অধিনায়কত্বের চাপ বলে তাহলে আসলেই কিছু একটা আছে!
কুশল মেন্ডিসকেই দেখুন। দাসুন শানাকা যখন দলের অধিনায়ক ছিলেন, তখন কী দুর্দান্ত অথরিটি নিয়ে, দাপট দেখিয়ে লঙ্কান অর্ডারের চাপ সামলাচ্ছিলেন। পিচ যেমন হোক না কেন, প্রতিপক্ষ যে-ই থাকুক না কেন - হেসেছে কুশলের ব্যাট। প্রথম দুই ম্যাচে একটা সেঞ্চুরিসহ তুলেছিলেন ১৯৮ রান। স্ট্রাইক রেট? ১৬৬.৩৮।
এরপরই শানাকার চোট। সে চোট এমনই, বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেন লঙ্কান পেস বোলিং অলরাউন্ডার। দলের বাজে অবস্থায় নেতৃত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন কুশল মেন্ডিস। আগেই ব্যাটিংয়ের সঙ্গে কিপিং করছিলেন, এবার জুটল নেতৃত্বের চাপও। ব্যস, সেই দাপুটে মেন্ডিস যেন হারিয়েই গেলেন!
পরের পাঁচ ম্যাচে সাকল্যে তুলেছেন ৭০ রান। এর মধ্যে গতকালের ম্যাচে তো অবস্থা আরও খারাপ। দশ বল ধরে চেষ্টা করতে করতে রানের খাতায় তুলতে পারেননি। ভারতের পেস ব্যাটারির তোপে সতীর্থদের মতো নিজের উইকেটটাও বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন। বোল্ড হয়েছেন মোহাম্মদ সিরাজের বলে। স্ট্রাইক রেট? ৭০-এর কম। একই মুদ্রার দুই পিঠ দেখতে বেশিক্ষণ লাগল না কুশল মেন্ডিসের!
অধিনায়কেরই যখন এই হাল, দল ভালো করে কী করে? শ্রীলঙ্কাও গুটিয়ে গেছে ৫৫ রানে। অথচ টসের সময় এই মেন্ডিসের মুখেই শোনা গিয়েছিল আশার কথা। ভারতকে শ্রীলঙ্কা টস জিতেও কেন আগে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল। কুশল মেন্ডিস সে ব্যাখ্যায় শুধু বলেছিলেন, আগে ব্যাট করার চেয়ে পরে ব্যাট করা ভালো। অনুচ্চারিত কারণ হয়তো এটা ছিল যে, ভারত এর আগে নিজেদের ছয় ম্যাচের প্রথম পাঁচটিতেই জিতেছে রান তাড়া করে, আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে জিতলেও আগে ব্যাট করে রান করেছে ২২৯। শ্রীলঙ্কা হয়তো অল্প রানেই - অন্তত ৩০০-র মধ্যে - ভারতকে আটকে দেওয়ার আশায় ছিল।
কিন্তু সে আশা পূরণ করার জন্য নিজেদের রানও তো তোলা লাগবে, তাই না? সে কাজে মেন্ডিসই সবার আগে ব্যর্থ!



