২০১৩ সালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার চাইছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে নিহতদের পরিবারের তালিকা তৈরি করতে বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন হেফাজত নেতারা।
উল্লেখ্য, আজ থেকে ঠিক ১৩ বছর আগে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে ১৩ দফা দাবিতে অবস্থান নেয় হেফাজতে ইসলাম। ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তির অভিযোগ, নারী নীতির বিরোধিতায় কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।
সেদিন ভোর থেকেই মতিঝিলে যাওয়ার সব সড়ক বন্ধ হয়ে যায় মানুষের চাপে। দিনভর চলে নানা নাটকীয়তা। রাতে পুরো এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে চলে র্যাব-পুলিশ-বিজিবির যৌথ অভিযান। সেখান বহু মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ করা হলেও, শেখ হাসিনা সরকার বারবার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে সাম্প্রতিক তদন্তে বেশ কিছু মানুষকে হত্যার বিষয় উঠে এসেছে। এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি নিহতের সংখ্যা নিয়ে যে বিতর্ক আছে তার অবসানে সরকারের তরফে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তাদের।
শহীদ রেহান আহসানের বোন ফারিয়া স্মরণী ভাষা বলেন, 'এই সরকারের কাছে আমার এটাই চাওয়া, বিচারটা অবশ্যই হতে হবে। আমার মা বেঁচে থাকতে যেন বিচারটা দেখে যেতে পারেন। বিচারটাতো প্রতীকী বিষয়, প্রতীকটা অন্তত দিক। আর আমরাতো সরকারের কাছে কোনো ফিন্যান্সিয়াল এইড বা ফান্ড এরকম কিছু চাইতে যাচ্ছি না, কিংবা অমরত্ব বিক্রিও করতে যাচ্ছি না। একটা বিচার প্রতীকী জিনিস, প্রতীকী জিনিসটাই চেয়েছি।'
বর্তমান সরকারের কাছে শহীদ পরিবারের তালিকা তৈরি এবং দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন হেফাজত নেতারা।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা এনায়েত উল্লাহ আল মাদানী বলেন, 'ঐ সময়কার তদানীন্তন ফ্যাসিস্ট সরকার এই দাবিগুলোকে তোয়াক্কা না করে, বরঞ্চ হেজাফতের নেতাকর্মীদেরকে নিবৃত করার জন্য রাতের গভীর অন্ধকারে তারা অত্যাচারের একটি নিকৃষ্ট স্টিমরোলার চালায়।'
উল্লেখ্য, ৫ মে'র হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৫৪ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে হেফাজতের করা মামলা এখনো বিচারাধীন।



