রানা প্লাজা ধসের ১১ বছর

শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ, বাস্তবতা ও করণীয়

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১:০২ এএম

দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত হচ্ছে শিল্প। শিল্পখাতের বৃহত্তম অংশ হলো পোশাক শিল্প। আর শিল্পের চালিকা শক্তি হচ্ছে তাতে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষ। কিন্তু এই শ্রমজীবী মানুষেরা বহুবিধ সংকটে জর্জরিত। ‘শ্রমিকদের সস্তা শ্রম-শোষণ করে আদিম পুঁজি সঞ্চয়ের কায়দায় বিপুল সম্পদ কিছু মালিকের হাতে কুক্ষিগত হলেও শ্রমিকদের জীবনমান বাড়েনি।’ উপযুক্ত পরিবেশ ও কর্মস্থলের নিরাপত্তা ইত্যাদি ন্যূনতম বিষয়েও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। উন্নততর কাজের পরিবেশ তৈরির  প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে এখনো অনেক কিছুই করা বাকি আছে। 
  
২০১২ সালে তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ড এবং ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধ্বস ও ব্যাপক প্রাণহানির পর বাংলাদেশের শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়টি দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। রানা প্লাজার ধ্বসে হাজারের বেশি শ্রমিকের প্রাণহানি মানুষের হৃদয়কে আন্দোলিত করে। শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার প্রশ্নটি সে সময় থেকেই জোরদার আন্দোলনে রূপ নেয়।

শোভন কর্ম ও উন্নত কর্মপরিবেশ প্রশ্নে জাতিসংঘের গাইডলাইন:
টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৬ সালে জাতিসংঘ ২০৩০ সালের মধ্যে শোভন কাজ ও কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছে। শুধু শোভন কাজের সহজলভ্যতা থাকলেই চলবে না। শ্রমিকদের সুরক্ষার ব্যবস্থা ও কাজের শোভন পরিবেশ থাকতে হবে। শোভন পরিবেশ কয়েকটি বিষয় ও বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পর্কিত।

প্রথমত, শোভন কাজ  ও কাজের পরিবেশ এমন হতে হবে, যাতে এটা উৎপাদনশীলতা ও সুষ্ঠু আয় নিশ্চিত করতে পারে। দ্বিতীয়ত, শোভন কাজ ও পরিবেশে নারী-পুরুষের সমান সুযোগ থাকতে হবে। তৃতীয়ত, কর্মক্ষেত্রে যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা থাকতে হবে। শোভন পরিবেশে ব্যক্তির বিকাশের সুব্যবস্থা থাকবে। এটা পরিবারের জন্য সামাজিক সুরক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। চতুর্থত, বাকস্বাধীনতা, সংগঠিত হওয়া ও তাদের জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে—এমন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ও অধিকার থাকতে হবে শোভন পরিবেশের মধ্যে।

জাতিসংঘের গাইডলাইন ও দেশের শ্রম আইন অনুযায়ী কর্মপরিবেশের উন্নতি হয়নি:
শ্রম আইন ২০০৬–এর ৫১ থেকে ৯৯ ধারাগুলোতে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা, কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তার প্রশ্নটি অনেক ক্ষেত্রে এখনো অবহেলিত থেকে গেছে। মালিকেরা শ্রম আইন বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা মানছেন না। ফলে শ্রম আইন ও বিদ্যমান কর্মপরিবেশের মধ্যে অসংগতি থেকে যাচ্ছে।

বুক বিদীর্ণ করা কষ্টের এই দু:সহ স্মৃতি কখনও ভোলা যাবেনা। ফাইল ছবিপ্রথমত, শ্রম আইনে প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য ৯.৫ কিউবিক মিটার জায়গার ব্যবস্থা, কর্মস্থল পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল ও সহনীয় তাপমাত্রা বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। বাস্তবে এটা এখনো করা হয়নি।
 
দ্বিতীয়ত, শ্রম আইনে পান করার জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, নারী ও পুরুষ শ্রমিকের জন্য আলাদা শৌচাগার রাখার কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আরও অনেক কিছু করতে হবে।

তৃতীয়ত, শ্রম আইনে প্রত্যেক শ্রমিকের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে—এমন ভারী জিনিস বহন বা উত্তোলন বা নাড়াচাড়া না করার নির্দেশনা থাকলেও তা অনুসরণ করা হয় না।

চতুর্থত, শ্রম আইনে শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপক সরঞ্জাম রাখা এবং ছয় মাস পরপর অগ্নি নির্বাপণ মহড়ার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপক সরঞ্জাম নেই ও যা আছে, তা ব্যবহারের সক্ষমতার ঘাটতি আছে। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশের জন্য প্রশস্ত রাস্তা রাখার কথা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা নেই।

পঞ্চমত, শ্রম আইনে অগ্নি দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো জরুরি প্রয়োজনে বহির্গমনের জন্য প্রত্যেক তলার সাথে সংযোগ রক্ষাকারী অন্তত একটি বিকল্প সিঁড়িসহ বাইরে যাওয়ার ব্যবস্থা থাকার কথা আছে। কোনো কক্ষ হতে বহির্গমনের পথ তালাবদ্ধ বা আটকে রাখা যাবে না। বহির্গমনের পথ বাধাগ্রস্ত বা পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। বিকল্প সিঁড়ি থাকলেও অনেক সময় বহির্গমনের পথ তালাবদ্ধ বা আটকে রাখা হয়। প্রত্যেক কারখানায় সাধারণ বহির্গমনের জন্য ব্যবহৃত পথ ব্যতীত  অগ্নিকাণ্ডকালে বহির্গমনের জন্য ব্যবহার করা যাবে—এরূপ প্রত্যেক জানালা–দরজা বা অন্য কোনো বহির্গমনে পথ স্পষ্টভাবে লাল রং দিয়ে বাংলা অক্ষরে বা অন্য কোনো সহজবোধ্যভাবে চিহ্নিত করতে হবে। অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনো বিপদের সময় স্পষ্টভাবে শ্রবণযোগ্য হুশিয়ারি সংকেত দেওয়ার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে আইনে। 

ষষ্ঠত, সচেতনতার অভাবে বা অনভ্যাসের কারণে শ্রমিকেরা ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করে। অনেক সময় পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রীও থাকে না। এই অবস্থার অবসান ঘটিয়ে প্রত্যেক শ্রমিককে সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান ও তা ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। নিয়োগকর্তাকে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ওপর নিয়মিত বাস্তব ও প্রাসঙ্গিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

সপ্তমত, শ্রম আইনে ক্ষতিপূরণ প্রদানের কথা আছে। কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আন্তর্জাতিক মানের সাথে সংগতিপূর্ণ করতে হবে। দ্রুততম সময়ে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

অষ্টমত, শ্রমিকদের চাকরির নিশ্চয়তা থাকে না। প্রতি মুহূর্তে শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। শ্রম আইনের সাথে সংগতি রেখে কর্ম থেকে ছাঁটাইয়ের দুশ্চিন্তা দূর করতে আইনের মাধ্যমে নিশ্চয়তা প্রদান করার উদ্যোগ থাকতে হবে।

নবমত, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নেই। ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার থাকতে হবে। শ্রম আদালতে শ্রম সংশ্লিষ্ট বিচারকাজ শেষ করতে অনেক সময় দীর্ঘসূত্রতা দেখা যায়। এ জন্য বিচারকাজ শেষ করতে সময় বেঁধে দিতে হবে।

কর্মপরিবেশ এখনো নারীবান্ধব নয়
কর্মক্ষেত্রে যৌন নির্যাতন ও হয়রানি এখনো নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। কিন্তু এসব প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেই। শ্রমজীবী মায়েদের সন্তানদের জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্র এখনো সেভাবে গড়ে ওঠেনি। মাতৃত্বকালিন ছুটিতে সরকারি-বেসরকারি ক্ষেত্রে এখনো বৈষম্য বিদ্যমান।

ইতিহাসের ভয়াবহ সেই দূর্ঘটনা রানা প্লাজা ধস। ফাইল ছবিমজুরি ও কর্মপরিবেশ নিয়ে মালিকদের অবস্থান পুঁজিবাদের নিয়ম ও শ্রম আইনের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়
ন্যূনতম মজুরি এখনো যৌক্তিক পর্যায়ে পৌঁছেনি। পুঁজিবাদের নিয়মে শ্রমশক্তির উৎপাদন ও পুনরুৎপাদনের খরচ হিসেবে হলেও ন্যায্য মজুরি বাবদ পর্যাপ্ত অর্থ খরচের প্রয়োজন রয়েছে। শ্রমিকদের স্বাভাবিক উৎপাদন প্রক্রিয়া ধরে রাখার স্বার্থেও এটি প্রয়োজন। কিন্তু মালিকশ্রেণি এটা মানতে রাজি নয়।

স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যয়ের প্রতি মালিকদের দৃষ্টিভঙ্গিরও কোনো পরিবর্তন হয়নি। স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যয়কে তারা বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত নয়। কিন্তু পুঁজিবাদের নিয়মেই স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যয় শুধু শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা প্রদান করে—এমনটি নয়। একই সাথে এটা শ্রমিকদের উৎপাদন ক্ষমতাও বাড়ায়। কাজের সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ, ন্যায্য মজুরি উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী রপ্তানিতে সেফটিগার্ডের ভূমিকা রাখে, শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধির হার বাড়াতে সহায়কের ভূমিকা রাখে। এ জন্য মালিকপক্ষকে ন্যায্য মজুরি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যয় বাবদ পর্যাপ্ত অর্থ খরচের প্রয়োজনের বিষয়টি অনুধাবন করতে হবে।

ন্যায্য মজুরি, কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তার উন্নয়নের বিকল্প নেই
উন্নত কর্ম পরিবেশ, কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা সুবিধা ও ন্যায্য মজুরি শ্রমিকদের বৈধ ও আইনগত অধিকার। শ্রমিকদের বর্তমান কর্মপরিবেশ ও শ্রম আইনের মধ্যে বিদ্যমান অসংগতি দূর করতে হবে। নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা মালিকরা অনুসরণ করছেন না। ঝুঁকি মূল্যায়নে তদারকি ব্যবস্থা দুর্বল। অসংখ্য শ্রমিক বেঁচে থাকার তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে এবং অনেকেই কাজ করতে গিয়ে আর ঘরে ফিরে যেতে পারছেন না। শ্রমিকদের সুরক্ষা দেওয়া ও কাজের শোভন পরিবেশ নিশ্চিত করে তাদের মানবিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য।

শ্রমিকেরা অর্থনীতির চালিকা শক্তি। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিখুঁত নিরাপত্তা এবং শ্রমবান্ধব ও নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার বিকল্প কিছু নেই।

লেখক: চিকিৎসক ও প্রাবন্ধিক

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৩৬–৩৮ শতাংশ নারী এবং শিল্প খাতে নিয়োজিত নারীদের প্রায় ৬০ শতাংশই রেডিমেড গার্মেন্ট (আরএমজি) খাতে কাজ করেন। অর্থাৎ,...
পৃথিবীর জনসংখ্যার মোট ওজনের সমান প্লাস্টিক প্রতিবছর উৎপাদিত হয় (সূত্র: আর্থডে)। যদি বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক ব্যবহারের ধারা অব্যাহত থাকে, তবে ২০৫০ সালের ভেতর ১,১০০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপাদিত হবে।...
ঢাকা শহরে প্রতিদিন উৎপন্ন প্রায় ৬৪৬ টন প্লাস্টিক বর্জ্যের মাত্র ৩৭ শতাংশ পুনর্ব্যবহার হয় বলে ওয়েস্ট কনসার্ন‑এর ২০২০ সালের গবেষণায় জানা যায়। বাকি অংশ জমা হয় ল্যান্ডফিলে, নদী-নালায় ফেলা হয়, কিংবা...
আমার মায়ের হাতে আমরা ভাইবোনেরা কখনো মার খাইনি। মায়ের তাকানোতেই আমরা বুঝে নিতাম, মা অসন্তুষ্ট হচ্ছেন। যদি‑বা না বুঝতাম, উনি তখন আমাদের ‘তুমি’ সম্বোধন করতেন। তাঁকে সেই ‘তুমি’ থেকে ‘তুই’ সম্বোধনে...
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করে হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করার অন্যতম কুশিলব মেজর মোজাফফর। এরপর চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় গোপনে দাফনের মূল পরিকল্পনাও তার;...
রাজধানীর ভাটারার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় দ্রুতগামী অজ্ঞাত এক গাড়ির ধাক্কায় সেকান্দার আলী নামে এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।
খাবার আর ওষুধসহ নানা খাতে ব্যয় বৃদ্ধিতে বিপাকে বগুড়ার মুরগির খামার ও হ্যাচারি ব্যবসায়ীরা। জেলার ৫ হাজারেরও বেশি খামার ও হ্যাচারি মধ্যে, গত ৩ বছরে বন্ধ হয়ে গেছে সাড়ে ৪ হাজার প্রতিষ্ঠান। এতে বেকার...
১১ কর্মকর্তার দায়িত্ব একজনের হাতে!
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পাশাপাশি ১১ জন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পদ রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন। অফিসের করণিক,...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর