এবারের বিপিএলে ধুঁকছে সিলেট স্ট্রাইকার্স। আগের ম্যাচে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে হারের পর দলটির অধিনায়ক আরিফুল হক ‘ফিট’ খেলোয়াড়ের সঙ্কট নিয়ে আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন, ‘আমাদের এখন ১১ জন খেলোয়াড় জোগাড় করাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙাচোরা দল নিয়েই খেলতে হচ্ছে।’
ঢাকা দ্বিতীয় পর্বে আজ ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে ম্যাচের আগে চোটজর্জর সিলেটের কাজটা আরও কঠিন হয়ে যায় দলটির ইংলিশ পেসার রিস টপলির চোটে পড়ায়। বাধ্য হয়ে তিন বিদেশি নিয়েই খেলতে নামে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। কিন্তু ‘ভাঙাচোরা’ দল নিয়ে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি সিলেট।
৭ রানে ৫ উইকেট পাওয়া ফাহিম আশরাফের সামনে দাপটে ইনিংসের ১১ বল বাকি থাকতে অলআউট দলটি। বরিশালকে ১১৭ রানের লক্ষ্য দিয়েছে সিলেট।
ঢাকার প্রথম পর্বে মিরপুরে ৮টি ম্যাচ হয়েছিল। সে পর্বে প্রত্যেক ম্যাচের প্রথম ইনিংসে গড়ে প্রায় ১৮০ রান তুলেছিল দলগুলো। কিন্তু ঢাকা দ্বিতীয় পর্বের শুরুতে সিলেট সে ধারা ভেঙে দিয়ে গুটিয়ে গেল ১১৬ রানেই।
অবশ্য একটা পর্যায়ে তো মনে হয়েছিল, সিলেট বোধহয় তিন অঙ্কই ছুঁতে পারবে না। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ওপেনার জর্জ মানসের (৪) বিদায়ের পরের ওভারেই বিদায় দেন জাকির হাসানও (৪)। আরেক ওপেনার রনি তালুকদারও (৯) ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ফাহিম আশরাফের বলে। ওই একই ওভারে সিলেটের আরেক বিদেশি কাদিম অ্যালিনকেও (০) আউট করেন পাকিস্তানি পেসার।
উইকেটে টিকে থাকতে সংগ্রাম করা সিলেটের পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে ৪ উইকেটে ৩৪ রান। স্কোরবোর্ডে আর ১২ রান যোগ হতেই বিদায় নেন নাহিদুল ইসলামও (৮)। গ্যালারিতে উপস্থিত বরিশাল সমর্থকদের উচ্ছ্বাস তখন চোখে পড়ার মতো।
সিলেটের এমন বিপর্যয়ে এক প্রান্তে ঢাল হয়ে দাঁড়ান পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান আহসান ভাট্টি। ওয়ানডে সুলভ ইনিংসে সিলেটের রানের চাকা সচল রাখেন তিনি। আরেক প্রান্তে জাকের আলী আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করলেও ১৯ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২৪ রান করার পর বড় শট খেলতে গিয়ে লং অনে মোহাম্মদ নবীর ক্যাচে পরিণত হন। এর আগে অবশ্য মাহমুদউল্লাহর দারুণ এক ক্যাচে বিদায় নিয়েছেন আহমান ভাট্টিও (২৯ বলে ২৮ রান)।
শেষ দিকে আরিফুল হকের ১৩ ও তানজিম সাকিবের ৮ বলে ১৩ রানে তিন অঙ্কের দেখা পায় সিলেট।
সিলেটকে ধসিয়ে দেওয়ার পথে মাত্র ৭ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন ফাহিম আশরাফ। এছাড়া মোহাম্মদ নবী ও জেমস ফুলার ২টি করে ও রিশাদ হোসেন ১টি উইকেট নিয়েছেন।



