আওয়ামী লীগ ছাড়া এবারের নির্বাচনে আলোচনায় আছে জাতীয় পার্টি, তৃণমূল বিএনপি, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও কল্যাণ পার্টি। এর মধ্যে স্বস্তিতে আছেন শুধু লাঙলের জি এম কাদের ও হাতঘড়ির সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম। অন্যদিকে কাদের সিদ্দিকী, তৈমূর আলম খন্দকার ও মোহাম্মদ শাহাজানকে নিতে হবে নৌকার প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জ। জয় পেতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে তাদের।
প্রায় দুই যুগ পর রংপুর-৩ আসন থেকে ভোটে লড়ছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। আওয়ামী লীগ এ আসন থেকে নৌকার প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেওয়ায় শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে পড়ছেন না তিনি। এ আসনে অন্য ৫ প্রার্থীর মধ্যে আছেন জাসদের শহিদুল ইসলাম ও তৃতীয় লিঙ্গের স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী।
টাঙ্গাইল-৮ আসন থেকে ভোটে লড়ছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী। ২০০১-এর পর এখানে সাফল্যের মুখ দেখেননি তিনি। এবারও তাঁকে নিতে হচ্ছে বর্তমান সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহানকে ঠেকানোর চ্যালেঞ্জ। এতে ভোটের মাঠে খুব একটা স্বস্তিতে নেই তিনি।
বিএনপির জোট থেকে বেরিয়ে ভোটে এসেছে কল্যাণ পার্টি। দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম হাতঘড়ি মার্কায় ভোটে লড়ছেন কক্সবাজার-১ আসন থেকে। এখানে নৌকার প্রার্থী সালাউদ্দিন আহমেদের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় নির্ভার আছেন তিনি। শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ২০০৭ সালে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্ন এবার পূরণ হতে পারে।
তবে ভিন্নচিত্র তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব তৈমূর আলম খন্দকারের। নারায়ণগঞ্জ-১ আসন থেকে ভোটে লড়ছেন তিনি। এখানে তাঁকে চ্যালেঞ্জ নিতে হবে আওয়ামী লীগের তিনবারের সংসদ সদস্য পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর। সে কারণেই ভোটের জয়ে লড়াইটা বেশ কঠিনই হচ্ছে সাবেক বিএনপি নেতা তৈমূরের।
বিএনপি থেকে বেরিয়ে গঠন করা দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম)। চাঁদপুর-৪ আসন থেকে নোঙ্গর প্রতীকে ভোটে লড়ছেন দলটির মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান। এখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান এমপি নৌকা মার্কার মুহম্মদ শফিকুর রহমান। জোর লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভুঁইয়া। ত্রিমুখী এই লড়াই বিএনএম প্রধানেরও জয় পাওয়াটা বেশ কঠিন হবে।
গত ১৫ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে প্রার্থীরা প্রতীক পেয়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন। ব্যানার–পোস্টারে ছেয়ে গেছে অলিগলি। আগামী ৫ জানুয়ারী সকাল ৮টা পর্যন্ত চলবে প্রচার।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৭ জানুয়ারি ভোট হবে। এই নির্বাচনে ইসির নিবন্ধিত ৪৪টি দলের মধ্যে অংশ নিচ্ছে ২৮টি রাজনৈতিক দল। তবে বিএনপিসহ সমমনা বাকি দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।



