চীনে বিরল খনিজের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। এ লক্ষ্যে বিরল খনিজের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় নতুন কয়েকটি খনিজ উপাদান যুক্ত করতে যাচ্ছে দেশটি। আজ বৃহস্পতিবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিরল খনিজের বিদ্যমান রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় নতুন করে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও বেশ কয়েকটি খনিজ উপাদান, যার মধ্যে আছে হোলমিয়াম, আরবিয়াম, থুলিয়াম, ইউরোপিয়াম এবং ইটারবিয়াম। উল্লেখ্য, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিরল খনিজের মজুদ রয়েছে চীনে।
উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রযুক্তি পণ্যে ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে প্রয়োজন হয় বিরল খনিজের। প্রতিরক্ষাখাতেও এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রেক্ষাপটে নতুন করে তীব্র হয়ে উঠে চীন-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধ। বিশেষ করে আমেরিকায় তৈরি চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর চীনের বাজারে রপ্তানিতে কঠোর অবস্থান নেয় ট্রাম্প প্রশাসন। অতি সম্প্রতি তা কিছুটা শিথিল হলেও, বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই অর্থনীতির দেশ দুটির মাঝে সম্পর্কের টানাপড়েন এখনও বেশ ভালোভাবেই বিদ্যমান।
এই প্রেক্ষাপটে আমেরিকাকে টেক্কা দিতে বিরল খনিজের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে চীন। বিশেষ করে আমেরিকা যখন তাঁদের দেশে উৎপাদিত সবচেয়ে উন্নত চিপগুলো চীনের বাজারে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে, তখন নতুন কৌশল হিসেবে চীন তাঁদের দেশ থেকে বিরল খনিজের রপ্তানি আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেই পারে।
বৃহস্পতিবার চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় আরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সিন্থেটিক গ্রাফাইট। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চীন প্রথম প্রাকৃতিক গ্রাফাইটের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। একই সময়ে পৃথক একটি বিজ্ঞপ্তিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিরল খনিজ প্রক্রিয়াকরণের কয়েক ডজন সরঞ্জামকে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
উল্লেখ্য, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় থাকা বিরল খনিজ এবং এগুলো প্রক্রিয়াকরণের সরঞ্জাম রপ্তানির ক্ষেত্রে চীন সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ, এই তালিকাভুক্ত পণ্য রপ্তানিতে সরকারি অনুমতি নিতে হবে রপ্তানিকারকদেরকে।


বিরল খনিজে শীর্ষে চীন, যুক্তরাষ্ট্র অনেক পিছিয়ে
