শুবমান গিল ভারতের ক্রিকেটের এক বিস্ময় হয়ে উঠছেন। সাধারণত টেস্টে প্রথম ইনিংসে ভালো ব্যাট করেন ব্যাটসম্যানরা। দ্বিতীয় ইনিংসে কন্ডিশন বোলার বান্ধব হয়ে উঠলে ব্যাটসম্যানের পক্ষে রান তোলা কঠিন।
স্টিভ স্মিথের মতো ব্যাটসম্যান প্রথম ইনিংসে ব্যাট করলে তাঁর গড় ৭০ এর কাছাকাছি, আর দ্বিতীয় ইনিংসে তা ৪০-এর নিচে নেমে আসে। এদিক থেকেই শুবমান গিল ব্যাতিক্রম। প্রথম ইনিংস নয়, দ্বিতীয় ইনিংসেই তিনি স্বচ্ছন্দ বেশি।
টেস্টে গিলের গড় মাত্র ৩৭। ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ চিন্তা করলে এই গড় মোটেও কাম্য নয়। কিন্তু ২০২০ সালের পর থেকে হিসেব করলে দেখা যাচ্ছে, দ্বিতীয় ইনিংসের গড়ে ভারতের সেরা এখন গিল।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ চেন্নাই টেস্টে যেমন দেখা গেল, প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়া গিল দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৯ রান করেছেন। সাবেক ব্যাটসম্যান সঞ্জয় মাঞ্জরেকার এর কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না।
ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে মাঞ্জরেকার বলেছেন, ‘আমার কোনো ধারণা নেই কেন হচ্ছে। আমি কোনো ক্রিকেটীয় কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।’
টেস্টে প্রথম ইনিংসে গিলের গড় ২৮.৬১। অথচ দ্বিতীয় ইনিংসে সেটা বেড়ে ৫১ হয়ে যাচ্ছে। মজার ব্যাপার শুধু দলের ইনিংস বিবেচনা করে যদি ম্যাচের ইনিংস বিবেচনা করা হয়, তাহলে আরেকটি বিষয় দেখা যায়।
টেস্টের প্রথম ইনিংসে গিলের গড় মাত্র ১৯। দ্বিতীয় ইনিংসে যা ৩৬. আর তৃতীয় ইনিংসে তা ৫৫। আর চতুর্থ ইনিংস, অর্থাৎ, টেস্টের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁর গড় ৪৪। এই পরিসংখ্যান থেকে ধারণা জাগতে পারে যে পিচ যখন তাজা থাকে, তখন পেসবান্ধব কন্ডিশনে সমস্যা হচ্ছে গিলের।
কিন্তু মাঞ্জরেকার এর কোনো ব্যাখ্যা পাচ্ছেন না, ‘ওর টেস্ট ক্যারিয়ার একটু পথ হারিয়েছে। অস্ট্রেলিয়াতে সে দারুণ শুরু করেছিল। একটা ৯০ রানের ইনিংস ছিল। এরপর বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েছে। ভারতে খুব একটা শক্তিশালী না, এমন দলের বিপক্ষে। কিন্তু সেটা কাজে লাগাতে পারেনি সে, বড় স্কোর করতে পারেনি। এরপর বেশ কয়েকটি বাজে সফর গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা কখনই সহজ ট্যুর না। এরপর ভারতে এসে হায়দরাবাদ টেস্টে খারাপ করেছে।’



