ভারতীয় মুসলমানেরা একতরফা ভোট দেয়। তারা নির্দিষ্ট দলের ভোট ব্যাংক। এ অভিযোগ সর্বজনবিদিত। এবং এই অভিযোগটা মূলত শুরু করেছিল ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। যে দলের প্রধান নেতা নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যে তাঁর নির্বাচনী প্রচারে মুসলমানদের ‘অনুপ্রবেশকারী’, ‘একাধিক সন্তানের জন্মদাতা’, ‘কংগ্রেসের দ্বারা হিন্দুদের লুণ্ঠিত ধনসম্পদের ভবিষ্যৎ অধিকারী’সহ একাধিক অভিযোগে ভূষিত করেছেন। এটাই এখন হয়ে উঠেছে তাঁর প্রচারের প্রধান গতিমুখ। আর এটাও সত্য যে, মুসলমানেরা একদিন ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যাবে–এই ভীতি দীর্ঘদিন ধরে প্রচার করতে করতে বিজেপি ও এর পিতৃ সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস) সাধারণ হিন্দু জনমনে একটি আপাত বিশ্বাসযোগ্য ও অস্বস্তিকর স্থান তৈরি করে ফেলতে পেরেছে।
এই লেখায় আমরা একটু দেখার চেষ্টা করব ভারতীয় মুসলমানদের সম্পর্কে এই যে প্রচার, তা কতটুকু বাস্তবসম্মত? এ বিষয়ে অন্যান্য তথ্য-উপাত্তের সাথে সাথে আমরা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ফেয়াদ আলীর একটি বিস্তৃত গবেষণার সাহায্য নেব। ‘ম্যাপিং ইন্ডিয়ান মুসলিম ভোটিং বিহেভিয়ার ইন ইন্ডিয়া’ শিরোনামের এই গবেষণাপত্রটি আমেরিকারই কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস এ বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করেছে। ভারতের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার পাতাজুড়ে তা ছাপাও হয়েছে। এ ছাড়া দিল্লিকেন্দ্রিক সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেভেলপমেন্ট সোসাইটিস (সিএসডিএস)-এর লোকনীতি কর্মসূচির আওতায় গবেষণারত হিলাল আহমেদের গবেষণার তথ্য দেখার চেষ্টা করব। এই অভিযোগের সত্যতা খুঁজতে আরও অনেক সংবাদমাধ্যম কাজ করেছে ও করছে।
তবে প্রথমেই বলে নেওয়া ভালো, ভারতীয় মুসলমানেরা একতরফা ভোট দেয়—এই দাবি বা অভিযোগের কোনো সারবত্তা নেই। এমনকি ১৯৪৭-এ ভারত বিভাগ পূর্ববর্তী সময়ে বহু মুসলমান মুসলিম লীগের সাথে নয়, কংগ্রেস, কমিউনিস্ট ও অন্যান্য দলের সাথে ছিলেন। কিন্তু ব্রিটিশদের পাশাপাশি কংগ্রেসও সে সময় মুসলিম লীগকে মুসলমানদের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে মেনে নেওয়ায় খান আব্দুল গাফফার খান, মওলানা আবুল কালাম আজাদসহ অনেক বিশিষ্ট মুসলমান নেতার কথা কেউ ধর্তব্যের মধ্যে আনেননি। ফলে যে মুসলমানেরা ভারতে থেকে গেছেন, এখন যাদের সংখ্যা প্রায় ২০ কোটি, তাঁদের গত ৭৭ বছর ধরে কথার খোঁচা খাওয়ার পাশাপাশি ‘ভাগের পাকিস্তান’ বুঝে পাওয়ার অভিযোগ তুলে বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে।
ভারতে এই মুহূর্তে ১৪০ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ১৪ শতাংশের মতো মুসলমান। ২০১১ সালে ভারতের আদমশুমারি অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ৯৭ শতাংশ মুসলমানের বাস লাক্ষাদ্বীপে। কেন্দ্রশাসিত এই সাগর-দ্বীপের মোট জনসংখ্যা মাত্র ১ লাখ। আর এদের অধিকাংশ মাছ ধরা পেশার সাথে জড়িত। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই দ্বীপ সফর করে সেখানে মালদ্বীপের বিকল্প পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন। যেখানে ৯৭ শতাংশ মানুষই ধর্মীয় পরিচয়ে মুসলমান, সেখানে কোটি কোটি রুপি ব্যয়ে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা কতটা যৌক্তিক বা নিরাপদ হবে, সে প্রশ্ন তো ওঠেনি। তাহলে কি বিজেপির মুসলমান বিদ্বেষী-প্রচার অনেকটা নাসিরুদ্দিন হোজ্জার সেই বিড়াল আর মাংসের মতো হয়ে গেল?
একই অবস্থা জম্মু ও কাশ্মীরের। এই রাজ্যের বিশেষ সুবিধা (সংবিধানের ৩৭০ ধারা) কেড়ে নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মর্যাদা রহিত করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রূপান্তর করা হয়েছে। এর বড় কারণ, এ রাজ্যের ৬৮ শতাংশ মানুষের ধর্মীয় পরিচয় ‘মুসলমান’। অথচ সেখানে পর্যটনসহ নানা ব্যবসার বিপুল সম্ভাবনা দেখছে মোদি সরকার। এর বাইরে সংখ্যার বিচারে মুসলমান জনগোষ্ঠীর আধিক্য আছে পর্যায়ক্রমে আছে আসাম (৩৪%), কেরালা (২৭%), পশ্চিমবঙ্গ (২৭%), উত্তর প্রদেশ (১৯%), বিহার (১৭%), ঝাড়খন্ড (১৫%), উত্তরাখণ্ড (১৪%), দিল্লি ও কর্ণাটক (১৩%), মহারাষ্ট্র (১২%) ও মধ্যপ্রদেশে (১০%)। অন্য রাজ্যের হিসাব আর নাই-বা উল্লেখ করলাম। এই রাজ্যগুলোতে মুসলমান ভোটারেরা আসলে কাকে ভোট দেয়। এক কথায় উত্তর দিতে হলে বলতে হয়, বিজেপির উত্থান ও মুসলমান-বিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের পর থেকে বিজেপি বিরোধী দলগুলোকে ভোট দেয়। তবে কোনোভাবেই তা একক কোনো দলকে নয়। ২০১৯-এর পর তাদের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। সেটা হলো: বিজেপিকে হারানোর সম্ভাবনা আছে যে দলের বা প্রার্থীর, সেই দল বা প্রার্থীকে ভোট দেওয়া। তা-ও সবাই না, সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ।
সাংবাদিক স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য গত ১১ মার্চ দ্য ডিপ্লোম্যাটে পশ্চিমবঙ্গের দুটি লোকসভা আসনের উদাহরণ তুলে ধরেছেন। মালদা উত্তর সংসদীয় আসনে মুসলমান ভোটারের সংখ্যা ৪৫ শতাংশ। সবাই জানে এখান থেকে চিরকাল জিতে এসেছেন কংগ্রেসের প্রয়াত নেতা এবিএ গণি খান চৌধুরী। ২০১৯-এ এই আসনে কংগ্রেসের ইশা খান চৌধুরী, তৃণমূল কংগ্রেসের মৌসম নূর, সিপিআই (এম)-এর বিশ্বনাথ ঘোষ ও বিজেপির খগেন মুর্মু প্রার্থী ছিলেন। এখানে ৩৭.৫৯ শতাংশ ভোট পেয়ে জিতে যান বিজেপি প্রার্থী।
একই ঘটনা ঘটে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে। এখানে ভোটারদের ৪২ শতাংশ মুসলমান। ২০১৯-এ আসনটিতে মাত্র ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন বিজেপি প্রার্থী। স্নিগ্ধেন্দু লিখছেন, মুসলমানদের ভোট তিনটি অসাম্প্রদায়িক দলের প্রার্থীদের মধ্যে ভাগ হয়ে যাওয়া এবং ধর্মীয় মেরুকরণের মাধ্যমে হিন্দুভোট একজোট করতে পারার কারণেই এই দুই আসনে বিজেপি জিতে গেছে। এই দুটি উদাহরণ থেকে পরিষ্কার যে, মুসলমানদের ভোট একতরফা পড়ার চেয়ে মেরুকরণের সাফল্যে হিন্দুভোটই একজন প্রার্থীর দিকে পড়েছে।
এই দুই উদাহরণের আরেকটি দিক আছে। মালদা উত্তর বা রায়গঞ্জের মতো যেসব আসনে মুসলমান ভোটারের সংখ্যা একটু বেশি, সেখানে মুসলমান প্রার্থী দিয়ে হারছে অসাম্প্রদায়িক দলগুলো। কারণ, সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুভোট তখন দল নয় প্রার্থীর ধর্মীয় পরিচয়ের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে। এ বিষয়টি বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বুঝতে পেরেছে। এ কারণে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কৌশল হিসেবে তারা মুসলমান প্রার্থীর সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। তারা বুঝেছে, মুসলমান প্রার্থী তাঁর ধর্মের লোকদের ভোট একজোট করে নিজের বাক্সে ফেলতে যেমন ব্যর্থ, তেমনি হিন্দু ভোটারদের বিরাগভাজন করে তাঁদের বিরুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছে। তাই ইচ্ছা করেই অনেক জায়গায় মুসলমান নেতাদের প্রার্থী করেনি বিজেপি-বিরোধী দলগুলো। মুসলমান নেতাদের প্রার্থী না করার অভিযোগ সরাসরি শুনতে হয়েছে কর্ণাটকের কংগ্রেস নেতা ও উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারকে। তিনি সরাসরি উত্তর দেননি। শুধু বলেছেন, তাদের রাজ্যসভায় পাঠানোর সুযোগ আছে। তাঁরা সেটা করবেন।
স্বাধীনতার পর থেকে মুসলমানদের ভোটের বড় অংশ পেয়েছে কংগ্রেস। এখন অনেক আঞ্চলিক দল এই ভোটে ভাগ বসিয়েছে। যেমন উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টি, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস, বিহারে রাষ্ট্রীয় জনতা দল ও জেডি (ইউ), তামিলনাড়ুতে ডিএমকে ও এডিএমকে। এ ছাড়া কংগ্রেস ও বাম দলগুলোর বাইরে এমনকি বিজেপিও মুসলমানদের ভোট পেয়ে থাকে। কিছুদিন আগে রাজস্থানে নরেন্দ্র মোদির মুসলিম-বিদ্বেষী ভাষণের প্রতিবাদ করায় ওই রাজ্যের সংখ্যালঘু সেলের নেতা উসমান গণিকে বহিষ্কার করা হয়। এতে প্রমাণ হয়, ওই দলের প্রতি কিছু মুসলমানের সমর্থন আছে।
তাহলে একটি প্রশ্ন সহজেই উঠে আসে, ভারতীয় মুসলমানেরা কোনো দলকে একচেটিয়া ভোট দেয় না কেন? এমনকি বিজেপির বিরুদ্ধে সম্ভাবনাময় প্রার্থীকেও নয়। এর উত্তর লুকিয়ে আছে ভারতীয় মুসলমান সমাজের জাতপাতের বিভাজনের মধ্যে। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য, হিন্দু সমাজের মতো মুসলমানেরাও উচ্চ-নীচ ভেদাভেদে বহুধা বিভক্ত। ফেয়াদ আলী তাঁর গবেষণায় লিখছেন, মুসলমানেরা মূলত তিন ভাগে বিভক্ত–আশরাফ, আজলাফ ও আরজাল। আশরাফ হলো যারা নিজেদের আরব বা মধ্য এশিয়া থেকে ভারতে আগত বলে দাবি করে। যেমন সৈয়দ, শেখ, পাঠান, মুঘল। আজলাম হচ্ছে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী এবং আরজালরা হলো দলিত। এই বিভক্তি যে আছে, তার বড় প্রমাণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি চাকরিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে আজলাফ ও আরজালদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা। আর মুসলমানদের মধ্যে আশরাফদের সংখ্যা ১০ শতাংশের বেশি হবে না। এরা বংশ পরম্পরায় আর্থিকভাবে স্বচ্ছল এবং শিক্ষাদীক্ষায় উন্নত। বৃহত্তর সমাজে তারাই মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করে বা করার দাবি করে।
ফেয়াদ আলীর গবেষণা অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশে এক জরিপে দেখা গেছে, আশরাফদের কবরস্থানে আজলাফ বা আরজালরা দাফন করতে পারে না। এমনকি স্কুলে দুপুরের খাওয়া দিলে (মিড ডে মিল) আশরাফ পরিবারের সন্তানেরা কখনোই আজলাফ ও আরজালদের পাশে বসে না। এই জরিপের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, দলিত নন–এমন ২১ শতাংশ মুসলমান জানিয়েছেন, তাঁরা কখনো দলিত মুসলমানদের বাড়িতে যাননি। এমন উদাহরণ হয়তো বাংলার গ্রামাঞ্চলেও পাওয়া যেতে পারে। ফলে এতদিন যে অস্পৃশ্যতার কথা বর্ণাশ্রয়ী হিন্দু সমাজের মধ্যকার নেতিবাচক বিষয় বলে শোনা যেত, তা মুসলমানদের মধ্যেও প্রকট। এ কারণে আশরাফ এবং আজলাফ ও আরজালদের পছন্দের দল ও প্রার্থীর মধ্যে পার্থক্য সব সময় ছিল, এখনো আছে। ধর্ম তাদের এক রাখতে পারেনি। বর্ণভিত্তিক শ্রেণি চরিত্রের দাপটের কাছে ধর্মও পরাভূত।
১৯৯০ সালে বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং সরকার মণ্ডল কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশের পর ভারতে ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে জাতিগত পরিচয়ের বিষয়টি উঠে আসতে থাকে। এটা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমিত ছিল না, মুসলমানদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠরা অ-আশরাফ জোট তৈরির দিকে নজর দেয়। মুসলমান সমাজের প্রতিনিধিত্ব করার ঠিকাদারি আশরাফদের হাত থেকে কেড়ে নিতে গড়ে ওঠে পসমান্দা। পসমান্দা ফারসি শব্দ, যার অর্থ পিছিয়ে পড়া। মুসলমান সমাজে এই বৈষম্যের বিষয়টি ঠিকই ধরা পড়ে আরএসএস-এর মাইক্রোস্কোপে। তারা এটা নিয়ে কাজ শুরু করে দেয়। অনেক আগে থেকেই মুসলমানদের মধ্যে শিয়া ও আহমদিয়ারা বিজেপির দিকে ঝুঁকে ছিল। কারণ, গরিষ্ঠ সুন্নী মুসলমানদের দাপট। সুন্নীদের মধ্যেও দেওবন্ধী ও বেরলভীদের ভোটের পছন্দ আবার আলাদা। এই চিত্র কিন্তু ভারতের সর্বত্র।
নরেন্দ্র মোদি গড়ে মুসলমানদের ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়ে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ব্যাপারে বিদ্বেষাত্মক বার্তা দিচ্ছেন, যা ভারতের নির্বাচনী আইনে রীতিমতো অপরাধ। কিন্তু এর জন্য ভারতীয় আশরাফরা কম দায়ী নন। নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য তাঁরা সব সময় বলে থাকেন, তাঁদের পূর্ব পুরুষেরা সৌদি আরব, ইয়েমেন, ইরান, ইরাক, মধ্য এশিয়া, এমনকি আফগানিস্তান থেকে এসেছেন। ধর্মীয় সমাজ কাঠামোয় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি যদি তাঁদের বহিরাগত পরিচয় হয়ে থাকে, তাহলে তার সুযোগ অন্যরা নেবেই। এ জন্য আরএসএস দীর্ঘদিন আজলাফ ও আরজালদের মধ্যে কাজ করছে। তাদের ‘ঘর ওয়াপসি’ বা নিজের ঘরে ফেরত নেওয়ার কার্যক্রমের অধীনে বেশ কিছু দলিত মুসলমানকে ধর্মন্তরিত করেছে। তবে তারা জোর দিচ্ছে আশরাফদের বিপক্ষে এদের সংগঠিত করার ওপর। মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের মতো প্রতিষ্ঠান তারা ইতিমধ্যে তৈরি করে ফেলেছে। যদিও বিজেপির মুসলমান বিদ্বেষের প্রথম বলি কিন্তু আশরাফরা নন, এই গরির আজলাফ ও আরজালরা।
তারপরও গড়ে উঠেছে রাষ্ট্রবাদী মুসলিম পসমন্দা মাহাজ, সুফি ইসলামিক বোর্ড, আহমদিয়া মুসলিম ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন, ইন্ডিয়ান মাইনরিটিজ ফাউন্ডেশনের মতো সংগঠন। উচ্চ বংশের গরিমা নিয়ে যারা এতদিন মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করেছে, এরা তাদের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। এর জন্য সুন্নী আধিপত্যবাদী মুসলমান সমাজেরও দায় আছে। এটাকে না দেখে শুধু অন্য দিকে আঙুল তুললে কোনো সমাধান আসবে না। মুসলমানেরা প্রকৃত ভারতীয় বলেই তারা তাদের পছন্দমতো দল বা প্রার্থীকে ভোট দেয়। এটা প্রাজ্ঞতার লক্ষণ। বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব আইন তাদের ভয়ের মধ্যে রাখলেও শেষ করে দিতে পারবে না।
আরএসএস-এর একজন তাত্ত্বিক নেতা লিখেছিলেন, বিজেপিকে চিরকাল ভারতের ক্ষমতায় রাখা তাদের লক্ষ্য নয়। তাঁরা শুধু খেলার নিয়মটা বদলে দিতে চান। বিজেপির মতো একটি সর্বভারতীয় দল ২০১৯ থেকে লোকসভায় কোনো মুসলমান প্রার্থী না দেওয়াটা ছিল সেই খেলা শুরুর একটা অংশ মাত্র। বিজেপি নেতা ও আসামে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা ঘোষণাই দিয়েছেন, মিঁয়াদের ভোট তাঁর দরকার নেই। অথচ ওই রাজ্যে মুসলমানদের সংখ্যা ৩৪ শতাংশ। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ৮০: ২০ (আদপে এটা ৮৬:১৪) নিয়মে খেলতে চান। অর্থাৎ, ভারতের মুসলমান বা অন্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে তিনি ধর্তব্যের মধ্যেই আনতে চান না। এই রকম এক বাস্তবতাকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে ভারতের অন্য রাজনৈতিক দলগুলো বিজেপিকে অনুসরণ করতে শুরু করেছে। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে ৫৪৩ সদস্যের লোকসভায় মুসলমান এমপির সংখ্যা হবে গুটিকয়েক, যা ভারতের মতো একটি বহুত্ববাদী দেশের জন্য ক্ষতি শুধু নয়, বিপজ্জনকও বটে।
লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, ডিজিটাল বিভাগ, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন


বিতর্কিত কমিশন, ভরপুর আশঙ্কা
কাকে ভোট দিলেন মোদি?
নির্বাচনকে হিন্দু–মুসলিম সংঘাতে পরিণত করতে চান মোদি
