অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত মো. আলমাছের পরিবর্তে এক বছর ধরে কারাগারে থাকা নিরপরাধ মো. আলমাসকে তাৎক্ষণিক মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
কারাগারে থাকা আলমাসের করা রিটের শুনানি শেষে আজ রোববার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ কারা কর্তৃপক্ষের প্রতি এই আদেশ দেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ ও আবদুল্লাহ আবু সাঈদ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিহাব উদ্দিন খান এবং সহকারী অ্যার্টনি জেনারেল মহিউদ্দীন মো. হানিফ ও মারিয়া তানজিমাৎ।
এ ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশে করা অনুসন্ধান (তদন্ত) প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা আলমাস এই মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি নন। প্রকৃত আসামি আলমাছ বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার আলমাস সপরিবার ২০০৭ সালের আগে ঢাকা জেলার দোহারের দক্ষিণ বাহ্রা ডাকঘরের অধীন বাহ্রা গ্রামে বসবাস করতেন। অপরদিকে প্রকৃত আসামির গ্রাম পূর্ব ধোয়াইর ওই একই ডাকঘরের অধীন। অন্যদিকে উভয়ের বাবার নামে অনেকাংশে মিল আছে। প্রকৃত আসামির বাবার নাম মো. খলিলুর রহমান (খলিল)। আর গ্রেপ্তার করা ব্যক্তির বাবার নাম শেখ খলিল। এই নামের সাদৃশ্য পরিচয় নির্ধারণে বিভ্রান্তি বাড়িয়েছে। এছাড়া ২০০২ সালে করা অস্ত্র মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আলমাছের ঠিকানা ভুলক্রমে ‘পূর্ব ধোয়াইর’ স্থলে ‘দক্ষিণ বাহ্রা’ লেখা হয়, যা মামলার নথিতে বহাল থাকে। মামলার রায় শেষে গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আসামি আলমাছের ঠিকানা ‘পূর্ব ধোয়াইর’–-এর পরিবর্তে ‘দক্ষিণ বাহ্রা’ লেখা হয়ে যায়।
এই মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, মো. আলমাছ ও মো. নাজমুল আলম মামুনের বিরুদ্ধে ২০০২ সালের ১০ এপ্রিল মিরপুর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করে পুলিশ। সে মামলায় ২০০৪ সালের ১৯ জুন ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১১ রায় দেন। ওই রায়ে মো. আলমাছকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে আসামির বর্তমান ঠিকানা মিরপুরের পাইকপাড়ার আহমেদনগর উল্লেখ করা হয়। রায় ঘোষণার সময় আলমাছ পলাতক ছিলেন। এদিকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আলমাসকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।


