যুদ্ধের তো প্রায় দুই বছর হয়ে গেল, ঘোষণাটা আসতে কি একটু দেরি হয়ে গেল না?
জুলাইয়ের শেষ আর আগস্টের শুরুতে সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য আর কানাডার ঘোষণা দেখে মনে প্রশ্নটা জাগেনি, এমন মানুষ সম্ভবত খুব বেশি পাওয়া যাবে না।
২০২৩-এর ৭ অক্টোবর সশস্ত্রগোষ্ঠী হামাসের হামলার জবাবে ইসরায়েল যে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে, লাশের পাহাড় তৈরি করে ফেলা এক বছর দশ মাস পর সেটাকে আর গণহত্যা না বলার উপায় নেই। ৬২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ ঝরেছে, যার মধ্যে প্রায় ২০ হাজারই নিষ্পাপ শিশু। এলাকা ছেড়ে পালানো ফিলিস্তিনির সংখ্যা জাতিসংঘের অনুমানেই ২০ লাখের মতো। এতকিছুর পর, এত সময় পেরিয়ে অবশেষে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডার মনে হলো কিছু একটা না করে থাকা যাচ্ছে না!
তারা একটা বার্তা পৌঁছাতে চায় বিশ্বে। আগামী মাসে হতে যাওয়া জাতিসংঘের ৮০তম অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার ইচ্ছা জানানো বিবৃতি সেই বার্তার মাধ্যম। যদিও ফ্রান্সের বাইরে বাকি দুই দেশের স্বীকৃতির পরিকল্পনায় ‘অ্যাস্টেরিক’ আছে, কিছু শর্ত পূরণ হলেই কেবল ফিলিস্তিন তাদের কাছ থেকে স্বীকৃতি পাবে।
জাতিসংঘের অধিবেশনের আগে এমন তৎপরতা গত বছরও দেখা গেছে। ইউরোপের তিন দেশ স্পেন, নরওয়ে ও আয়ারল্যান্ড তখন ফিলিস্তিনকে স্বীকার করে নিয়েছিল। এবার ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য আর কানাডার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়াও একই ঘোষণা দিয়েছে। বিবৃতিগুলো এসেছেও একেবারে পিঠাপিঠি– ২৫ জুলাই ফ্রান্স, জুলাইয়ের শেষ দুদিনে যুক্তরাজ্য ও কানাডা, আর ৮ আগস্ট এল অস্ট্রেলিয়ার ঘোষণা।
ঘোষণাগুলোকে খাটো করে দেখার উপায় নেই। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স আর কানাডার ঘোষণা–তারা বিশ্বের শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট ‘জি-৭’-এর সদস্য কিনা! ফিলিস্তিন এরই মধ্যে জাতিসংঘের ১৯৩ দেশের মধ্যে ১৪৭টিরই স্বীকৃতি পেলেও এর কোনোটি জি-৭ জোটভুক্ত দেশ নয়। এখন একসঙ্গে তিনটি দেশই স্বীকৃতি দিতে চাইছে! চুপ করে থাকার বদলে ‘ব্রাক্ষ্মণসমাজে’র কেউ আওয়াজ তুলছে, সে তৃপ্তি না চাইলেও চলে আসে বটে!
এতদিন ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের পুঁজি ছিল শুধু সাধারণ মানুষের আবেগ। গাজায় যুদ্ধের শেষ দেখতে চেয়ে মিছিল বিশ্বের কোথায় হয়নি! ঢাকায়, সিডনিতে, লন্ডনে...। যুদ্ধে ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক যুক্তরাষ্ট্রেই মানুষ স্লোগান তুলেছে। মানুষ রাস্তায় নেমেছে খোদ ইসরায়েলেও– শুরুতে হামাসের হাতে বন্দী ইসরায়েলিদের মুক্তির আবেদন নিয়ে, পরে যুদ্ধটারই শেষ টানার দাবিতে। কিন্তু সাধারণ মানুষের আবেগের প্রকাশ এক ব্যাপার, একটা দেশের সরকারের ঘোষণা আরেক।
ফ্রান্স-যুক্তরাজ্য-কানাডা-অস্ট্রেলিয়ার ঘোষণা দেখে তাই আশা জাগে– হাজারো লাশ কূটনীতির আবেগহীন টেবিলেও তাহলে টোকা দিয়েছে! সংশয়ও অবশ্য আশার হাত ধরেই হাজির হয়ে যায়। আসলেই গাজাবাসীকে বাঁচানোর তাগিদ থেকে এ বিবৃতি? নাকি মানবাধিকারের বয়ানের এই ঘোমটার আড়ালে চলছে ভূরাজনৈতিক কূটনীতিতে যার যার লাভ-ক্ষতির হিসাবনিকাশ?
আর প্রসঙ্গ যখন ফিলিস্তিনের লাভ-ক্ষতির, সেখানে তো আরও বেশি প্রাসঙ্গিক প্রশ্নটা থাকছেই– এসব ঘোষণায় আদৌ কোনো লাভ হবে ফিলিস্তিনের, বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্র এসবের বিপক্ষে?
উত্তরটা নির্ভর করছে লাভ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে, তার ওপর। যদি আজকালের মধ্যেই গাজায় যুদ্ধ বন্ধ হওয়া বোঝানো হয়, তাহলে বলে দেওয়া যায়, লাভ হবে না। কানাডা, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য– তিনটি দেশই অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র। ইসরায়েলও তাদের কাছের। ইসরায়েলের আর্থিক-সামরিক ক্ষতি হয়– এমন কোনো ঘোষণা তো এই তিন দেশ দেয়নি! যে ঘোষণাটা দিয়েছে, তা অনেকটা এরকম যে– গাজা আর পশ্চিম তীর মিলিয়ে যে মানুষগুলো থাকেন, তাঁরা যে ফিলিস্তিনি আর দেশটা যে ফিলিস্তিন, সেটা এই তিন দেশ মেনে নিচ্ছে, বা কিছু শর্ত পূরণ হলে নেবে। নিপীড়কের কোনো ক্ষতির ব্যবস্থা না করে শুধু নিপীড়িত ফিলিস্তিনকে একটা দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তো এ যুদ্ধ বন্ধ করা যাবে না! এই যুদ্ধ বন্ধ হবে না, যতক্ষণ না ইসরায়েল সেটা চাইবে। আরেকটু আগ বাড়িয়ে বললে, যতক্ষণ না আমেরিকা সেটা চাইবে।
ইসরায়েল সেটা চায় না। ইসরায়েলের কিছু মানুষ চাইতে পারে, তাদের প্রগতিশীল দলগুলো চাইতে পারে, এমনকি তাদের সেনাবাহিনীর সাবেক অনেক কর্মকর্তাও হয়তো চান, কিন্তু ধর্মভিত্তিক অতি ডানপন্থী দল লিকুদ পার্টি এবং তাদের নেতা ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কোনোভাবেই তা চান না। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হতে দেখতে না চাওয়া লিকুদ পার্টির কৌশল, ইহুদিবাদের ধর্মাশ্রিত রাজনীতি তাদের ‘ক্লোরোফর্ম’। আর এই যুদ্ধে ইসরায়েল বড় গলায় বলার মতো সাফল্য পাওয়ার ওপর যাঁর গদিতে টিকে থাকা নির্ভরশীল, পরাজয়ে (পড়ুন জয় ছাড়া শান্তি) এমনকি লিকুদ পার্টির নেতৃত্বে থাকাই হতে পারে মুশকিল, সেই নেতানিয়াহুর এই যুদ্ধের শেষ টানতে চাওয়ার কথাও নয়। গাজায় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ঘৃণা কুড়ানো কিন্তু গাজার দখল আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নিতে না পারা এই অবস্থায় তো নয়ই! সে কারণে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডার বিবৃতি দেখে ইসরায়েল তা-ই করেছে, যা তাদের করার কথা– ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান। দাবিও অনুমিত, এই তিন দেশের ঘোষণা ইসরায়েলের চোখে হামাসের জন্য পুরস্কার।
ইসরায়েল যেহেতু চায় না, যুক্তরাষ্ট্রের–বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প চেয়ারে বসার পর থেকে দৃশ্যত ‘ইসরায়েল যেহেতু করেছে, তাহলে ঠিকই করেছে’ নীতিতে চলা যুক্তরাষ্ট্রের কি তা চাওয়ার কোনো কারণ আছে?

২০১৬ সালে প্রথম দফায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার এক বছরের মাথায় বিরোধপূর্ণ জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মার্কিন দূতাবাসই তেল আভিভ থেকে জেরুসালেমে নিয়ে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। এবার দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের সমর্থনে তিনি আরেক কাঠি সরেস। গাজা অঞ্চল নিয়ে তাঁর ভাবনা বুঝতে বেশি দূর যাওয়ার দরকার তো নেই! ফেব্রুয়ারিতে চেয়ারে বসার পরই ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, গাজা অঞ্চলকে গুঁড়িয়ে নতুন করে গড়ে তোলা হবে ‘রিভিয়েরা অব দ্য মিডল ইস্ট’ হিসেবে। সে জন্য গাজার মানুষকে জোর করে বাড়িঘর থেকে বের করে দিতে হবে? তাতে ট্রাম্পের কিছু আসে-যায় বলে মনে হলো না! তাঁর ‘রিভিয়েরা’র পরিকল্পনার স্বার্থে গাজা থেকে উচ্ছেদ হওয়া মানুষকে ‘সাময়িকভাবে’ জায়গা দিতে জর্ডান আর মিশরকে প্রস্তাবও দিয়েছেন।
পরিকল্পনাটা জর্ডান-মিশরসহ সৌদি আরব, ইউরোপের কিছু দেশ এবং জাতিসংঘের সমালোচনা কুড়িয়েছে বটে, জাতিসংঘ এই পরিকল্পনাকে বলছে ‘জাতিগত নিধন’। পরিকল্পনার বাস্তবায়ন তাই জটিলই হবে। চাইলে এটিকে ট্রাম্পের ‘খেয়ালি’ আরেক প্রস্তাবও ধরে নিতে পারেন। তবে উড়িয়ে কি দিতে পারেন? প্রথম দফায় নির্বাচিত হওয়ার আগে মেক্সিকো সীমান্তে মেক্সিকোরই অর্থে সীমানা নির্মাণ, দুই দফায় অভিবাসীদের নিয়ে কৌশল, কিংবা এবার ট্যারিফ নিয়ে তোলপাড়... উদাহরণগুলো বলে, ট্রাম্পের ‘হেঁয়ালি’ মনে হওয়া অনেক প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত আর বেখেয়াল মনে হয়নি! গাজা নিয়ে পরিকল্পনাও যে তেমন কিছু নয়, কে বলবে?
ইসরায়েলও গাজা খালি করার দিকেই এগোচ্ছে। কদিন আগে নেতানিয়াহুর গাজা দখলের পরিকল্পনায় অনুমোদনের ঘোষণা, আর ট্রাম্পের গাজাকে ঘিরে ব্যবসায়ের পরিকল্পনা মিলিয়ে দেখুন, একই রসুনেরই দুটি আলাদা কোষের সঙ্গে মিল পেতে পারেন।
শুধু ট্রাম্পকে দিয়েই-বা যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের সম্পর্ক বিচার করা কেন! এদিকে সৌদি আরবের নেতৃত্বে সুন্নি মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর জোটের সঙ্গে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে বছরের পর বছর জ্বালানির ব্যবসা করছে আমেরিকা, সামরিক সহায়তার মুখোশে অস্ত্রের ব্যবসাও চলছে। ওদিকে ইসরায়েলের সামরিক ও গোয়েন্দাভিত্তিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যকে রাখছে ব্যতিব্যস্ত। ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডে’র মাধ্যমে একের পর এক নিজেদের ‘মিত্র’ আরব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক জোরদার করে মার্কিন সীমানাচিহ্নহীন সাম্রাজ্য বাড়ানোর কূটনীতিও চলছে নিরন্তর। আর ইসরায়েলের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এক পরিকল্পনা তো সেই ষাটের দশক থেকেই পর্দার আড়ালে প্রাসঙ্গিক–বেন গুরিয়ন ক্যানেল!
মধ্যপ্রাচ্যে সুয়েজ খাল আছে বটে, তবে সেটার নিয়ন্ত্রণ মিশরের হাতে। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মালিকানাধীন এই খালের নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানা পঞ্চাশের দশকে মিশরের হাতে চলে যাওয়ার পর কয়েক দফা যুদ্ধের কারণে বন্ধ থেকেছে সুয়েজ খাল, আরব দেশগুলোর বাধার মুখে তখন ইসরায়েল বারবার পণ্য আনা-নেওয়ায় পড়েছে ঝামেলার মুখে। সুয়েজ খালের বিকল্প হিসেবে ইসরায়েলের ‘জাতির পিতা’ ও প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন গুরিয়নের নামে খাল খননের পরিকল্পনাও সে সময়েরই। উদ্দেশ্য, যাতে ইসরায়েলকে কারও মুখাপেক্ষী হতে না হয়। মাঝের বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে যতই আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের ক্রমোন্নতি হোক, সুয়েজ খাল ইসরায়েলের জন্য তবু তো ‘পরহস্তে ধন’ই!

তা এই বেন গুরিয়ন ক্যানেলের ২৫৭ কিলোমিটারের প্রস্তাবিত পথের ম্যাপটা দেখুন, গাজায় একের পর এক যুদ্ধের প্রাসঙ্গিকতা চোখে পড়বে। লোহিত সাগরের সঙ্গে ভূমধ্যসাগরের সংযোগ তৈরি করা সে খালের ম্যাপে ইসরায়েলের বন্দরনগরী এইলাত থেকে নেগেভ মরুভূমি ও নেগেভ পর্বত ভেদ করে ভূমধ্যসাগরে যুক্ত হওয়ার যে পথ, তার শেষভাগে গাজা। খালটা প্রাথমিকভাবে গাজার পাশ দিয়ে যাবে বলে পরিকল্পনায় রাখা, তবে সেটা গাজার মধ্য দিয়েও যেতে পারে বলে ধারণা। সেটার জন্য গাজার দখল তো লাগবে! এত বছরে ফিলিস্তিনের দুই অঞ্চলের মধ্যে পশ্চিম তীরে মূলত উগ্রবাদী দখলদারদের দিয়ে ফিলিস্তিনিদের হটানোর চেষ্টার বিপরীতে ইসরায়েল গাজায় কেন নিয়মিত বোমা আর বাহিনী দিয়ে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে, তা বুঝতে সম্ভবত বেন গুরিয়ন খালের প্রস্তাবিত ম্যাপে খেয়াল রাখলেই চলে।
এই পুরো পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র কোথায়?
বছরে প্রায় ৩৮০ কোটি ডলার খরচ–বা বিনিয়োগ করে ইসরায়েলকে নিজেদের সবচেয়ে বড় মিত্র বানিয়ে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা, ইসরায়েলের মাধ্যমে বেন গুরিয়ন খালের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে। ক্রমেই ‘চীন বনাম যুক্তরাষ্ট্র’ দ্বৈরথে বিভক্ত হতে থাকা বিশ্ব অর্থনীতিতে চীন যেখানে সুয়েজ খালকে ঘিরে আরব দেশগুলোতে বন্দর, রেল ও সড়ক নির্মাণ করে করে তাদের বেল্টস অ্যান্ড রোডস ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) প্রকল্পের আওতা বাড়িয়ে চলেছে, শুধু আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন আর সামরিক ও বাণিজ্য চুক্তি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকা সহজ হওয়ার তো কথা নয়! তাদের পাল্টা চাল? বেন গুরিয়ন খাল। ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকায় চীনের সেখানে ঢোকা সহজ হবে না, আর সৌদি আরব-আমিরাত-মিশর-জর্ডানসহ আরব দেশগুলোকে এই খাল ব্যবহারে বাধ্য করার জন্য তো যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বাণিজ্যিক চুক্তির শর্তই যথেষ্ট!
যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন খাল দরকার, বেন গুরিয়ন খালের জন্য গাজা দরকার। ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও যে যুদ্ধ বন্ধ চায় না–বা এবার কোনোভাবে এই যুদ্ধ বন্ধ হয়ে গেলেও গাজা যে মুক্তি পাবে না বলে শঙ্কা থেকে যায়, গাজায় ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞের চিত্রও যে ওয়াশিংটন কাঠের চশমায় দেখে, তার নেপথ্যের কারণ বুঝতে কষ্ট হয় না।
প্রশ্নোত্তরের ফ্লো-চার্ট তাহলে আবার প্রথম প্রশ্নটায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে চায় না, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসায়িক-সামরিক-কূটনৈতিক জোটে আবদ্ধ যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ফ্রান্স তাহলে কেন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে চায়? এই স্বীকৃতি ফিলিস্তিনের জন্য আদৌ কোনো অর্থ বহন করবে কি? নাকি ইউরোপের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নিজেদের একটা স্বতন্ত্র্য স্বর হাজির করতে চাইছে এর মধ্য দিয়ে?
লেখক: সাংবাদিক
আগামীকাল দ্বিতীয় পর্ব: ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইউরোপ কি তবে আমেরিকার বিরুদ্ধে, কেন?
[এই মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পাদকীয় নীতিমালার কোনো সম্পর্ক নেই।]


ফ্রান্স-যুক্তরাজ্যের পর এবার ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা কানাডার
