চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন সময়ে) আশানুরূপ আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তবে এআই প্রযুক্তির উচ্চ চাহিদায় ক্লাউড কমপিউটিং ব্যবসায় আশাতীত সাফল্য পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আজ শুক্রবার প্রকাশিত আলিবাবা’র এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের আয়ব্যয়ের বিবরণী থেকে এ সব তথ্য উঠে এসেছে।
আবাসন খাতে দীর্ঘদিনের সংকট, মজুরি বৃদ্ধি আশানুরূপ না হওয়া, এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে ব্যাঘাত- এই সকল সমস্যার কারণে চীনের অর্থনীতি বেশ চ্যালেঞ্জিং একটা সময় পার করছে। ভোক্তাদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে দেশটির অর্থনীতি। সে কারণেই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক হারে মূল্যছাড় ও মূল্যহ্রাসের কৌশল অবলম্বন করেও ভোক্তাদের মাঝে চাহিদা তৈরি করতে পারছে না।
এই প্রেক্ষাপটে প্রথম প্রান্তিকে আলিবাবা’র মোট আয় দাঁড়িয়েছে স্থানীয় মুদ্রায় ২৪৭ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ইউয়ানে। মার্কিন ডলারে অর্থের অংকটা ৩৪ দশমিক ৬২ বিলিয়ন। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপ অবশ্য ২৫২ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ইউয়ান আয়ের পূর্বাভাষ দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও আয়ের দিক থেকে প্রথম প্রান্তিকে আলিবাবা গ্রুপ ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
উল্লেখ্য, চীনের ই-কমার্স খাতে সক্রিয় আলিবাবা’র বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের আয়ের হিসাব এবারই প্রথম একত্রে ‘চায়না ই-কমার্স গ্রুপ’-এর নামে প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে আলিবাবা গ্রুপের মালিকানাধীন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম যেমন তাওবাও, টিমল, নতুন ইনস্ট্যান্ট কমার্স ব্যবসা, খাবার সরবরাহের প্ল্যাটফর্ম এলে ডট মি এবং ট্রাভেল এজেন্সি ফ্লিগি-এর আয়ের ফলাফল আলাদাভাবে প্রকাশ করা হতো।
ই-কমার্স খাতে সাফল্য সীমিত হলেও আলিবাবা’র ক্লাউড কমপিউটিং ব্যবসায় প্রত্যাশার চেয়েও বেশি আয় করেছে আলিবাবা। এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাসে ক্লাউড বিজনেসে তাঁদের মোট আয় হয়েছে ৩৩ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ইউয়ান (৪ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার), প্রবৃদ্ধির হার ২৬ শতাংশ। এর আগের তিন মাসে এ খাতে আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮ শতাংশ।
এআই খাতে আলিবাবা বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে। চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আলিবাবা শুরু থেকেই এআই খাতকে গুরুত্বের সাথে নিয়েছে এবং এআই প্রযুক্তিতে বড় অংকের অর্থ বিনিয়োগও করেছে। নিজস্ব এআই প্রযুক্তিতে প্রতি সপ্তাহেই নিত্যনতুন আপডেট নিয়ে আসছে তাঁরা। সম্প্রতি এমন একটি এআই মডেল তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি যা দিয়ে পোর্টেট ছবি থেকে বাস্তবধর্মী ভিডিও অ্যাভাটার তৈরি করা সম্ভব।
আলিবাবা গ্রুপের সিইও এডি উ বলেছেন, ‘বাইরের গ্রাহকদের কাছ থেকে (আমাদের) অর্জিত আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন এআই পণ্য থেকে আসে।’
শুক্রবার আলিবাবা এও ঘোষণা করেছে যে, তাঁরা ফোসান ইন্টারন্যাশনালের কাছ থেকে তাঁদের লজিস্টিক শাখা কাইনিআও-এর শেয়ার ৩৪৯ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে পুনরায় কিনে নিয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স



