মার্কিন সরকারের বার্তা নিয়ে জাতীয় পার্টির কাছে পিটার হাস 

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২৩, ০৪:২১ পিএম

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মার্কিন সরকারের বার্তা জাতীয় পার্টির নেতাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। সোমবার দুপুরে রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে মার্কিন সরকারের চিঠি জাতীয় পার্টিকে পৌছে দেন তিনি।  

পরে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু সাংবাদিকদের বলেন, ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস আজ এসেছিলেন চিঠি নিয়ে। এটা তিনি পার্টির চেয়ারম্যানকে দিতে এসেছিলেন। উনি বললেন একই চিঠি আরও তিনটি দলকে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিকে। সেই চিঠির বিষয় হলো, আমেরিকা সরকার বাংলাদেশে একটি ফ্রি, ফেয়ার ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়। প্রায় ৪০ মিনিট আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।’ 

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য উদ্যোগ নিতে আমেরিকাকে অনুরোধ করা হয়েছে কি না—জানতে চাইলে চুন্নু বলেন, ‘আমরা মনে করি না আমেরিকাকে আমরা জানাব, তারা ব্যবস্থা নেবে। এটা তো আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করাটা আমাদের দাবি, জনগণের দাবি। এটা নির্বাচন কমিশন করবে। আর এতে সরকার সহযোগিতা করবে।’

জাতীয় পার্টির মহাসচিব আরও বলেন, ‘সরকারের কাছে আমাদের চেয়ারম্যান বারবার বলেছেন যে, একটি ফেয়ার ইলেকশনের অবস্থা যদি তৈরি হয়, অন্য দলগুলোও যদি আসে, তাহলে জাতীয় পার্টিও নির্বাচনে যাওয়ার কথা চিন্তা করবে। আমরা কিন্তু এখনো বলিনি। নির্বাচনের প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছি। কিন্তু এতে যাব, কি যাব না, কোনোটাই কিন্তু আমরা এখনো বলিনি। কারণ, আমরা এখনো অপেক্ষা করছি যে সরকার ভোটের পরিবেশ তৈরি করবে।’

‘আমেরিকা বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী’ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক আছে। শুভাকাঙ্খি হিসেবে ফেয়ার ইলেকশন তারা চায়। এটা চাইতেই পারেন। কিন্তু এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। উনি একটাই কথা বলেছেন যে, তাদের সরকার চায় এখানে একটি ফেয়ার নির্বাচন হোক।’

নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে জাতীয় পার্টির সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে চুন্নু বলেন, ‘আগামীকাল আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিভিন্ন জেলার নেতারা আসবেন। নির্বাচন নিয়ে তাদের কথা আমরা শুনব। তারপর সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী বৈঠক ডাকা হবে। সেখানে নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

জাতীয় পার্টি নির্বাচনে প্রস্তুত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রাইমারি কাজ করা আছে। নির্বাচনে যাব কি না, সেটা নির্ভর করবে দলীয় নেতা–কর্মীরা কি বলেন, সর্বোচ্চ ফোরাম কি বলে, আর নির্বাচনের পরিবেশটা আছে কি না, সেটার ওপর।’

‘উপনির্বাচনের অভিজ্ঞতা খুব খারাপ’

সম্প্রতি শেষ হওয়া উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির অভিজ্ঞতা অত্যন্ত খারাপ বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি বলেন, ‘উপনির্বাচনের অভিজ্ঞতা খুব খারাপ। এগুলোও আলোচনা হবে। এজন্যই তো সুষ্ঠু পরিবেশের কথা বলছি।’

চুন্নু বলেন, ‘সবশেষ যে দুটি উপনির্বাচন, তাতে আমাদের প্রার্থী পাস করবে এটা আশা করি নাই। কিন্তু সেখানেও কি সিল মারার দরকার ছিল। এর আগের গুলোতেও আমাদের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। এজন্যই আমরা নেতা–কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে তারপর সিদ্ধান্ত নেব।’ 

সুষ্ঠু নির্বাচন চাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে যদি আন্তরিকতা থাকে, যারা ক্ষমতায় তারা যদি চান তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। সাংবিধানিক গণতন্ত্রে নির্বাচন ছাড়া কোনো পথ নাই। আমি সংসদেও প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।’

ভোটের রাজনীতিতে বরাবরই আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে আসছে জাতীয় পার্টি। বিএনপিহীন জাতীয় সংসদে দলটি পরপর দুই মেয়াদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

৯০ এর দশকে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে জোট করেছে দলটি। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করতে জাতীয় পার্টির সহায়তা নেয় আওয়ামী লীগ। সেই নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ১৪৬টি। জাতীয় পার্টি পায় ৩২টি এবং বিএনপির আসন ছিল ১১৬টি।

২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের দুই বছর আগে বিএনপি, জামায়াত এবং ইসলামী ঐক্যজোটের সাথে জোট গঠন করে এরশাদের জাতীয় পার্টি। ভোটের ঠিক আগ মুহুর্তে জোট ছেড়ে বেরিয়ে যায় দলটি। তবে দল ভেঙে একটি অংশ বিজেপি নামে থেকে যায় সেই জোটের সাথে।

২০০৭ সালে জাসদ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, গণফোরাম ও এলডিপির সাথে জাতীয় পার্টিকেও জোটে নেয় আওয়ামী লীগ। অবশ্য এই জোট টেকেনি। সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে বাদ পড়ে এলডিপি ও গণফোরাম। সে সময় জোটে জাতীয় পার্টিই ছিল আওয়ামী লীগের মূল শরিক।

সেই নির্বাচনে মহাজোটের কাছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট কোনো পাত্তাই পায়নি। নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে এই জোট।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বর্জনের মধ্যে ২০১৪ সালে আরেক দফা জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ছেড়ে দেওয়া আসনে ভোট করে জাতীয় পাটি। নির্বাচনের পর সংসদে প্রধান বিরোধীদল হিসেবেও মর্যাদা পায় দলটি। বিরোধী দলে থাকলেও দলটির বেশ কয়েকজন নেতা সেই সরকারে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এ নিয়ে সে সময় দলটিকে নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।

এরপর বহুবার জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের জোট থেকে বের হয়ে যেতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত জোটে থেকে যায়। ২০১৮ সালেও আওয়ামী লীগের সাথে অনেকটা সমঝোতা করেই নির্বাচনে আসে তারা। এই নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হলে ২২টি আসন নিয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের স্থান ধরে রাখে জাতীয় পার্টি।

গুম প্রতিরোধ ও সাইবার নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন আইন করে নাগরিকের অধিকার সংকুচিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি'র মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। আর সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে...
যেসব শিল্পী তাদের শিল্পকর্মের মাধ্যমে ফ্যাসিজমকে সহায়তা করেছে তারা প্রকৃত শিল্পী নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার রাতে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘জাসাস’...
দেশ যখনই কোনো কঠিন সংকটে পড়ে, তখন দেশের মানুষ সেই সংকট থেকে উত্তরণের দায়িত্ব বিএনপির ওপরই দেয় বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। রোববার মধ্যরাতে লালমনিরহাট জেলা বিএনপি...
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদল।
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন হত্যার ২৫ দিন পেরিয়ে গেলেও কাটেনি রহস্য। গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও পুলিশের বিভিন্ন সময়ের...
দেশের অধস্তন আদালতের ৯৯ জন বিচারককে একযোগে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে জুডিসিয়াল সার্ভিসের ৪৪ জেলা জজ, ২৬ অতিরিক্ত জেলা জজ, ২৫ যুগ্ম জেলা জজ, দুই সিনিয়র সিভিল জজ ও দুই সিভিল জজসহ মোট ৯৯ বিচারক রয়েছেন।
ইরানের একটি স্কুল ও ক্রীড়া স্থাপনায় মার্কিন সামরিক হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটির  ফ্যাক্ট–ফাইন্ডিং মিশন জানায়, স্কুলে...
আচ্ছা, আমরা প্রতিদিন ফেসবুক, ইউটিউব বা গুগলে যা সার্চ করি- সেটাই কি পুরো ইন্টারনেট? আপনি জানলে অবাক হবেন, আমরা প্রতিদিন ইন্টারনেটের মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশ ব্যবহার করি। বাকি প্রায় ৯৫ শতাংশ ইন্টারনেটের...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর