বলতে গেলে এ ম্যাচে কিছুই পাওয়ার নেই সিলেট স্ট্রাইকার্সের। আগেই বিদায় নিশ্চিত হওয়া দলটির জন্য দুর্বার রাজশাহীর বিপক্ষে আজকের ম্যাচটি শুধু নিয়ম রক্ষার বললেও খুব বেশি ভুল হবে না। নিজেদের নামের পাশে পয়েন্ট কিছুটা বাড়িয়ে অন্তত তলানি থেকে ওপরে ওঠার সুযোগ আছে, এই যা!
এমন ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে টেস্ট ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী দেখিয়েছেন আরিফুল হক-জাকের আলীরা। রান তোলা তো দূরের কথা, উইকেটে টিকে থাকতেই সংগ্রাম করেছেন। শেষ দিকে আহসান ভাট্টি আর সুমন খান নবম উইকেট জুটিতে সিলেটকে ২০ বলে ৩৬ রান এনে দিয়েছেন। তাতেই শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেট হারিয়ে ১১৭ রানের সংগ্রহ পেয়েছে দলটি।
বহু নাটকীয়তার পর দুই বিদেশি নিয়ে খেলতে নামা রাজশাহীর বোলারদের সামনে পাত্তাই পায়নি সিলেটের ব্যাটসম্যানরা। আহসান ভাট্টি (২১ বলে ২৫ রান) ও সুমন খান (১১ বলে ২০ রান) ছাড়া দলটির কোনো ‘ব্যাটসম্যান’ই ১০০ স্ট্রাইকরেটে ব্যাটিং করতে পারেননি। ব্যাটসম্যান শব্দটিতে উদ্ধৃতিচিহ্ন দিতে হচ্ছে, কারণ সিলেটের শেষ ব্যাটসম্যান রুয়েল মিয়ারও স্ট্রাইকরেট ১০০, তবে সেটা ১ বলে অপরাজিত ১ রানের সৌজন্যে আর কী!
সিলেট ইনিংসে প্রথম আঘাত হানে আগের ম্যাচে মাত্র ১৮ রানে ৪ উইকেট পাওয়া মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে বোলিংয়ে এসে জোড়া উইকেট শিকার করেন বাঁহাতি এ পেসার। ওভারের প্রথম বলে আরিফুল হককে (৭) মেহেরব অপির হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন মৃত্যুঞ্জয়। এর দুই বল পরে মৃত্যুঞ্জয়ের গতিতে পরাস্ত হয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন সামিউল্লাহ শেনওয়ারি (৯)।
মূলত ব্যাটিং অর্ডারে আরও নিচের দিকে নামা দুই ব্যাটসম্যানকে আজ হঠাৎ কী কারণে ওপেনিংয়ে নামিয়ে দিয়েছে সিলেট, যে ম্যাচের গুরুত্ব তাদের কাছে অতটা না থাকলেও রাজশাহীর সঙ্গে অন্য দলগুলোর প্লে-অফের দৌড়ে অনেক বেশি – সে এক প্রশ্ন বটে। রাজশাহীর (১০ পয়েন্ট) গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ এটি, এ ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতলে প্লে-অফের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে যাবে তারা। তখন এক খুলনা টাইগার্স (৮ পয়েন্ট, ২ ম্যাচ বাকি) ছাড়া আর কারও সম্ভাবনাই থাকবে না তাদের টপকে যাওয়ার।
তা এমন ম্যাচে ওপেনিং জুটি সিলেটের ফাটকা খেলার উদাহরণ হয়ে থাকলেও সেটা কাজে আসেনি। দুই ওপেনার বিদায় নিলেন ১৮ রানের মধ্যেই। সিলেট তৃতীয় উইকেট হারায় স্কোরবোর্ডে আর ১ রান যোগ হতেই। এবার আফতাব আলমের বলে গালিতে তাসকিনের ক্যাচে পরিণত হন সাজ্জাদুল হক (০)। ধুঁকতে থাকা সিলেট পাওয়ার প্লে-তে আর কোনো উইকেট হারায়নি, তবে রানের গতিটাও বাড়াতে পারেনি। ৬ ওভার শেষে দলটির রান ছিল ৩ উইকেটে ২০।
সিলেটের এমন বিপর্যয় দেখে গ্যালারিও ছাড়তে থাকেন দর্শকেরা। যদিও চতুর্থ উইকেট জুটিতে জাকির হাসান ও জাকের আলী বিপর্যয় ঠেকানোর চেষ্টা করেন। দুজনের ওই জুটিতে সিলেটের স্কোরবোর্ডে ৩৯ রান জমা হয়। কিন্তু ইনিংসের ১২তম ওভারে দুজনকেই ফিরিয়ে সিলেটের মেরুদণ্ড দুর্বল করে দেন মেহেরব। ওভারের প্রথম বলে সাব্বিরের হাতে ক্যাচ দেন জাকের (১৭), আর পঞ্চম বলে বার্লের শিকার হয়ে ফেরত যান দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৪ রান করা জাকির।
৫৯ রানে ৫ উইকেট নেই সিলেটের। ততক্ষণে ম্যাচের ১২ ওভার শেষ। হাতে আরও ৫ উইকেট থাকলেও ইনিংসের শেষ পর্যন্ত সিলেট টিকে থাকতে পারবে কি না, আলোচনা হচ্ছিল এ নিয়েই। সে আলোচনা আরও জোর পায় ৬৩ রানে সিলেট ষষ্ট উইকেট হারালে। মেহেরবের বলে এগিয়ে মারতে গিয়ে স্টাম্পড হন কাদিম অ্যালেন (১)।
স্কোরবোর্ডে রানের সংখ্যা আর ৪ বাড়তেই আবারও উইকেট হারায় সিলেট। এবার মেহেরবের চতুর্থ শিকার হন তানজিম হাসান সাকিব (২)। নিজের বলে ক্যাচ নিয়ে সাকিবকে ড্রেসিংরুমের দিকে পাঠান ডানহাতি এ স্পিনার।
ইনিংসের ১৭তম ওভারের প্রথম বলে জন-রাস জাগ্গেসারকে বোল্ড করলেন তাসকিন, তখন সিলেটের স্কোরবোর্ডে ৮ উইকেটে ৭২ রান। সেখান থেকে আহসান ভাট্টি-সুমন খান জুটিতে তিন অঙ্ক ছোঁয় সিলেট। ইনিংসের শেষ ওভারে মৃত্যুঞ্জয়ের বলে আহসান আউট হলেও সুমন ১১ বলে ২০ রানে অপরাজিত থাকেন
রাজশাহীর হয়ে ১৫ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন মেহেরব। এছাড়া মৃত্যুঞ্জয় ৩৩ রানে ৩টি এবং তাসকিন ও আফতাব ১টি করে উইকেট পেয়েছেন।



