বিকট শব্দে বেপরোয়া বাইক চালিয়ে এ কেমন মজা!

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:০১ পিএম

দিনটা ঈদের পরপর। কিছু আনাজ কিনতে বাসা থেকে বের হওয়া। হঠাৎ দূর থেকে ভেসে আসতে থাকল গম গম শব্দ। আস্তে আস্তে তা তীব্র হতে থাকল। এক সময় তা কাছে এসে রীতিমতো কাঁপিয়ে দিয়ে একটানে চলে গেল বহুদূর। যেন কোনো রকেট বা উড়োজাহাজ এই মাত্র ক্র্যাশ ল্যান্ডিংয়ের ছুতোয় বিকট শব্দে আশপাশের সবাইকে সচকিত করে গেল।

এমন ঘটনা এখন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই ঘটতে দেখা যায়। নিশ্চিত থাকতে পারেন যে, রকেট বা উড়োজাহাজ আকাশ ছেড়ে মাটিতে নামার চেষ্টা তখন করে না। বরং দুই চাকার একটি যানই আমাদের অন্তরাত্মাকে ভীত করে দেয় সশব্দে। এই দুই চাকার যানটি হলো মোটরসাইকেল। যার এ দেশে প্রচলিত নাম হলো বাইক বা মোটরবাইক। বেশ কয়েক বছর ধরেই এগুলো দুর্ঘটনা ছাড়াও শুধু শব্দ দিয়ে পথচলতি মানুষের বুক–মাথার বারোটা বাজানোর অন্যতম অস্ত্র হয়ে উঠছে।

তবে অস্ত্র তো আর নিজে নিজে কাজ করে না। মানুষ অস্ত্র আবিষ্কারই করেছিল ব্যবহার করবে বলে। মোটরবাইক নামধারী এই অস্ত্রটিও মানুষই ব্যবহার করছে। বয়স খুব নির্দিষ্ট করে বলতে চাইলে সেটি উঠতি কিশোর বা তরুণেরা। এদের দেখলেই বোঝা যায়, অনেকে এখনো হয়তো পড়াশোনাই শেষ করতে পারেনি। কিন্তু তাই বলে রোয়াব তো শেষ হওয়ার নয়! তাই রাস্তা ফাঁকা পেলেই, বা না পেলেও বিকট শব্দে পিলে চমকে দিয়ে ফাঁকা করে এরা তীব্র গতিতে বাইক চালিয়ে যায়। কখনো সোজাভাবে, কখনো এঁকেবেঁকে। চলা দেখলেই আপনার মনে আশঙ্কা জাগবে, এই বুঝি কারও গায়ে উঠে পড়ল! নিজেও পথচলতি থাকলে অবশ্য নিজের গায়ে গাড়ি ওঠার ভয়ই পেয়ে বসে বেশি।

এভাবে মোটরসাইকেল চালানোর ফল আসলে কী হয়? আগে চলুন ফলাফলটাই দেখি, তারপর না হয় কারণ অনুসন্ধান করা যাবে।

সংবাদমাধ্যমের খবরে প্রকাশ, ঈদের আগের রাত থেকে গত শনিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় ২১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৮ জন প্রাণ হারিয়েছে। এসব ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় অন্তত ৫৭ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৯২টিই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের টিকিট কাউন্টারের রেজিস্ট্রার থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে ফাঁকা সড়কে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল বা গাড়ি চালানোকে দায়ী করছেন চিকিৎসকেরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান নিজেই সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ঈদের ছুটিতে রাজধানীর সড়ক ফাঁকা থাকার সুযোগে অনেকেই অনিয়ন্ত্রিত গতিতে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য গাড়ি চালাচ্ছেন। এর ফলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় হতাহতদের বেশির ভাগই কিশোর। এদের সিংহভাগের বয়সই বিশের নিচে। তারা ঈদের ছুটিতে রাজধানীসহ পার্শ্ববর্তী রাস্তাঘাট ফাঁকা পেয়ে যে যার মতো চালাচ্ছে মোটরসাইকেল। ফলে বেড়েছে দুঘর্টনার সংখ্যা।

এই হলো ফলাফল। এভাবে কেউ পঙ্গু হচ্ছে সারা জীবনের মতো, কারও তো সাধের প্রাণও খাঁচাছাড়া হচ্ছে। দুটির কোনোটা না হলেও ভোগান্তি তো নিশ্চিত। সেই ভোগান্তি শারীরিক ও মানসিক—দুই–ই। আর এই ভোগান্তি শুধু একজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং পুরো পরিবার ও প্রিয়জনদের মধ্যেও ছড়ায়। আর সাথে থাকে অর্থক্ষয়; উপরি ক্ষত।

এত ক্ষতি মেনেও বিকট শব্দে বা রকেটের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া গতিতে বেপরোয়া বাইক চালানো কিন্তু একেবারে বন্ধ হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন দুটি। প্রথমত, কেন এমনটা করতেই হয়? এবং দ্বিতীয়ত, এমন ‘মজা’ লোটার লাইসেন্স আসলে কারা দেয়?

প্রথম প্রশ্নের উত্তরটি হলো, এমনটা করতেই হয় কেবল ‘হ্যাডম’ দেখাতে। উঠতি বয়সের এসব কিশোর–তরুণেরা আশপাশের সবাইকে তাক লাগিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মোটরবাইককে সাপের মতো এঁকেবেঁকে চালায়। তীব্র গতি ও বিকট শব্দের আমদানিও সেই তাক লাগানোর রোগ থেকেই হয় আকছার। এ ছাড়া আর কোনো কার্যকারণ ভাবা সত্যিই কঠিন। অন্তত যুক্তিতে মেলে না। আমরা দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি সমাজ বানিয়ে ফেলেছি, যেখানে চমক দেখাতে পারাটাই আসল। সেই চমক দেখাতে গিয়েও আমরা সস্তা পথ বেছে নেওয়ারই চেষ্টা করি। কারণ, ওটিই সবচেয়ে সহজ এবং কম আয়াসে অর্জনযোগ্য। এখন সেটি করতে গিয়ে কারও পিলে চমকে অজ্ঞান হওয়ার মতো অবস্থা হলো কিনা, বা কেউ রাস্তায় পড়ে মরে গেল কিনা, সেটি দেখার সময় আছে কার!

তরুণদের মধ্যে এমন পন্থা অবলম্বনের প্রেরণা অবশ্য আমরাই বা বয়সে জ্যেষ্ঠরাই গুঁজে দিচ্ছি। আর আগের পুরুষের এই আমরাই ওপরে ওঠা দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর। এ ধরনের উঠতি বয়সের কিশোর–তরুণদের জীবন বাজি রেখে বেপরোয়া হয়ে অন্যের সর্বনাশের কারণ হয়ে উঠতে দিচ্ছে তাদের পরিবারের সদস্যরাই। বলুন তো, পড়াশোনার গণ্ডি না পার হওয়া ছেলেপেলেদের কাছে মোটরসাইকেল কেনার টাকা কোথা থেকে আসে? পরিবার পুরোটা বা কিছুটা হলেও দেয় অবশ্যই। অন্যের বাইক বা আইফোন চালিয়ে হ্যাডম দেখানোর অশ্লীল মনোবৃত্তিও–বা কীভাবে তৈরি হয়? হয় পরিবারের সদস্যদের ভ্রান্ত বোধ কিংবা তাদের নিষ্ক্রিয়তাই এর জন্য মূলত দায়ী। অসৎ সঙ্গের কাঁধে দায় চাপাতে হলে, সেটির ক্রম আসবে এরও পরে। কারণ খাইয়ে–পরিয়ে মানুষ বানানোর চেষ্টাটা তো এই বঙ্গের ঐতিহ্য অনুযায়ী আগে পরিবারই করে। তাই সন্তান মানুষ না হয়ে অমানুষের মতো অসভ্য আচরণ করলে, তার দায়ও পরিবারকেই নিতে হয়।

দিন শেষে এই পরিবারের সদস্যদেরই কিন্তু শেষ যাত্রায় মৃতদেহের খাটিয়া কাঁধে নিতে হয়। এবারও নিতে হয়েছে অনেককে। অথচ চাইলেই এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা যায় অনেকাংশে। চাই শুধু একটু সচেতনতা। প্রয়োজন অন্যের অস্বস্তি বা অসুবিধাকে বোঝার সক্ষমতা। তবেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তা নইলে অকালমৃত্যুতে বা নষ্ট প্রিয়জনের দেওয়া কষ্টে চোখের জল ফেলাই হবে একমাত্র ভবিতব্য।

লেখক: উপবার্তা সম্পাদক, ডিজিটাল বিভাগ, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

ভারতে অধিকাংশ যন্ত্রপাতি ও পণ্য স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা হয়, যেখানে ঢাকার এমআরটি প্রকল্পগুলোতে আন্তর্জাতিক মান পূরণকারী দেশ থেকে এসব উপকরণ আমদানি করা হয়। তাই এই ব্যয়ের তুলনা করলেই বাস্তব চিত্র...
সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের মৃত্যুকে ঘিরে যে আলোচনার ঝড় উঠেছে, সেটি আমাদের সামনে সেই প্রশ্নকেই ফের উসকে দিয়েছে। তিনি একটি ‘খোলা চিঠি’ লিখে গিয়েছেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যু আত্মহত্যা, নাকি...
নারীদের ছাড়া এ দেশে কোনো আন্দোলন হয়নি। সর্বশেষ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানেও নারীরা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, লড়েছেন। কিন্তু তারপর? রাজনীতিতে আসা নারীকে লক্ষ্যবস্তু করে কুরুচিকর সব বক্তব্য দেওয়া কি...
এখনও যদি ভিন্নমত দমন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, সামাজিক বিভাজন ও সম্প্রীতি নষ্টের মতো গুরুতর প্রশ্ন ওঠে, তাহলে ফ্যাসীবাদী সরকারের পতন হলেও রাষ্ট্রযন্ত্রের চরিত্রে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে? তবে...
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের হায়দরগঞ্জ বাজার এলাকায় মাদ্রাসায় পড়তে আসা এক শিশুর মুখে বেত ঢুকিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। আর সেই নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করে তিনি ফেসবুকে পোস্ট...
গ্যাস সংকটে তিতাসে দেড় হাজারের বেশি শিল্প সংযোগের আবেদন ঝুলে আছে। ব্যবসায়ীদের মতে, এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকার শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহকে...
রাজধানীর তেজগাঁও রেলগেট এলাকায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স আনুমানিক ৫০ বছর। রোববার বিকেল ৪টার দিকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে...
বলিউড সুপারস্টার সালমান খান সম্প্রতি মুম্বাইয়ে স্লাম রিহ্যাবিলিটেশন অথরিটি (এসআরএ)-এর একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে তিনি সংস্থার নতুন ডেটা কালেকশন অ্যান্ড ভেরিফিকেশন সাপোর্ট সেন্টার (আইটি...
লোডিং...

এলাকার খবর