এপ্রিলে তীব্র হচ্ছে না তাপপ্রবাহ। মাসের শেষে দুটি হালকা থেকে মাঝারি তাপপ্রাবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, এবার কালবৈশাখী ও বজ্রঝড়ের প্রবণতা বেশি থাকায় গরমের তীব্রতা কম।
এপ্রিলে সাধারণত গড় তাপমাত্রা থাকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই মাসেই গরম অনুভুত হয় সবচেয়ে বেশি। তাই বর্ষা শুরুর আগে এপ্রিল হয়ে ওঠে বিক্ষিপ্ত।
গেল দশ বছরের আবহাওয়া বিশ্লেষণ বলছে, ইতিহাসের উষ্ণতম এপ্রিল পার হয়েছে ২০২৪ সালে। সে বছর পহেলা এপ্রিল থেকে মে মাসের পাঁচ তারিখ পর্যন্ত ৩৫ দিন মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। তবে গেল বছর থেকে তুলনামুলক কমতে শুরু করেছে এপ্রিলের তাপপ্রবাহ।
আবহাওয়া অফিস বলছে, এ বছর তাপমাত্রা মোটামুটি সহনীয় থাকবে। তবে আন্তর্জাতিক আবহাওয়া গবেষণা ও পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবী থাকবে সবচেয়ে উষ্ণ।
জেষ্ঠ্য আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঈশ্বরদীতে আমরা ৪৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছিলাম ২০২৪ সালে। এরমধ্যে এই তাপমাত্রা আর ওঠেনি। ২০২৬ সালেও আমরা আশা করি যে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ডিগ্রির মধ্যেই থাকার সম্ভাবনা বেশি।’
এপ্রিল সাধারণত কালবৈশাখী ও বজ্রঝড়ের দুর্যোগের সময়। এ বছরের মার্চ থেকে মধ্য এপ্রিল পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৩০ জনের। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, চাঁপাইনবাগঞ্জ, যশোর, সাতক্ষীরা,বরিশাল,বজ্রঝড়ের হটস্পট। তাই প্রাক বর্ষা মৌসুমে এই এলাকায় এবারও ঝুঁকি থাকছে।
এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আকাশে বিজলী চমকানো দেখলেন; দেখার পর আপনি ১২৩…এরকম তিরিশ সেকন্ড পর্যন্ত গুনতে শুরু করবেন। ৩০ সেকেন্ড কাউন্ট করা পর্যন্ত যদি আপনি শব্দ শুনতে পান তাহলে আপনি মনে করবেন আপনি এই ঝড়ের আওতাধীন এরিয়ার মধ্যে পড়েছেন। আপনি তৎক্ষণাত দৌঁড়ে ঘরে যাবেন। এবং কমপক্ষে ৩০ মিনিট ঘরে অবস্থান করবেন।’
আবহাওয় অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বলছে, এ মাসের শেষ দিকে সারা দেশে মৃদু থেকে হালকা তাপপ্রবাহ বয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে।



