নানা বিতর্ক আর সমালোচনা উপহার দিয়ে মাসখানেক আগে পর্দা নেমেছে বিপিএলের ১১তম মৌসুমের। এতদিন পরও যেন সে বিতর্কের রেশ কাটছে না।
দেশীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে এবার বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ইস্যু। আর সে ইস্যুতে ঘুরে ফিরে আসছিল দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজির নাম- দুর্বার রাজশাহী ও চিটাগং কিংস।
এর মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের হস্তক্ষেপে রাজশাহীর পেমেন্ট ইস্যুর কিছুটা সমাধান হয়েছে! অন্যদিকে চিটাগং কিংসের বিরুদ্ধে এতদিন পর পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার শাহিদ আফ্রিদি।
বিপিএলে চিটাগংয়ের মেন্টর ও ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আফ্রিদি চুক্তি অনুযায়ী পারিশ্রমিকের ৮০ ভাগও না পেয়ে অনেকটা বাধ্য হয়ে চিঠি লিখেছেন বিসিবি সভাপতিকে। এক লাখ ডলারের চুক্তি হলেও এখন পর্যন্ত মোটে ১৯ হাজার ডলার পেমেন্ট বুঝে পেয়েছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন আফ্রিদি।
এর আগে চিটাগংয়ের মালিক সামির কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন জাতীয় দলের তরুণ ওপেনার পারভেজ হাসান ইমন। সে সময় সামির কাদের জানিয়েছিলেন, তাঁর টাকা গাছে ধরে না, তাঁর সন্তুষ্টির দরকার আছে। সেখানেই শেষ নয়, একাধিক বিদেশি ক্রিকেটারও চুক্তি অনুযায়ী পেমেন্ট না পাওয়ার অভিযোগ তোলেন। এমনকি দলটির সঞ্চালক হয়ে আসা কানাডিয়ান মডেল ইয়াসা সাগরের সঙ্গে চুক্তি সম্পর্কিত নানান দ্বন্দ্ব গড়িয়েছে আইনি লড়াইয়ে।
গত কয়েকদিনে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ডামাডোলে এসব বিতর্ক কিছুটা চাপা পড়েছিল। গতকাল সে বিতর্ককে নতুন করে সামনে আনেন শাহিদ আফ্রিদি। পাওয়া আদায়ে বিসিবি সভাপতির হস্তক্ষেপ কামনা করে একটি চিঠি লেখেন তিনি। দেশীয় সংবাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোরে এটি প্রথম জানানো হয়। পরে অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের হাতে চিঠির কপি চলে আসে।
বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদকে পাঠানো চিঠিতে আফ্রিদি লিখেছেন, ‘বিপিএলের ১১তম মৌসুমে আমার সম্পৃক্ততার একটি বিষয় নিয়ে আপনার মনোযোগ আকর্ষণ করছি। চিটাগং কিংসের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ও মেন্টর হিসেবে নিয়োগ পাওয়াটা আমার জন্য ছিল দারুণ সম্মানের। আমি একটা আনুষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যুক্ত হই।’
সে চুক্তিটা কেমন ছিল, সেটা উল্লেখ করে আফ্রিদি লিখেছেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই আমাকে ৫০ শতাংশ পেমেন্ট (মোট ১ লাখ ডলার) দেওয়ার কথা ছিল। বাকিটা দেওয়ার কথা ছিল টুর্নামেন্ট চলাকালে।’
এরপরই চিটাগংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন সাবেক এ অলরাউন্ডার, ‘দলের প্রথম ম্যাচের আগে ঢাকায় আসা, দলীয় ইভেন্টগুলোতে অংশ নেওয়া, মিডিয়া অ্যাঙ্গেজমেন্ট ও অন্যান্য কার্যক্রম- আমার সব দায়িত্ব পালন করার পরও… চিটাগং কিংস ম্যানেজমেন্ট আমার চুক্তির শর্ত পূরণ করেনি।’
এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ পেমেন্ট পেয়েছেন, সেটা উল্লেখ করে আফ্রিদি লিখেছেন, ‘৫০ হাজার ডলারের মধ্যে শুধু ১৯ হাজার ডলার দেওয়া হয়েছিল, যা পরিষ্কারভাবে চুক্তির বরখেলাপ। এরপরও আমি তাদের কথার ওপর বিশ্বাস রেখে আমার দায়িত্ব পালন করে গেছি।’
টুর্নামেন্টের মাঝপথে দেশে ফেরত যান আফ্রিদি। পরে চিটাগং ফাইনালে উঠলেও আর দলের সঙ্গে দেখা যায়নি সাবেক এ অলরাউন্ডারকে। এ প্রসঙ্গে আফ্রিদি লিখেছেন, ‘টুর্নামেন্ট চলাকালে আমি পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য এক সপ্তাহের ছুটির অনুরোধ করেছিলাম। ১৯ জানুয়ারি ফিরতে হবে, এমন শর্তে আমাকে ছুটি দেওয়া হয়েছিল। টিম ম্যানেজমেন্ট আমাকে ফিরতি (বাংলাদেশে ফেরার) টিকিটের নিশ্চয়তা দিয়েছিল।’
সবকিছু যখন ঠিকঠাক, তবে কেন এলেন না, সেটার কারণ জানিয়ে আফ্রিদি লিখেছেন, ‘কিন্তু বারবার নিশ্চয়তা দেওয়ার পরও সে টিকিট আর পাঠানো হয়নি। আর আমিও টুর্নামেন্টের বাকি সময়ে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারিনি। এটা ভীষণ হতাশার। বিশেষ করে এমন মর্যাদাপূর্ণ লিগের সঙ্গে জড়িত একটা ফ্র্যাঞ্চাইজির এমন আচরণ।’
এরপর পারিশ্রমিক পেতে বিসিবি সভাপতির হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করে আফ্রিদি লিখেছেন, ‘মি. আহমেদ, চিটাগং কিংস ম্যানেজমেন্ট যাতে আমার পাওনা পারিশ্রমিক দিয়ে দেয়, এ ব্যাপারে আপনাকে হস্তক্ষেপ করতে অনুরোধ করছি। বাংলাদেশের সঙ্গে আমার অতীত অভিজ্ঞতা সবসময়ই ভালো ছিল। আমি বিশ্বাস করি, আপনার তত্ত্বাবধানে বিষয়টি ভালোভাবে সুরাহা হবে। আমি বাংলাদেশকে আমার সেকেন্ড হোম হিসেবে মনে করি এবং চাই না, কোনো নেতিবাচক প্রচারণা বিপিএল কিংবা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে প্রভাব ফেলুক।’
সমস্যার দ্রুত সমাধান আশা করে চিঠি শেষ করেন আফ্রিদি।



