ফিলিপ সাংমা নামের এক ব্যক্তিকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় পশ্চিমবঙ্গের একটি আদালত। তাকে গত ১৪ মার্চ শান্তিপুর থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফিলিপ স্বীকার করে যে, টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশের হালুয়াঘাট এবং মেঘালয়ের ডালুপাড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে লোক পারাপার করতেন তিনি। একইভাবে হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদেরও ভারতে অনুপ্রবেশে সহায়তা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা হাদিকে গুলি করে। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।


হাদি হত্যার আসামিদের তোলা হলো পশ্চিমবঙ্গের আদালতে
হাদি হত্যার আসামিদের ভারতে অনুপ্রবেশে সহায়তাকারী পুলিশ রিমান্ডে
