ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামির বিচারিক কার্যক্রম ভারতে চলমান থাকলেও বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন দেশের আইন বিশেষজ্ঞরা।
পাশাপাশি ভারতের আইনজীবীরাও বলছেন, এ ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা নেই, তবে দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রমাণ পাঠাতে হবে ঢাকাকে। এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দোষীদের বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
বর্তমানে দিল্লিতে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে হাদি হত্যা মামলার দুই আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনের। গত ২৩ মার্চ কলকাতা থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে তাদেরকে দিল্লিতে নিয়ে যায় এনআইএ।
এর আগে ২২ মার্চ (রোববার) পশ্চিমবঙ্গের আদালত ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে ফয়সাল করিম ও আলমগীর হোসেনকে ১২ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠায়। বাংলাদেশের আইনজীবীরা বলছেন, ভারত চাইলে এ অবস্থাতেও আসামিদের ফেরত পাঠাতে পারে।
এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম জানান, তার বিচার বাংলাদেশে চলমান। সেরকম প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ তাকে ফেরত চেয়েছে... ভারতেও তাদের বিচারকার্য চলছে। তৎস্বত্বেও ভারত সরকার যদি চায় তবে তাকে বন্দি বিনিময় চুক্তির অধীনে তাকে ফেরত পাঠাতে পারে।
পলাতক আসামিদের দ্রুত এবং সহজে হস্তান্তরের জন্য ২০১৩ সালে প্রত্যার্পন চুক্তি সই করে বাংলাদেশ-ভারত। তিন বছরের মাথায় এতে আরেক দফায় সংশোধনী আনা হয়। হত্যা, হত্যায় প্ররোচনা, অপহরণসহ ১৩ ধরনের অপরাধে অভিযুক্তদের ফেরত দিতে দুই পক্ষই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এক্ষেত্রে থাকতে হবে প্রয়োজনীয় প্রমাণ।
পশ্চিমবঙ্গের আলিপুর কোর্টের আইনজীবী দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য বলেন, 'এদের ক্ষেত্রে পাঠানোটা খুব একটা আইনি জটিলতা নেই। কিন্তু তাদেরকে (বাংলাদেশকে) দেখাতে হবে যে, কেন, কী জন্যে, তাদের কী প্রমাণ আছে, কী অপরাধমূলক কাজ করে (তারা) বাংলাদেশ থেকে এখানে এসেছে। এগুলো কিন্তু দেখাতে হবে। সেক্ষেত্রে ভারতবর্ষ (তাদেরকে) পাঠাতে বাধ্য।'
অভিযুক্তদের তথ্য সংগ্রহে ভারত সরকারের কাছে কনস্যুলার এক্সেস চেয়ে গত ৯ মার্চ আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায় ঢাকা। যদিও এখন পর্যন্ত দিল্লির জবাব মেলেনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, 'আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা দেওয়াটা আমাদের সর্বোচ্চ আগ্রাধিকার (টপ মোস্ট প্রায়োরিটি) এই হাদি হত্যার ব্যাপারে। সেটার বিচার আমরা নিশ্চিত করব ইনশাআল্লাহ্... পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সেটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিবে। তো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সেটা চলছে।'
এর আগে, ২০১৫ সালে উলফার শীর্ষ নেতা অনুপ চেটিয়াকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে হস্তান্তর করা হয় এবং সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।



