গতকাল আইপিএলে দেখা হয়েছিল নিলামের দুই হেভিওয়েটের। ২০২০ সালের নিলামে সাড়ে ১৫ কোটি রুপি দাম ওঠা প্যাট কামিন্সকে এবার সাড়ে ২০ কোটি রুপিতে নিয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। আইপিএলের সর্বকালের সেরা রেকর্ড এক ঘণ্টাও টেকেনি।
কারণ, চার বছর আগে কামিন্সের জন্য অমন পাগলামি করা কলকাতা নাইট রাইডার্স এবারও বড় পাগলামিতে মেতেছিল। অস্ট্রেলিয়ান বাঁহাতি ফাস্ট বোলার মিচেল স্টার্ককে কিনেছে ২৪ কোটি ৭৫ রূপিতে!
জাতীয় দলের দুই সতীর্থের সে লড়াইয়ে বলার মতো কিছুই করতে পারেননি দুজন। সানরাইজার্স অধিনায়ক ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে পেয়েছেন ১ উইকেট কামিন্স।
মিচেল স্টার্কের অবস্থা তো আরও খারাপ! ৪ ওভার বল করে কোনো উইকেট পাননি, উলটো দিয়েছেন ৫৩ রান।
২০৯ রানের লক্ষ্যে নামা হায়দরাবাদের শেষ দুই ওভারে দরকার ছিল ৩৯ রান। এমন অবস্থায় স্টার্কের হাতে বল তুলে দেওয়া হয়। এমন মুহূর্তে ম্যাচ জেতানোর জন্যই তো তাঁকে কিনতে এত টাকা খসিয়েছে কলকাতা।
স্টার্ক ওভার শুরু করলেন হেনরিখ ক্লাসেনের হাতে ছক্কা খেয়ে, শেষও করলেন শাহবাজ আহমেদের কাছে ছক্কা খেয়ে। ওভারের মাঝে হেনরিখ ক্লাসেন তাঁকে আরও দুটি ছক্কা মেরেছেন। ২৬ রান দিয়ে ম্যাচটা হায়দরাবাদের হাতে তুলে দিয়ে স্পেন শেষ করেন স্টার্ক।
এমন অবস্থায় শেষ ওভারে মাত্র ১২ রান পুঁজি নিয়ে বল করতে যান হারশিত রানা। ২২ বছর এই দিল্লির পেসারকে নিয়ে আইপিএলের দলগুলোর কোনো টানাটানি হয়নি। এমনকি ঘরোয়া ক্রিকেটেও খুব বেশি দেখা যায় না তাঁকে।
২০২২ আইপিএলে গুজরাট টাইটানসের নেটে বল করতেন রানা। রাকিশ সালাম চোট পেলে একজন বিকল্প পেসারের দরকার পড়ে কলকাতার। বদলি হিসেবে তাঁকে নেয় কলকাতা। সেবার তিন ম্যাচ খেলে মাত্র ১ উইকেট পেয়েছিলেন এই পেসার।
রানাকে গতবারও ধরে রাখে কলকাতা। খেলোয়াড় নিলামের সর্বনিম্ন ভিত্তিমূল্য ২০ লাখ রূপি দিয়ে তাঁকে ধরে রেখে ফল ভালোই পেয়েছে বাংলার ফ্র্যাঞ্চাইজি, ছয় ম্যাচে পেয়েছিলেন পাঁচ উইকেট।
প্রথম তিন ওভারে ২৫ রান দিয়ে ১ উইকেট পেলেও বেশ নার্ভাস লাগছিল রানার। অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার তাঁকে চাপমুক্ত করতেই দিয়েছিলেন আল্টিমেট স্বাধীনতা, ‘সত্যি বলতে, আমি ভেবেছি শেষ ওভারে যেকোনো কিছুই হতে পারে। হারশিত শেষ ওভার করার আগে একটু নার্ভস ছিল। আমি ওর চোখে চোখ রেখে বলেছি, “এটাই তোমার মুহূর্ত, বন্ধু! হারলেও সমস্যা নেই।” আমি ওকে শান্ত করলাম।’
প্রথম বলেই ছক্কা মেরেছিলেন ক্লাসেন। ৫ বলে লক্ষ্য নেমে আসে মাত্র ৭ রানে। পরের বলে আসে ১ রান। স্ট্রাইকে যান ৪ বলে ১৬ রান করা শাহবাজ আহমেদ। ছক্কা মারতে গিয়ে লং অনে ধরা পড়েন শাহবাজ। পরের বলে স্ট্রাইক বদলান ইয়ানসেন। ২ বলে ৫ রান দরকার ছিল। স্ট্রাইকে এরই মধ্যে ৮ ছক্কায় ৬৩ রান তোলা ক্লাসেন। কিন্তু তাঁর স্লোয়ারে বিভ্রান্ত হওয়ায় মিসহিট। শর্ট থার্ডম্যানে থাকা সুযশ শর্মার হাতে ক্যাচ!
ওই মুহূর্তে অমন এক বল দেখে প্রশংসায় মেতেছেন টেন্ডুলকারও, ‘শেষ ওভারে সাহসী বোলিং করে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছে হারশিত রানা। ম্যাচের ওই পরিস্থিতিতে সেট হওয়া ক্লাসেনকে ইয়র্কার না করে স্লোয়ার দিয়ে সে চমকে দিয়েছে। দারুণ।’
হারশিতকে নিয়ে বড় কিছুর স্বপ্ন দেখেন সাবেক কলকাতা তারকা ডেভিড হাসি, ‘এটা দেখিয়ে দিচ্ছে যেকোনো পরিস্থিতিতে আপনার ভাগ্য খুলতে পারে, অভিষেক হতে পারে। ২৪ ঘণ্টার পার্থক্যে অচেনা একজনের আইপিএলের নায়কে বনে যাওয়ার গল্পগুলো দারুণ লাগে। এটাই তো ক্রিকেট। যেকোনো জায়গা থেকে প্রতিভা খুঁজে পাওয়া যায়।’



