গত মাসে (১৬ জুলাই) আমেরিকার নিউইয়র্কে নিলামে বিক্রি হয়েছে মঙ্গলগ্রহ থেকে পৃথিবীতে আসা এযাবতকালের সবচেয়ে বড় উল্কাপিণ্ড। ২৪ দশমিক ৫ কেজি ওজনের এই উল্কাপিণ্ডটি বিক্রি হয়েছে ৪ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫২ কোটি টাকারও বেশি)। কিন্তু ভিনগ্রহের বিরল এই পদার্থটির নিলামকে ঘিরে ইতোমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আফ্রিকার দেশ নাইজারের সন্দেহ, উল্কাপিণ্ডটি তাঁদের দেশ থেকে পাচার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তও শুরু করেছে নাইজার সরকার।
পৃথিবীতে আবিষ্কৃত মঙ্গল গ্রহের সবচেয়ে বড় পদার্থ হিসেবে পরিচিত এই উল্কাপিণ্ডটির নিলামের খবর গত মাসে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। উল্লেখ্য, উল্কাপিণ্ডটির ক্রেতা ও বিক্রতার নাম এখনও প্রকাশ করেনি আমেরিকার নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সোথবি’স।
কিন্তু পশ্চিম আফ্রিকার স্থলবেষ্টিত দেশ নাইজার জানতে চাইছে, কীভাবে বহির্জাগতিক এই পাথরটি তাঁদের দেশ থেকে ৫ হাজার মাইল দূরে পৌঁছাল নিলামের জন্য। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, নাইজারের খনি, উচ্চশিক্ষা ও আইন মন্ত্রীদেরকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ‘যা সম্ভবত অবৈধ আন্তর্জাতিক পাচারের সমস্ত লক্ষণ বহন করে।’
জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে অনুষ্ঠিত সোথবি’স-এর ‘গিক উইক’ নিলামে মূল আকর্ষণ ছিল মঙ্গলের এই পাথরটি। এটি জীবাশ্ম, উল্কাপিণ্ড এবং অন্যান্য বিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক ইতিহাসের প্রদর্শনী সামগ্রীর সাথে নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল।
নিলামকারী সংস্থা সোথবি’স একদিকে যেমন উল্কাপিণ্ডটির ক্রেতা-বিক্রেতার পরিচয় প্রকাশ করেনি, অন্যদিকে উল্কাপিণ্ডটি যিনি খুঁজে পেয়েছেন তার পরিচয় সম্পর্কেও তেমন কিছু জানা যায়নি। উল্লেখ্য, উল্কাপিণ্ডটি বিজ্ঞানীদের কাছে ‘এনডব্লিউএ ১৬৭৮৮’ নামে পরিচিত, যেখানে এনডব্লিউএ অর্থ হচ্ছে নর্থ-ওয়েস্ট আফ্রিকা বা উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা।
সোথবি’স অবশ্য উল্কাপিণ্ডটি পাচার হওয়ার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। তাঁদের দাবি, পাথরটি নিলামের ক্ষেত্রে তাঁরা আইনানুগ সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। তাঁরা জানিয়েছে, উল্কাপিণ্ডটি নাইজার থেকে রপ্তানি করা হয়েছে এবং এটি সকল প্রকার প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া মেনে পরিবহণ করা হয়েছে।
সোথবি’স বলছে, ‘আমরা যেভাবে অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি করি ঠিক সেভাবেই এই উল্কাপিণ্ডটি পরিবহণের প্রতিটি পর্যায়ে সমস্ত প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র সঠিক ছিল, যেটা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শর্ত মেনে এবং সর্বোত্তম প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছে।’
কিন্তু নাইজার সরকার তা মানতে নারাজ। তাই তাঁরা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে উল্কাপিণ্ডটির আবিস্কার ও বিক্রির সার্বিক বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, গত বছর প্রকাশিত ইতালির একটি অ্যাকাডেমিক নিবন্ধে বলা হয়েছে যে, মঙ্গল গ্রহের এই উল্কাপিণ্ডটি ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর চিরফা মরূদ্যানের ৯০ কিলোমিটার পশ্চিমে নাইজারের আগাদেজ অঞ্চলের সাহারা মরুভূমিতে পাওয়া যায়। এটি খুঁজে পান একজন উল্কাপিণ্ড শিকারি, যার পরিচয় অপ্রকাশিত ছিল বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়।
নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে যে, ‘এনডব্লিউএ ১৬৭৮৮’ নামের উল্কাপিণ্ডটি নাইজারের স্থানীয় কমিউনিটি একজন আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ি বা ডিলারের কাছে বিক্রি করে এবং পরবর্তীতে এটি ইতালির আরেজ্জো শহরের একটি ব্যক্তিগত গ্যালারিতে নিয়ে আসা হয়। ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরেন্সের ম্যাগাজিন এই ডিলারকে ‘ইতালির গুরুত্বপূর্ণ এক গ্যালারি মালিক’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, টেলিগ্রাফ



