এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অনেকের চোখেই ডার্ক হর্স ছিল আফগানিস্তান। তাদের বাজি যে ঠিক দলের পক্ষেই ছিল, সেটা আরও একবার প্রমাণ করল আফগানরা। গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচে পাপুয়া নিউগিনিকে ৯৫ রানে গুটিয়ে দিয়ে ২৯ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের জয় পেয়েছে আফগানিস্তান। একইসঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর ‘সি’ গ্রুপ থেকে সুপার এইটের টিকিট নিশ্চিত করল আফগানরা।
এদিকে আফগানিস্তানের জয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে নিউজিল্যান্ডের।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর পর গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছেও হেরে বসে কিউইরা। তখনই বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় ঘণ্টা বাজতে থাকে ২০২১ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্টদের। আজ পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে আফগানরা হারলেই কেবল সুপার এইটের ক্ষীণ আশা বেঁচে থাকত কিউইদের।
কিন্তু ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে আইসিসির সহযোগী দেশটিকে কোনো সুযোগই দেয়নি রশিদ খানের দল। এতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই প্রথমবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ল কিউইরা।
আজ টস জিতে অনুমিতভাবে নিউগিনিকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান রশিদ খান। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে দলটি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে রান আউট হয়ে ফেরত যান ওপেনার আসাদ ভালা (৩)। কেবল আসাদই নন, আফগানদের দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে নিউগিনির আরও তিনজন ব্যাটসম্যান রান আউট হয়েছেন।
এছাড়া ইনিংস জুড়ে আফগান পেসারদের সামনে খাবি খেয়েছেন নিউগিনির ব্যাটসম্যানরা। বিশেষ করে ফজল হক ফারুকি ছিলেন বিধ্বংসী ফর্মে। আগের দুই ম্যাচে ৯ উইকেট নেওয়া পেসার আজও ১৬ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। আরেক পেসার নাভিন উল হক ২.৫ ওভারে ৪ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন।
আফগান পেসারদের তোপে ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে ৩০ রানেই ৫ উইকেট হারায় নিউগিনি। সেখান থেকে উইকেটকিপার কিপলিন দরিগার ৩২ বলে ২৭ রানের ইনিংসে ‘সম্মানজনক’ সংগ্রহের দিকে আগায় দলটি। এর সঙ্গে শেষদিকে আলেই নাওয়ের ১৯ বলে ১৩ রানের কল্যাণে ১০০-র কাছাকাছি যায় নিউগিনি।
রান তাড়ায় অবশ্য শুরুটা ভালো হয়নি আফগানিস্তানের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে রানের খাতা খোলার আগেই ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান। আরেক ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজও বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি। দলকে ২২ রানে রেখে আলেই নাওয়ের বলে বোল্ড হয়েছেন ৭ বলে ১১ রান করে।
এরপর একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে যান গুলবদিন নাইব। সাবলীল ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তানকে জয়ের পথেই রাখেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের সঙ্গে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৩৫ বলে ৩৩ রান তোলেন নাইব।
দলকে ৫৫ রানে রেখে ওমরজাই আউট হলে বাকি কাজটুকু মোহাম্মদ নবীকে নিয়ে সারেন নাইব। ৩৬ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৪৯ রানে অপরাজিত ছিলেন নাইব। অন্যদিকে ২৩ বলে ১৬ রান করেছেন নবী।



