প্লে-অফের পথ আগেই কঠিন হয়ে পড়েছিল সিলেট স্ট্রাইকার্সের। পয়েন্ট তালিকায় সবার নিচে আছে দলটি। সেখান থেকে সেরা চারে উঠে গ্রুপ পর্ব শেষ করতে ঢাকা দ্বিতীয় পর্বে নিজেদের হাতে থাকা সব ম্যাচ জিততে হতো তাদের।
আজ ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে হারের পর সে সমীকরণের মারপ্যাচ আরও বেড়েছে। কাগজে-কলমে এখনো হিসেব টিকে থাকলেও বিদায় ঘণ্টা প্রায় বেজেই গেছে আরিফুল হক-তানজিম সাকিবদের।
আজ মিরপুরে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ফাহিম আশরাফের দুর্দানত্ বোলিংয়ে মাত্র ১১৬ রানে গুটিয়ে যায় সিলেট। রান তাড়ায় খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি বরিশালের। তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের অবিচ্ছিন্ন ৮১ রানের (৮০ বলে) জুটিতে ইনিংসের ২৫ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের জয় পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
একই সঙ্গে প্লে-অফের টিকিটও নিশ্চিত করল বরিশাল। আজকের জয়ের পর ৯ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে তামিম-মুশফিকদের দল। হাতে থাকা তিন ম্যাচের অন্তত একটাতে জিতলেই কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত হবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির। অন্যদিকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে থাকা সিলেটের পয়েন্ট ১০ ম্যাচে ৪। খুলনা, রাজশাহী এই দুই দলই যদি নিজেদের বাকি সব ম্যাচ বড় ব্যবধানে হারে এবং ঢাকা একটির বেশি জয় না পায়, তাহলেই শুধু সিলেটের সম্ভাবনা টিকে থাকবে।
মিরপুরে আজ সিলেটের ইনিংসের পর বরিশালের জয় নিয়ে খুব বেশি অনিশ্চিয়তা ছিল না। ১১৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম দুই ওভারে স্কোরবোর্ডে ২০ রান তোলেন দুই বরিশাল ওপেনার তামিম ইকবাল ও তাওহীদ হৃদয়। তবে তৃতীয় ওভারে বরিশাল সমর্থকদের উল্লাস সাময়িক থামিয়ে দেন নাহিদুল ইসলাম। সিলেট স্পিনারের দারুণ এক ডেলিভারিতে আরিফুলের হাতে ক্যাচ দেন হৃদয় (৬)। পাওয়ার প্লের শেষ বলে কাভারে আহসান ভাট্টিকে ক্যাচ শিখিয়ে বিদায় নেন ডাভিড মালান (৯)।
পাওয়ার প্লে শেষে বরিশালের স্কোরবোর্ডে ২ উইকেটে ৩৯ রান। সেখান থেকে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের আর কোনো বিপদে পড়তে দেননি তামিম-মুশফিক। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৬০ বলে ৮১ রানের জুটিতে সহজ জয় পেয়ে যায় বরিশার। সে পথে তামিম চলতি বিপিএলে নিজের তৃতীয় ফিফটি (৫১ বলে ৬ চারে ৫২ রান) তুলে নিয়েছেন। আর মুশফিক অপরাজিত ছিলেন ৩০ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৪২ রানে।



