টুর্নামেন্টে ৭ দলের মধ্যে খুলনা টাইগার্স ম্যাচের আগে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ছিল তালিকার ৬ নম্বরে, সিলেট স্ট্রাইকার্স (৪ পয়েন্ট) ছিল তলানিতে। রানরেটের হিসাবও এমন ছিল যে, খুব বড় ব্যবধানে না জিতলে আজ শুধু জয় পেলেও পয়েন্ট তালিকার তলানি থেকে ওঠা সম্ভব হতো না সিলেটের। চট্টগ্রামে আজ ম্যাচ শেষে আর রানরেটের হিসাবেই যেতে হলো না!
আগে ব্যাট করে সিলেটের দেওয়া ১৫৩ রানের লক্ষ্যে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজের ঝোড়ো ৭০ রানের ইনিংসের সুবাদে শেষ পর্যন্ত ১ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জিতে গেছে খুলনা। এ জয়ে খুলনা উঠে গেল পয়েন্ট তালিকার চার নম্বরে। পাঁচে থাকা রাজশাহীরও পয়েন্ট তাদের সমান ৮, তবে রানরেটে এগিয়ে চারে খুলনা।
আর সিলেট শুধু তলানিতেই যে থেকে গেল এমন নয়, তাদের প্লে-অফে ওঠার সম্ভাবনা কার্যত শেষই হয়ে গেছে। গ্রুপ পর্বে আর ম্যাচ বাকি ৩টি, তিনটিতে শুধু নিজেরা জিতলেই হবে না, পাশাপাশি অন্য দলের হারের প্রার্থনাও করতে হবে তাদের।
টুর্নামেন্টের প্রথম তিন ম্যাচেই হেরে যাওয়া সিলেট মাঝে টানা দুই ম্যাচ জিতে ফর্মে ফেরার আভাস দিয়েছিল, কিন্তু আভাস পর্যন্তই। এরপর থেকে আজকের আগ পর্যন্ত তিন ম্যাচেই হেরে যায় তারা। আজ হলো টানা চতুর্থ হার।
আজ অবশ্য আগে ব্যাটিং নিয়ে শুরুটা তাদের বেশ ভালোই হয়েছিল। রনি তালুকদার (০) প্রথম ওভারের শেষ বলে ফিরলেও দ্বিতীয় উইকেট জর্জ মানসি আর জাকির হাসান ৪০ বলে গড়েন ৭৫ রানের জুটি। মানসিই ছিলেন বেশি ভয়ংকর, ২৮ বলে ফিফটি তুলে নেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ৩২ বলে ৬ চার ৪ ছক্কায় ৫৮ রান করে আউট হলে ভাঙে জুটি।
তবু জাকির হাসান যতক্ষণ ছিলেন, বড় স্কোরের আশা টিকে ছিল সিলেটের। অন্য প্রান্তে যে আর কেউ দাঁড়াতেই পারলেন না! টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অভিজ্ঞতা বলতে সিপিএলে তিনটি দলে ১৬ ম্যাচ খেলা ২৪ বছর বয়সী অলরাউন্ডার কাদিম আলাইনে আজই প্রথম বিপিএল খেলতে নেমে করেছেন ৯ রান, দশম ওভারে আউট হয়ে গেছেন দলকে ৯১ রানে রেখে। ১৪তম ওভারে জাকের আলী অনিক (8) আউট হলেন দলকে ১২২ রানে রেখে।
এরপরই সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খেয়েছে সিলেট। ১৫তম ওভারের পঞ্চম বলে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়ে যান জাকির হাসানও (৩২ বলে ৪৪)। সিলেটের রান তখন ১২৪। এরপর আর সিলেট বড় স্কোর গড়বে কীভাবে, এক নয়ে নামা সুমন খান (৫ বলে ১২) ছাড়া যে আর কেউ দুই অঙ্কেই যেতে পারলেন না! ২০ ওভারে ১৫২ রান করলেও অলআউট হয়নি, ৯ উইকেট পড়েছে তাদের – এতটুকুই কৃতিত্ব হিসেবে দাবি করতে পারে সিলেট।
জবাবে খুলনার ব্যাটিং অর্ডারে নিজেকে নিয়ে ক্রমাগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চলা মিরাজ এক ম্যাচ বিরতি দিয়ে আজ আবার নেমে গেলেন ওপেনিংয়ে। আজ অবশ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দারুণ সফল তিনি। মোহাম্মদ নাঈমকে (১৭ বলে ২০) নিয়ে পাওয়ার প্লে-তেই খুলনাকে এনে দেন ৫৯ রান। সপ্তম ওভারের শেষ বলে নাঈম আউট হয়ে যান দলকে ৬৫ রানে রেখে, আফিফ হোসেনও (৩) বেশিক্ষণ টেকেননি।
তবে এর আগে ২৯ বলেই ফিফটি তুলে নেওয়া মিরাজের অন্য প্রান্তে কোনো থামাথামির যেন লক্ষণই ছিল না! শেষ পর্যন্ত ১৪তম ওভারের চতুর্থ বলে যখন আউট হচ্ছেন, তাঁর নামের পাশে ৫০ বলে ৮ চার ২ ছক্কায় ৭০ রান। খুলনার রান ততক্ষণেই ১০০ পেরিয়ে গেছে (১০৬)।
সেখান থেকে খুলনা সহজ জয়ই পাচ্ছে ভাবা হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ইনিংসের প্রায় শেষ পর্যন্তই যেতে হয়েছে। তার কারণ, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন আজ আর ঝড়টা ভালোভাবে তুলতে পারেননি, ১৮তম ওভারের প্রথম বলে আউট হয়ে গেছেন ১৩ বলে ১৭ রান করে। অন্য প্রান্তে চারে নামা অ্যালেক্স রস তো ওয়ানডে গতিতেও খেলতে পারেননি, শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকলেও তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ২৩ বলে ২০ রান।
দলকে ১৩২ রানে রেখে অঙ্কন আউট হওয়ার পর মাঠে নামা উইলিয়াম বোশিস্টো শেষ পর্যন্ত ১১ বলে ১৯ রান করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন।



