কমিউনিটি গাইডলাইনস লঙ্ঘনের দায়ে বাংলাদেশের ১ কোটি ৪৭ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৫টি ভিডিও সরিয়েছে টিকটক। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুনে প্ল্যাটফর্মে আপলোড হওয়া মোট ভিডিওর প্রায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ এসব ভিডিও। সরানো ভিডিওর ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশই ব্যবহারকারীদের অভিযোগ পাওয়ার আগেই নিজস্ব প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করেছিল টিকটক।
সম্প্রতি ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের কমিউনিটি গাইডলাইনস এনফোর্সমেন্ট রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি। এতে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে কনটেন্ট ও অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে সরানো ভিডিওর ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ আপলোডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শনাক্ত করে সরিয়ে ফেলা হয়। পরে পুনরায় যাচাইয়ের পর ২ লাখ ৫ হাজার ১টি ভিডিও প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বজুড়েও এ সময়ে বিপুলসংখ্যক ভিডিও সরিয়েছে টিকটক। তিন মাসে বিভিন্ন কমিউনিটি গাইডলাইনস লঙ্ঘনের দায়ে মোট ১৮ কোটি ৮২ লাখ ৯৮ হাজার ১৪১টি ভিডিও সরানো হয়েছে। এসব ভিডিও প্ল্যাটফর্মে আপলোড হওয়া মোট ভিডিওর প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। এর মধ্যে ১৮ কোটি ৩৩ লাখ ৪৪ হাজার ৭০৭টি ভিডিও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়। বিশ্বজুড়ে সরানো ভিডিওর ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশই ব্যবহারকারীদের অভিযোগ জানানোর আগেই শনাক্ত করা হয়েছিল। আর ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ ভিডিও আপলোডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরানো হয়। যাচাইয়ের পর ৬২ লাখ ৬২ হাজার ৩৮৩টি ভিডিও আবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভিডিওর পাশাপাশি মন্তব্য ও ভুয়া অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে টিকটক। দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে ২৭ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪৬৩টি মন্তব্য সরানো হয়েছে। আগের প্রান্তিকে এ সংখ্যা ছিল ২৩ কোটি ৭৫ লাখ ১৭ হাজার ১২৮। এ ছাড়া ১৪ কোটি ৬৮ লাখ ৭ হাজার ৪০০টি ভুয়া অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৩ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারী বলে সন্দেহ হওয়ায় আরও ২ কোটি ৬৮ লাখ ৪০ হাজার ৭৬৭টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে সরিয়ে দেওয়া ভিডিওগুলোর ধরন সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছে টিকটক। এর মধ্যে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ ভিডিওতে সংবেদনশীল বা প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু ছিল। নিরাপত্তাসংক্রান্ত নীতিমালা ভঙ্গের কারণে সরানো হয়েছে ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ ভিডিও। বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডের কারণে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং শালীনতা ও আচরণসংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভিডিও সরানো হয়েছে। এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বা সম্পাদনা করা কনটেন্টের কারণে সরানো ভিডিওর হার ছিল ১ দশমিক ৮ শতাংশ। প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত কনটেন্ট ও অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিকটক।


