সিরিজ জয়ের আশা শেষ হয়েছে আগেই। তবে সিরিজ সমতায় শেষ করার পথটা খোলা আছে ভারতের। আর সেজন্য ওভালে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্টটা জয়ের বিকল্প নেই শুবমান গিলদের। এমন সমীকরণ সামনে নিয়ে বৃষ্টি বিঘ্নিত দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার ৬ উইকেট হারিয়ে ২০৪ রান তুলে টেস্টের প্রথম দিন শেষ করেছে ভারত।
ইংলিশদের পেসারদের দাপটে গতকাল একটা পর্যায়ে ১৫৩ রানেই ৬ উইকেট হারিয়েছিল গৌতম গম্ভীরের দল। সেখান থেকে করুণ নায়ারের ফিফটি (৫২*) ও আগের টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান ওয়াশিংটন সুন্দারের (১৯*) আর কোনো উইকেট না হারিয়ে দিন শেষ করে ভারত।
টপ আর মিডল অর্ডারের ধসে নায়ারের ফিফটি দিনটা একেবারের মলিন যেতে দেয়নি ভারতের। টেস্টে সাড়ে আট বছরের বেশি সময় পর ফিফটির দেখা পেলেন নায়ার। আর পুরো সিরিজে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা শুবমান গিল গতকাল আউট হয়েছেন ২১ রান করে। তাতেই টেস্টের দুটি রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক।
সিরিজের আগের চার টেস্টে ৭২২ রান করা গিল গতকাল ১ রান নিতেই পেরিয়ে যান ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি স্যার গ্যারি সোবার্সকে। সেনা দেশগুলোতে (সাউথ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া) সফরকারী অধিনায়ক হিসেবে এক সিরিজে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডের মালিক বনে যান ভারতীয় অধিনায়ক।
এর আগে ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে সোবার্স ৭২২ রান করেছিলেন। সোবার্সের ৫৯ বছরের রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার একটু পর সুনীল গাভাস্কারের ৪৬ বছর আগের এক রেকর্ডও নিজের করে নেন গিল।
ভারত অধিনায়ক হিসেবে এক সিরিজে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটা এতদিন ছিল গাভাস্কারের দখলে। ১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে ৭৩২ রান করেছিলেন তৎকালীন ভারতীয় অধিনায়ক গাভাস্কার। গতকাল ১১তম রানটি নিয়ে গাভাস্কারকে ছাড়িয়ে যান গিল।
দুটি রেকর্ড নিজের করে নিলেও স্কোরটা খুব বেশি বড় করতে পারেননি গিল। অনেকটা নিজের ভুলে রান আউট হয়ে ভারত অধিনায়কের ইনিংস থেমেছে ৩৫ বল আর ২১ রানে।
গিল আউট হওয়ার আগেই দুই ওপেনারকে হারিয়েছিল ভারত। দলকে ১০ রানে রেখে ইনিংসের চতুর্থ ওভারে গাস অ্যাটকিনসনের প্রথম বলে এলবিডাব্লিউ হয়েছেন ইয়াসাসভি জয়সোয়াল (২)। ক্রিস ওকসের বলে আরেক ওপেনার লোকেশ রাহুলের স্টাম্প যখন ভাঙল, ভারতের স্কোরবোর্ডে তখন ৩৮ রান।
শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ভারতের হাল ধরেন গিল। অন্য প্রান্তে তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন সাই সুদর্শন। মাঝে বৃষ্টিতে বন্ধ থাকে খেলা। বৃষ্টির পর দুজনে মিলে স্বাচ্ছন্দ্যেই ব্যাটিং করছিলেন। এর মধ্যে দলকে ৮৩ রানে রেখে গিলের ওই রান আউট। সঙ্গী হারিয়ে সুদর্শনও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। চা বিরতির পর দলের রান তিন অঙ্ক পেরোতেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন সুদর্শন (৩৮)।
এরপর একপ্রান্তে নায়ার দাঁড়িয়ে গেলেও অন্য প্রান্ত আগলে থাকতে পারছিলেন না কেউ। রাভীন্দ্র জাজেদা দুই অঙ্কই ছুঁতে পারলেন না। ধ্রুব জুরেল সম্ভাবনা জাগালেও ১৯ রান করেই অ্যাটকিনসনের বলে দ্বিতীয় স্লিপে হ্যারি ব্রুকের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন।
১৫৩ রানে ৬ উইকেট হারানো ভারতকে আর বিপদে পড়তে দেননি নায়ার-সুন্দার। সপ্তম উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৫১ রানের জুটি দিনের শেষভাগে স্বস্তি এনে দিয়েছে ভারতকে।



